কাদা ছোড়াছুড়ি বা দোষারোপ করে উন্নয়ন হয় না: পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী  

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩:১৮ এএম, ১৯ মে ২০২৬
বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) সংক্রান্ত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন/ছবি: জাগো নিউজ

পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের কল্যাণ ও দেশের সার্বিক উন্নয়নে বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। প্রকৃত উন্নয়নে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করারও তাগিদ দিয়েছেন তিনি।

তিনি বলেছেন, কাদা ছোড়াছুড়ি বা একজন আরেকজনকে দোষারোপ করে উন্নয়ন হয় না, আগের দিনের হিসাব এখানে টানলে হবে না। প্রকৃত উন্নয়ন সবাইকে একসঙ্গেই করতে হবে। সরকারের বরাদ্দকৃত টাকার প্রত্যেক কাজের মধ্যে জবাবদিহিতা থাকতে হবে। সমষ্টিগতভাবে মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য সবাইকে নিয়ে উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে।

সোমবার (১৮ মে) বিকেলে ঢাকার বেইলি রোডস্থ পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্স ভবনের সভাকক্ষে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) সংক্রান্ত এপ্রিল মাসের সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।  

প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল উদ্দীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ‘আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান যদি ১০০ মাইল বেগে থাকেন আর আমরা যদি মাইনাস ১০ মাইলে থাকি, তাহলে শুধু আমারই যে ক্ষতি হবে তা না; সামগ্রিকভাবে এখানে যারা উপস্থিত আছেন, আপনাদের সবারই ক্ষতি হবে। কারণ প্রতিটা জিনিস প্রতিটা সেক্টরে খুব স্ট্রংলি মনিটরিং হচ্ছে।’

কর্মকর্তাদের স্বপ্রণোদিত হয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পের যেখানে যেখানে সুযোগ আছে, আইনসম্মতভাবে যা করা দরকার তা করে যাওয়ার পথে কেউ বাধা দিচ্ছে না। শুধু পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডই নয়; তিন পার্বত্য জেলা পরিষদেরও সমান ভূমিকা থাকতে হবে। আগে কীভাবে কি হয়েছে, তা এখনকার সরকারের সময়ে মিলালে চলবে না।

প্রতিমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, উন্নয়ন প্রকল্প কাজের মধ্যে অবশ্যই স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা থাকতে হবে এবং এর বাইরে কেউ নন।

তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, “The man has a vision and he has a plan, and He will implement the plan. Either with us or without us. That is the take home message... they will be implemented, either with us or without us.”

ব্যারিস্টার মীর হেলাল এমপি আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে শুধু কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে গার্ডার ব্রিজ, কালভার্ট আর সামাজিক সেবার নামে টনের পর টন হিসাব করে খাদ্যশস্য ও নগদ টাকা দিলেই মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন হবে না। এখন প্রয়োজন পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের প্রকৃত জীবনমান উন্নয়ন, তাদের কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত করা এবং আত্মনির্ভরশীল করে তোলার কাজে উৎসাহিত করার মতো প্রকল্প নেওয়া। পুরাতন রীতিনীতি বাদ দিয়ে মানুষের টেকসই উন্নয়ন ঘটাতে হবে।

সভায় এডিপিভুক্ত প্রকল্প কর্মসূচির সার্বিক বাস্তবায়ন অগ্রগতি আলোচনায় জানানো হয়, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের সংশোধিত এডিপিতে ৮৭২ কোটি ৪০ লাখ ৭৯ হাজার টাকা বরাদ্দ রয়েছে। যার মধ্যে জিওবি খাতে রয়েছে ৭৩৯ কোটি ৭৯ লাখ ৭৯ হাজার টাকা এবং পিএ খাতের বরাদ্দ ১৩২ কোটি ৬২ লাখ টাকা। বর্তমান অর্থবছরে এডিপিভুক্ত আটটি প্রকল্প এবং উন্নয়ন সহায়তা তিনটি অনুমোদিত রয়েছে।

সভায় জানানো হয়, এডিপিভুক্ত প্রকল্প ও উন্নয়ন সহায়তার খাতে চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত অর্থ ছাড় করা হয়েছে ৪১০ কোটি ২৪ লাখ ৯৮ হাজার টাকা, যা মোট বরাদ্দের ৪৭.০২ শতাংশ। এপ্রিল পর্যন্ত মোট ব্যয়ের অগ্রগতি ৩৪৩ কোটি ৬৮ লাখ ৮৮ হাজার টাকা, যা মোট বরাদ্দের ৩৯.৪০ শতাংশ।

সভায় একাধিক প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। সেগুলোর মধ্যে ছিল পার্বত্য চট্টগ্রামে তুলা চাষ বৃদ্ধি ও কৃষকদের দারিদ্র্য বিমোচন প্রকল্পের (১ম সংশোধিত); রাঙামাটি পার্বত্য জেলার প্রত্যন্ত এলাকায় সংযোগ সড়কসহ আরসিসি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণ; পার্বত্য চট্টগ্রামে জলবায়ু সহনশীল জীবিকা উন্নয়ন ও ওয়াটারশেড ব্যবস্থাপনা শীর্ষক প্রকল্প (CRLIWM-CHT); পার্বত্য এলাকায় টেকসই সামাজিক সেবা প্রদান (২য় পর্যায়) এবং বান্দরবান জেলার উপজেলাগুলোতে বিভিন্ন প্রযুক্তির মাধ্যমে সুপেয় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন ব্যবস্থাকরণ প্রকল্প। এ ছাড়া আগের সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতিও পর্যালোচনা করা হয়।

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় অন্যদের মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) অনুপ কুমার চাকমা, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মনিরুল ইসলাম, যুগ্ম সচিব কংকন চাকমা, যুগ্ম সচিব অতুল সরকার, বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান থানজামা লুসাই, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কৃষিবিদ কাজল তালুকদার, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান শেখ সালেহ আহমেদ, তিন পার্বত্য জেলার মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা, নির্বাহী প্রকৌশলী ও পার্বত্য চট্টগ্রাম সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কেএইচ/এমএমকে

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।