পরোটা কিনতেও টোকেন!


প্রকাশিত: ০৫:১৮ এএম, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৬

সকাল সাড়ে ৮টা। গৃহবধূ সুলতানা বেগম আজিমপুর কবরস্থানের অদূরের হরিপদ ঘোষ হোটেলের সামনে নাস্তার জন্য পরোটা কিনতে আসেন। হোটেলের প্রবেশমুখে দুটো বিশাল সাইজের তাওয়াতে (কড়াই) কয়েকজন কর্মচারী ভীষণ ব্যস্ত। কেউ পরোটা বানাচ্ছেন, কেউ পরোটা বা ডিম ভাজছেন আবার কেউ পরোটা তাওয়া থেকে তুলে গ্রাহককে দিচ্ছেন।

মিনিট দশেক দাঁড়িয়ে থেকে সুলতানা বেগম যখন সামনে আসলে আনুমানিক দশ বছরের একটি শিশু তাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আফা, আপনের টোকেন কই? কত নাম্বার সিরিয়াল, কয়টা পরোটা, আর কিছু আছে?’ সুলতানা বেগম মাথা নাড়িয়ে না সূচক জবাব দিলে ছেলেটি কাউন্টার দেখিয়ে টোকেন নিয়ে আসার পরামর্শ দেন। টোকেন নিয়ে আবার লাইনে দাঁড়িয়ে পরোটা কিনেনে তিনি।

এটি নিছক গল্প নয় বাস্তব। এ দৃশ্য শুধু আজিমপুরেরই নয়, পুরান ঢাকার সব হোটেলেই পরোটাসহ সকালের নাস্তার বিভিন্ন আইটেম টোকেন নিয়ে সিরিয়ালে দাঁড়িয়ে কিনতে হচ্ছে। আজিমপুরসহ লালবাগ, শেখ সাহেব বাজার, খাজে দেওয়ান, চকবাজার, নাজিমউদ্দিন রোডসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এমন দৃশ্য দেখা গেছে। কোরবানি ঈদের পর পরোটার চাহিদা বহুগুণ বেড়ে যাওয়ায় এ ব্যবস্থা বলে জানান হোটেল মালিকরা।

Porota

গত মঙ্গলবার (১৩ সেপ্টেম্বর) পবিত্র ঈদুল আজহা অনুষ্ঠিত হয়। ফলে গরু ও ছাগলসহ বিভিন্ন গবাদি পশু কোরবানি করা হয়ছে। গরীব দুঃখী ও আত্মীয়স্বজনের মধ্যে কোরবানির মাংস বিতরণে এখন ঘরে ঘরে গৃহিনীরা মাংসের বিভিন্ন আইটেম তৈরি করছেন। অপরদিকে, ঈদের ছুটিতে বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট বা খাবার হোটেলগুলো বন্ধ রয়েছে।

খাজে দেওয়ানের বাসিন্দা মধ্যবয়সী আজমত আলী জানান, বয়স হয়েছে, গরুর মাংস খাওয়া নিষেধই করে দিয়েছেন ডাক্তার। তবুও গরম মচমচে পরোটা দিয়ে কোরবানির মাংস না খেয়ে থাকতে পারি না। তাই সকালে উঠে পরোটা কিনতে এসেছি।

তবে ঈদের সময় ভীড় হওয়ার ‘টোকেন’ বিষয়টা তারা মেনে নিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

এমইউ/আরএস/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।