তীব্র যানজটে নাকাল রাজধানী


প্রকাশিত: ০২:০৭ পিএম, ২৭ জানুয়ারি ২০১৫

মিরপুর থেকে নিয়মিত মতিঝিল অফিস করছেন নাজমা আক্তার। গত ৬ জানুয়ারি থেকে চলমান অবরোধ ও হরতালে মধ্যে কখনও তাকে এত বিড়ম্বনায় পড়তে হয়নি। আজ তিনি মিরপুর ১০ নম্বর থেকে মতিঝিল এসেছেন সাড়ে ৩ ঘন্টায়। অথচ প্রতিদিন একই রাস্তায় আসা যাওয়ায় তার সময় লাগে সর্বোচ্চ ১ ঘন্টা ১৫ মিনিট। রাস্তায় প্রচন্ড জ্যাম থাকায় যথাসময় অফিসে উপস্থিত হতে পারেননি তিনি। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এই প্রতিবেদকের কাছে এমনটাই বলছিলেন নাজমা।

নাজমার মতো অসংখ্য মানুষকে রাজধানীতে জ্যামের কারনে আজ অনেক ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। হঠাৎ করে এত জ্যামে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এদিকে ২০ দলীয় জোটের টানা অবরোধ ও হরতাল কর্মসূচির কারনে রাজধানীতে গত ৬ জানুয়ারি থেকে জ্যামে বসে থাকতে হয়নি যাত্রীদেরকে।

গাড়িতে পেট্রােল বোমা নিক্ষেপ ও হঠাৎ গাড়ি ভাংচুরের আতঙ্কে অনেকটাই কম চলাচল করেছে যানবাহন। তবে রাজধানীতে আজকের চিত্র ছিল একেবারেই ভিন্ন।

সকাল থেকে রাত ৭ টা ৪৫ মিনিটে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত রাজধানীতে জুড়ে তীব্র যানজটে লক্ষ্য করা গেছে। ফলে স্বাভাবিক জীবন যাত্রা চরমভাবে ব্যহত হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকাের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার পর বিভিন্নস্থানে নেয়ার কারনে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

সূত্র জানায়, বেলা ১১ টা ৩৭ মিনিটে কোকোর মরদেহ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে আসার পর থেকেই রাজধানীতে পরিবহনের চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। এয়ারপোর্ট এলাকা থেকে গুলশান ২ নম্বরে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এ্যাম্বুলেন্সে করে কোকোকে মরদেহ নিয়ে আসা হয়। এসময় হাজার হাজার নেতাকর্মী কোকোকে বহনকারী এ্যাম্বুলেন্স পেছনে আসায় এয়ারপোর্টের সড়কটি বন্ধ হয়ে যায়।

পরে দুপুরে গুলশান কার্যালয়ে কোকোর মরদেহ মা খালেদা জিয়াকে দেখানোর পর আবারো ধীরে ধীরে কয়েক হাজার নেতাকর্মীরা জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে নিয়ে আসে। এসময় গুলশান, মহাখালী, ফার্মগেট ও শাহবাগ এলাকা দিয়ে সব যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

পরবর্তীতে বাদ আসর নামাজে জানাজা শেষে মরদেহ বনানী কবরস্থানে নেয়ার পথে আবারো স্বাভাভিকভাবে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। ফলে রাজধানীতে তীব্র যানজট দেখা দেয়।


এমএম/এএইচ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।