২১৩ মিটার উচ্চতার টাওয়ার হবে হাতিরঝিলে
হাতিরঝিলকে আরো আকর্ষনীয় করতে নতুন উদ্যোগ নিল ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। দৃষ্টিনন্দন হাতিরঝিলকে আরও আকর্ষণীয় করতে ৬০তলা উচ্চতাবিশিষ্ট ৭০০ ফুট উচ্চতার একটি টাওয়ার তৈরির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর সম্ভাব্য নাম হতে পারে `ঢাকা টাওয়ার`। সূত্র:সমকাল।
এমনকি মুক্তি টাওয়ার, বিজয় টাওয়ার বা মুজিব টাওয়ার নামও রাখা হতে পারে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি হাতিরঝিলের পাঁচটি পয়েন্টে টাওয়ার সদৃশ ছোট ছোট আরও পাঁচটি স্থাপনা নির্মাণেরও পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
এগুলো নির্মিত হলে বিদ্যমান হাতিরঝিলের সৌন্দর্য অনেক বেড়ে যাবে। পর্যটক ও দর্শনার্থীদের কাছে আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে হাতিরঝিল।
ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বিএম এনামুল হক বলেন, দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে অবস্থিত সিউল টাওয়ার ও মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে অবস্থিত কেএল টাওয়ারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ঢাকা টাওয়ারের পরিকল্পনা করা হয়েছে। টাওয়ারটি কিভাবে ও কোথায় করলে ভালো হয়, সে দায়িত্ব বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়কে (বুয়েট) দেওয়া হয়েছে। বুয়েটের রিপোর্ট পেলেই প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।
ডিএনসিসি সূত্রে জানা গেছে, আপাতত ঢাকা টাওয়ার নির্মাণের বিষয়টি প্রথম ধাপে রাখা হবে। এটির উচ্চতা হবে ৭০০ ফুট। তলা থাকবে কম-বেশি ৬০টি। টাওয়ারের নিচতলার চারপাশে দৃষ্টিনন্দন করে সাজানো হবে। থাকবে ফোয়ারা।
টাওয়ারের শিখরের নিচের ধাপে থাকবে একটি রিভলবিং ঘূর্ণায়মান রেস্টুরেন্ট। রেস্টুরেন্টটি সারাক্ষণ ঘুরতে থাকবে। শহরের চারপাশের দৃশ্য দেখতে দেখতে দর্শনার্থীরা রেস্টুরেন্টে বসে খাবার খেতে ও আড্ডা দিতে পারবেন। সবচেয়ে উঁচুতে থাকবে একটি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র। সেখান থেকে পুরো ঢাকা শহর দেখা যাবে। এ ছাড়া অ্যাম্ফিথিয়েটার, ম্যাকডোনাল্ডস বা কেএফসির মতো আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের কিছু রেস্টুরেন্ট ও পণ্যের শোরুমও থাকবে এতে।
তলাগুলো বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে ভাড়া দেবে করপোরেশন। সেগুলো তারা অফিস হিসেবে ব্যবহার করতে পারবেন। আর টাওয়ারে উঠতে হলে আগে থেকেই টিকিট কিনতে হবে।
ডিএনসিসি সূত্রে জানা গেছে, এ ধরনের একটি টাওয়ার নির্মাণের জন্য ১৫ থেকে ২০ বিঘা জমির প্রয়োজন। এই বিপুল পরিমাণ জায়গা হাতিরঝিল সংলগ্ন এলাকায় পাওয়া কঠিন। তবে রামপুরার পশ্চিম পাশে হাতিরঝিল ঘেঁষে ১৭ বিঘা সরকারি খাসজমি রয়েছে। আপাতত ওই জায়গাতেই ঢাকা টাওয়ার নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বিএম এনামুল হক আরো বলেন, এটা হবে বাংলাদেশে বিশ্বমানের প্রথম টাওয়ার। বিশ্বের অনেক দেশেই এ ধরনের টাওয়ার আছে। সেগুলো দর্শনার্থীদের কাছে খুবই আকর্ষণীয় স্থান হিসেবে বিবেচিত। কিন্তু ঢাকা শহরে এ ধরনের কোনো টাওয়ার নেই। এ জন্যই ডিএনসিসি এ উদ্যোগ নিয়েছে।
তিনি জানান, বিমান ওঠা-নামার ক্ষেত্রে বহুতল ভবনগুলাতে অতীতে সমস্যা ছিল। বর্তমান বিমানগুলো খুবই আধুনিক। রানওয়ের ভেতরেই এগুলো ৫০০ মিটার উপরে উঠে যেতে পারে। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রামপুরার দূরত্ব ১৫-২০ কিলোমিটার। কাজেই সেখানে ৬০তলা টাওয়ার নির্মাণ করলেও সিভিল এভিয়েশনের তরফ থেকে কোনো আপত্তি থাকার কথা নয়। রামপুরা এলাকাও এয়ার ফানেলের বাইরে। কাজেই ওখানে ঢাকা টাওয়ার নির্মাণে কোনো সমস্যা হবে না বলে আমরা আশা করছি।
তিনি জানান, ৭০০ ফুট ২১৩ মিটারের সমান উচ্চতা। অন্য দেশের টাওয়ারগুলো আরও অনেক উঁচু। যেমন মালয়েশিয়ার কেএল টাওয়ারের উচ্চতা ৪২১ মিটার।
এমজেড/এমএস