অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে ডিসিদের তৎপর হওয়ার নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২:৪৩ পিএম, ০৬ মে ২০২৬
ডিসি সম্মেলনের শেষ দিনের তৃতীয় অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন উদ্দিন আহমদ, ছবি: জাগো নিউজ

অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) আরও তৎপর হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন উদ্দিন আহমদ।

বুধবার (৬ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ডিসি সম্মেলনের চতুর্থ ও শেষ দিনের তৃতীয় অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি। অধিবেশনটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে অনুষ্ঠিত হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগে জনসাধারণকে লাইসেন্স করা আগ্নেয়াস্ত্র জমা দিতে বলা হলেও সেগুলোর অনেকগুলো এখনো ফেরত দেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় থেকে এরই মধ্যে চিঠি দেওয়া হয়েছে এবং দ্রুত অস্ত্রগুলো ফেরত দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। শিগগির এ সংক্রান্ত লিখিত চিঠি মন্ত্রণালয় থেকে যাবে।

তিনি বলেন, ‘সেখানে কয়টি ক্যাটাগরি আছে। যে সমস্ত লাইসেন্সগুলো ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারির আগে ইস্যু করা হয়েছিল, সেগুলো ফেরত দিবে। যে সমস্ত লাইসেন্সগুলো ২০২৪-এর ৫ আগস্টের পরে ইস্যু করা হয়েছে সেই সমস্ত লাইসেন্সের অন্তর্ভুক্ত অস্ত্রগুলো ফেরত দিতে হবে। ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত রাজনৈতিক বিবেচনায় এবং নীতিমালা বহির্ভূতভাবে যে সমস্ত লাইসেন্স ইস্যু করা হয়েছিল সেগুলো যাচাই-বাছাই করার জন্য আমরা একটা জেলা পর্যায়ে কমিটি করে দিয়েছিলাম ইতিপূর্বে। সেই কমিটির বিবেচনায় যেগুলো নীতিমালা বহির্ভূত এবং রাজনৈতিক বিবেচনায় দেওয়া হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়েছে তাদের কাছে সেগুলো বাদে বাকি লাইসেন্সের অন্তর্ভুক্ত অস্ত্রগুলো ফেরত দেবে।'

‘আর আরেকটা বিষয় আমরা বলেছি যে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় যে লাইসেন্সভুক্ত অস্ত্র জমা দেওয়ার জন্য একটা চিঠি দেওয়া হয়েছিল মাঠ পর্যায়ে, তাতে দেখা গেছে ১০ হাজারের মতো লাইসেন্সভুক্ত আগ্নেয়াস্ত্র, লাইসেন্স করা আগ্নেয়াস্ত্র জমা দেওয়া হয়নি।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই অস্ত্রগুলো উদ্ধারের জন্য এবং উদ্ধার করে সেগুলো বাজেয়াপ্ত করার জন্য, মামলা করার জন্য আমরা আবার তাদের অনুরোধ করেছি। এই বিষয়ে কি ব্যবস্থা হয়েছে আইনানুগভাবে কতটুকু আমরা অগ্রগতি অর্জন করেছি বা যেগুলো এখনো পর্যন্ত উদ্ধার করা হয়নি বাজেয়াপ্ত করা হয়নি সে বিষয়ে তাদের তৎপর হওয়ার জন্য অনুরোধ করেছি। 

তিনি বলেন, রাজনৈতিক বিবেচনায় বা হয়রানিমূলক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত যেসব ভুয়া গায়েবি মামলা দায়ের করা হয়েছিল আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সময়ে, সেই মামলাগুলোর বিষয়ে আমরা আবার একটা পত্র দিয়েছিলাম দায়িত্ব গ্রহণের পরে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় কিছু মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে। কিন্তু সেখানে কিছু কিছু মামলা, কিছু শ্রেণির মামলা অন্তর্ভুক্ত করা ছিল না তখন। যেমন হত্যা মামলা, অস্ত্র মামলা, নারী নির্যাতন, মাদক পাচার, মানব পাচার- এই সমস্ত কিছু মামলা এই আওতাভুক্ত করা ছিল না তখন।

‘আমরা পলিটিক্যাল গভর্নমেন্ট দায়িত্ব নেওয়ার পরে বিবেচনা করেছি যে আমাদের বিরুদ্ধেও অনেক অস্ত্র মামলা, হত্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। এমনকি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধেও হত্যা মামলা ছিল, আমার জানামতে অন্তত দুই-তিনটা, যাত্রাবাড়ী, কুমিল্লাসহ বিভিন্ন জায়গায়। চৌদ্দগ্রামের মামলাসহ আমার বিরুদ্ধেও একই মামলাগুলো ছিল। অস্ত্র মামলাও ছিল। আমাদের অনেক নেতাদের বিরুদ্ধে মাদক মামলা দেওয়া হয়েছিল, নারী নির্যাতনসহ যে কোনোভাবে যাতে আটক রাখা যায়, সেই মামলাগুলো দেওয়া হয়েছিল।’

আরএমএম/এমএএইচ/

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।