নারী এমপিদের শপথে দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী আরও ক্ষমতায়িত হবে: চিফ হুইপ
জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের নবনির্বাচিত সদস্যদের শপথ গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। নারী সংসদ সদস্যের শপথের মাধ্যমে দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী আরও ক্ষমতায়িত হবে বলে মন্তব্য করেছেন চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম।
রোববার (৩ মে) জাতীয় সংসদের শপথ কক্ষে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যের শপথ পাঠ করান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। শপথ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের বিস্তারিত জানান চিফ হুইপ।
তিনি বলেন, সংবিধানে নারীদের অধিকার সংরক্ষণ ও ক্ষমতায়নের লক্ষে ৫০ জন নারী সদস্যের শপথ নেওয়ার কথা থাকলেও আজ ৪৯ জন সদস্য শপথ গ্রহণ করেছেন। একজন সদস্য নির্ধারিত সময়ে কাগজপত্র জমা দিতে না পারায় আইনি প্রক্রিয়ার কারণে আজ শপথ নিতে পারেননি। তবে আদালতের রায় তার পক্ষে আসায় দ্রুতই তিনি শপথ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। নবনির্বাচিত এই নারী সংসদ সদস্যরা দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
নারীদের ক্ষমতায়নে সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরে চিফ হুইপ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নারীদের স্বাবলম্বী করতে এবং অভাব দূর করতে এরই মধ্যে ফ্যামিলি কার্ডের মতো কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। সংসদে নারীদের এই অংশগ্রহণ সেই কাজকে আরও শক্তিশালী ও বেগবান করবে।
আরও পড়ুন
শপথ নিলেন সংরক্ষিত নারী আসনের ৪৯ এমপি
যুক্তরাষ্ট্রে নিহত বৃষ্টির জানাজা বুধবার, দেশে আনার প্রক্রিয়া চলছে
সংরক্ষিত নারী এমপিদের সংসদীয় সীমানা নির্ধারণের বিষয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে তাদের কোনো নির্দিষ্ট সীমানা নেই এবং সংবিধানেও সেটি নির্ধারণ করা হয়নি। তারা মূলত জাতীয় পর্যায়ের কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করবেন এবং জাতিকে উদ্বুদ্ধ করার পাশাপাশি সংসদীয় কার্যক্রমে অবদান রাখবেন। এছাড়া ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ তদারকি এবং নারীদের ক্ষমতায়নে প্রধানমন্ত্রী যেভাবে নির্দেশনা দেবেন, সেভাবেই তারা ভবিষ্যৎ দায়িত্ব পালন করবেন।
এক প্রশ্নের জবাবে নূরুল ইসলাম বলেন, নারীরা এখনো কিছুটা পিছিয়ে থাকায় তাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে বিশেষ ব্যবস্থার প্রয়োজন পড়ছে। বিএনপি থেকে এবার ২০ জন নারীকে সরাসরি নির্বাচনে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল এবং তাদের মধ্যে কয়েকজন জয়লাভও করেছেন। তবে দুঃখজনকভাবে বিরোধীদলের পক্ষ থেকে সরাসরি নির্বাচনে কোনো নারী সদস্য মনোনয়ন না পেলেও সংরক্ষিত কোটায় তারা প্রতিনিধিত্ব করবেন।
তিনি আরও বলেন, দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী এবং এই বিশাল অংশকে সামনে নিয়ে আসা ও তাদের স্বাবলম্বী করাই প্রধানমন্ত্রীর মূল লক্ষ্য। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি সুসংগঠিত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে নারীরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করবেন।
এমওএস/কেএসআর