চট্টগ্রাম
বন্দরে হঠাৎ আগুন!, মিনিটেই ছুটে এলো ফায়ার সার্ভিস-অ্যাম্বুলেন্স
মঙ্গলবার (১২ মে) বেলা ১১টা ১০ মিনিট। চট্টগ্রাম বন্দরের ৪ নম্বর গেটসংলগ্ন ডিপিএম অপারেশন ভবনের সামনে দেখা দেয় আগুন। আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে দুই কর্মীর আর্তচিৎকার। সঙ্গে সঙ্গে ডাকা হয় ফায়ার সার্ভিস। মিনিটের মধ্যেই হাজির বন্দর অভ্যন্তরের ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ও অ্যাম্বুলেন্স।
এরমধ্যে আহত দুইজনকে উদ্ধার করে অ্যাম্বুলেন্সে সরিয়ে নেওয়া হয়। ফায়ার সার্ভিসের তৎপরতায় আগুন নির্বাপণ করা হয়। পাশাপাশি কেমিকেল ভর্তি কনটেইনারের মধ্যে সৃষ্ট আগুনও আগুন নির্বাপণকারী ফোম ব্যবহার করে আগুন নেভানোর পাশাপাশি পুরো বন্দরকে নিরাপদ করা হয়।
প্রায় ২০ মিনিটের এই দৃশ্য সবগুলোই সাজানো। বন্দর নিরাপত্তা সপ্তাহ উপলক্ষে সাজানো অগ্নি নির্বাপণ মহড়ার দৃশ্য এগুলো।
বন্দর নিরাপত্তা বিভাগ ও ফায়ার সার্ভিস সিভিল ডিফেন্স এ মহড়ায় অংশ নেয়। অগ্নিনির্বাপণে ফায়ার সার্ভিসের পানির পাশাপাশি এবিসি পাউডার, ফোম এবং কার্বন ডাই অক্সাইড ব্যবহৃত হয়। প্রথমে এসটিংগুইসার ব্যবহার করে আগুন নেভানোর চেষ্টা করা হয়।

মহড়ার বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের উপ-পরিচালক (নিরাপত্তা) লে. কমান্ডার সৈয়দ সাজ্জাদুর রহমান উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, ‘বন্দর নিরাপত্তা সপ্তাহ চলছে। বন্দর নিরাপত্তা সপ্তাহের অংশ হিসেবে এ অগ্নি নির্বাপণ মহড়ার আয়োজন করা হয়েছে। এর লক্ষ্য হচ্ছে কোনো দৈব দুর্ঘটনায় দ্রুততার সঙ্গে যাতে বন্দরকে নিরাপদ করা যায়। এ মহড়ার মাধ্যমে বন্দরের সক্ষমতা ও আন্তঃবাহিনী সমন্বয়ের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।
তিনি বলেন, আপদকালীন সময়ে কী কী সমস্যা হতে পারে, সেসব সমস্যা কীভাবে দ্রুততম সময়ে উত্তোরণ হওয়া যাবে। পাশাপাশি ধূমপান ও দাহ্য পদার্থ প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা আছে। এর মাধ্যমে অগ্নিদুর্ঘটনা অনেকাংশে রোধ করা সম্ভব। যেহেতু বন্দর দেশের অর্থনীতির প্রাণ। বন্দরের নিরাপত্তায় আমরা সবসময় সেবা দিয়ে থাকি।
ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার কালি দাস বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরে হচ্ছে আমাদের দেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র। এটিকে রক্ষা করা আমাদের সবার দায়িত্ব। আমরা সবসময় সজাগ থাকি বন্দরে যাকে কোনো অগ্নি দুর্ঘটনা না ঘটে। কোনো দুর্ঘটনা ঘটলেও আমরা ওইভাবে যাতে ব্যবস্থা নিতে পারি, সে লক্ষ্যে আগাম প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এ মহড়া করেছি।
এমডিআইএইচ/এমআইএইচএস