জঙ্গি ‘সারোয়ার-তামিম’ গ্রুপকে অর্থ দিচ্ছে সমমনারা


প্রকাশিত: ০৯:০০ এএম, ১৭ নভেম্বর ২০১৬

জেএমবির ‘সারোয়ার-তামিম’ গ্রুপকে অর্থায়ন করছে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সমমনা ও মদদপুষ্টরা। সাম্প্রতিক কয়েক মাসে তারা জেএমবিকে ২২ লাখ টাকা দিয়েছে।

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে বৃহস্পতিবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান।

বুধবার রাতে বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে মাওলানা আব্দুল হাকিম ফরিদী ওরফে সুফিয়ান (৪০) ও রাজীবুল ইসলাম ওরফে রাজীব ওরফে আহমেদকে (২৯) আটক করে র‌্যাব-২।

পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আদাবরের মোহাম্মদিয়া ক্যাফে থেকে গাজী কামরুস সালাম সোহান ওরফে আবু আব্দুল্লাহ (২৭), মো. সোহেল রানা ওরফে খাদেম ওরফে মোয়াজ্জিন ওরফে সোহেল ওরফে শহীদুল্লাহ (২৩) ও শেখ মো. আবু সালেহ ওরফে লিটন ওরফে হুরাইয়াকে (৪২) আটক করা হয়। এ উপলক্ষে ওই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন কর্ হয়।

আটককৃতদের কাছ থেকে একটি ৯ মি.মি. পিস্তল, দুটি ম্যাগজিন, ২০ রাউন্ড গুলি, ১০টি ককটেল, ৫টি ডেটোনেটর, এক কয়েল তার, এককেজি সাদা পাউডার, ২০০ গ্রাম বারুদ, দেড় কেজি তারকাটা ও বল, দুটি সার্কিট বোর্ড এবং ১৫টি ক্লিপ টাইপ সার্কিট উদ্ধার করা হয়।

মুফতি মাহমুদ খান বলেন, গ্রেফতার গাজী কামরুস সালাম সোহান ওরফে আবু আব্দুল্লাহ পেশায় ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার। যশোরের এ যুবক ২০০৭ সালে মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজ হতে এইচএসসি পাশ করে ২০০৮-১১ শিক্ষাবর্ষে গাজীপুরস্থ ইসলামী ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি (IUT) হতে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স এ বিএসসি সম্পন্ন করে।

সে মূলতঃ আইইউটিতে পড়া অবস্থায় একই প্রতিষ্ঠানের ছাত্র ও কলেজবন্ধু সিফাতের মাধ্যমে জঙ্গিবাদে ঝুঁকে পড়ে। এই সিফাতই আত-তামকিন জঙ্গি সাইটের অ্যাডমিন ইঞ্জিনিয়ার মোস্তাফিজুর রহমান সিফাত। সে গত ৯ আগস্ট র‌্যাব-৪ এর অভিযানে ৬ সঙ্গীসহ আটক হয়। সিফাতই সোহানকে জঙ্গিবাদে অন্তর্ভূক্ত করে।

সারোয়ার জাহানের সঙ্গে সোহানের পরিচয় হওয়ার পর চট্টগ্রামে ক্ষুদ্রাস্ত্র ও বোমা তৈরীর প্রশিক্ষণ নেয়। তার মূল কাজ ছিল বিস্ফোরক তৈরি ও প্রশিক্ষণ প্রদানসহ বিভিন্ন হামলা ও নাশকতার জন্য কারিগরী সহায়তা করা।

র‌্যাব আরো জানিয়েছে সোহানের প্রধান দায়িত্ব ছিল বিভিন্ন স্থান থেকে অর্থ যোগাড় করা। দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে একই রকম মদদপুষ্ট যারা কর্মরত আছেন তাদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করত সে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ২৮ লাখ টাকা আদান-প্রদানের বিষয়ে তথ্য পাওয়া গিয়েছে। সোহান নিজেও জঙ্গিবাদে অর্থায়ন করতো।

সোহান ৮ ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ নিয়েছে তাদের নামও সে স্বীকার করেছে। শামীম নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে এক লাখ ২২ হাজার, সাইদ ২লাখ ১০ হাজার, রেজওয়ান ৫ লাখ, আমিন বেগ ৩ লাখ টাকা, সাইফ ৩ লাখ টাকা, শেলী ৪ লাখ ৬৫ হাজার টাকা, জাকির ৩ লাখ টাকা, সাইফুল্লাহর আত্মীয় পরিচয়ে আরো ৪ লাখ টাকা এবং অন্যান্য অজ্ঞাত ব্যক্তির কাছ থেকে ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা সংগ্রহ করেছে সোহান।

মুফতি মাহমুদ খান বলেন, আমরা আরো জিজ্ঞাসাবাদ করছি। জঙ্গি অর্থায়নে জড়িতদের সনাক্ত ও গ্রেফতার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।

জেইউ/এমএমজেড/আরআইপি

 

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।