চট্টগ্রামে অর্থমন্ত্রী

খালকে ডাস্টবিন হিসেবে ব্যবহারের মানসিকতা থেকে বের হতে হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক চট্টগ্রাম
প্রকাশিত: ০৭:১৪ পিএম, ১৬ মে ২০২৬
চট্টগ্রাম মহানগরীর মির্জা খালের ওপর নির্মাণাধীন সেতুর কাজ পরিদর্শনে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী

চট্টগ্রাম নগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে চলমান প্রকল্পগুলোর কাজ এবছরই শেষ হবে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, প্রকল্পগুলোর কাজ শেষ হলে নগরে আর স্থায়ী জলাবদ্ধতা থাকবে না।

জলাবদ্ধতা নিরসনে নগরবাসীর সহযোগিতা চেয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, খালকে ডাস্টবিন হিসেবে ব্যবহার করার মানসিকতা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। জনগণের অংশগ্রহণ ছাড়া প্রকল্পের পূর্ণ সুফল পাওয়া সম্ভব নয়।

শনিবার (১৬ মে) বিকেলে নগরের শুলকবহর এলাকায় মির্জা খালের ওপর নির্মাণাধীন সেতুর কাজ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে সিটি করপোরেশন ও সিডিএ এরই মধ্যে অনেক কাজ করেছে। এর সুফল সামনে পাওয়া যাবে। প্রকল্পের কাজ সফলভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে। কোথাও সমস্যা থাকলে তা চিহ্নিত করে সমাধান করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, খালের ওপর গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা সরানো হচ্ছে, প্রতিরোধ দেয়াল নির্মাণ করা হচ্ছে এবং খালের গভীরতা ও প্রশস্ততা বাড়ানো হচ্ছে।

চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে বর্তমানে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ), চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) এবং বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড মোট চারটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এসব প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৪ হাজার ৩৮৯ কোটি টাকা। গত আট বছরে প্রকল্পগুলোর পেছনে ব্যয় হয়েছে ১০ হাজার ৪০৮ কোটি টাকা।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, প্রকল্পগুলোর অর্থায়নে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে বিদ্যুৎ, তেল ও গ্যাস খাতে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় বেড়েছে। পাশাপাশি আগের সরকারের রেখে যাওয়া দায়ও পরিশোধ করতে হচ্ছে। তারপরও চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পকে অগ্রাধিকার দিয়ে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে।

প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ প্রসঙ্গে আমির খসরু বলেন, এসব প্রকল্পে যদি কোনো লুটপাট হয়ে থাকে, তবে তার তদন্ত করা হবে। কারা জড়িত, তাদেরও খুঁজে বের করা হবে।

বর্ষা মৌসুমের কারণে বর্তমানে কিছু অসমাপ্ত কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, বর্ষা শেষে আবার পুরোদমে কাজ শুরু হবে। কাজ শেষ হলে চট্টগ্রামে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা থাকবে না। তবে অতিবৃষ্টিতে সাময়িক জলজট তৈরি হতে পারে।

চট্টগ্রামের ছোট-বড় ১৩০টি খালকে প্রকল্পের আওতায় আনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিচ্ছিন্নভাবে কাজ করলে সুফল পাওয়া যাবে না। পানিপ্রবাহ, সাগরে নিষ্কাশন, জোয়ার-ভাটা ও স্লুইসগেট ব্যবস্থাপনা বিবেচনায় নিয়েই সমন্বিত পরিকল্পনায় কাজ করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, আগে প্রকল্প বাস্তবায়নে সমন্বয়ের অভাব থাকলেও এখন তা নেই। পুরো কার্যক্রম তদারকির জন্য চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়রের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

পরিদর্শনকালে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান, চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, সিডিএ চেয়ারম্যান মো. নুরুল করিমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এমআরএএইচ/ইএ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।