আড়াই মাসে রাজধানীতেই আটক ১৬৭২ জন


প্রকাশিত: ১২:০৯ পিএম, ২১ মার্চ ২০১৫
ফাইল ছবি

নাশকতার অভিযোগে গত আড়াই মাসে দেড় হাজারেরও বেশি ব্যক্তিকে আটক করেছে আইন শৃংখলা বাহিনী। শুধু রাজধানীতেই এ পরিমাণ আটকের তথ্য পাওয়া গেছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) সূত্র জানিয়েছে, উল্লেখিত সময়ে ১ হাজার ৬৭২ ব্যক্তি আটক হয়েছেন। যাদের মধ্যে নিরীহ সাধারণ মানুষও রয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে পুলিশের দাবি, আটককৃতদের অধিকাংশই বিএনপি জামায়াতের নেতাকর্মী। এছাড়া অভিযোগ ওঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে আটক বাণিজ্যের।

গত ৫ জানুয়ারি থেকে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের ডাকা টানা অবরোধ ও দফায় দফায় হরতাল চলাকালে নাশকতার অভিযোগে তাদের আটক করা হয়। আটককৃতদের বিরুদ্ধে গাড়ী ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে একাধিক মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। বিশেষ ক্ষমতা আইনে অধিকাংশ মামলাই দায়ের করায় সহজে জামিনও পাচ্ছেন না তারা। সরকার তাদের বিরুদ্ধে প্রচলতি তিন আইনে ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে। বিচারের বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রী সভার বৈঠকে আলোচনাও হয়েছে।

জানা গেছে, জামিন না পাওয়ার কারণে পুলিশের হাতে আটক হওয়া সাধারণ মানুষ বেশি হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, গত আড়াই মাসে পুলিশ নাশকতার অভিযোগে হাতেনাতে আটক করেছে দুইশ’ জনকে। এদের মধ্যে রয়েছে বিএনপি’র ১৩৭ জন ও জামায়াতের ৫৬ নেতাকর্মী। অন্যান্য ৭ জন।

আরও জানা গেছে, নাশকতা নিবারণে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে ১ হাজার ৪৭২ জনকে আটক করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, আটককৃতদের মধ্যে বিএনপি’র ১ হাজার ১৫ জন, জামায়াত-শিবিরের ৪৩৯ জন, হিজবুত তাহরীর সদস্য ১৮ জন।

ডিএমপি’র দাবি, গত ৫ জানুয়ারির পর ১৪ মার্চ পর্যন্ত টানা অবরোধ ও হরতালে রাজধানীতে এক পুলিশ সদস্য নিহত, ৬১ জন আহত ও ৩ আনসার সদস্য আহত হয়েছে।

এসব ঘটনায় নাশকতার অভিযোগে ৪০১টি মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। এছাড়াও রয়েছে গাড়ী ভাংচুর, গাড়ীতে অগ্নিসংযোগ, পুলিশ ও আনসার সদস্যদের উপর হামলার ঘটনায় মামলা।

সরকার বিরোধী রাজনৈতিক আন্দোলনে যানবাহনে অগ্নিসংযোগ ও পেট্রলবোমা হামলাকারীদের ধরতে দ্রুত আইনে ব্যবস্থা নেয়ার অংশ হিসেবে আটক অভিযান শুরু করে পুলিশ।

একাধিক সূত্রে অভিযোগ পাওয়া গেছে, রাজধানীতে বিশেষ অভিযানের নামে পুলিশ অনেক নিরীহ মানুষকে হয়রানি ও আটক করে ব্যাপক অর্থবানিজ্য করছে। হরতাল-অবরোধে নাশকতার মামলায় গ্রেফতারের ভয় দেখিয়ে টাকা দাবি করা হচ্ছে। যারা চাহিদামতো টাকা দিতে পারছেন না তাদের বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হচ্ছে।

রাজধানীর দারুসসালাম থানার দক্ষিণ বিশিলে রাস্তায় বন্ধুর সঙ্গে আলাপকালে গত ১১ জানুয়ারি সৌদি প্রবাসী বাদল খানকে আটক করে পুলিশ। আটকের পর তার কাছে টাকা দাবি করে পুলিশ। টাকা না দিলে ইয়াবা এবং মানি লন্ডারিং মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখান। পরে পকেট থেকে মানিব্যাগ বের করে সেখানে থাকা আড়াই হাজার টাকা দিয়ে ছাড়া পান তিনি।

এছাড়া গত ৪ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টায় বনশ্রীতে দুই যুবককে আটক করে খিলগাঁও থানার পুলিশ। পুলিশের এক সোর্স পরে জানান, ২০ হাজার টাকা না দিলে তাদের পেট্রলবোমাসহ আটক দেখানো হবে। সারা রাত তাদের গাড়িতে নিয়ে টহল দিয়ে ভোরে তাদের থানায় নেয়া হয়। পরে বিশেষ হস্তক্ষেপে আটকদের ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় থানা পুলিশ।

গত ২২ জানুয়ারি আহসানুল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু নাসের ও বন্ধু নাদিমকে দুপুরে পল্টন মোড়ে পুলিশের চেকপোস্ট এলাকা থেকে আটক করে পুলিশ। মোটসাইকেলে অতিরিক্ত আরোহী নেয়ায় তাদের আটক করা হয় বলে পুলিশ দাবি করলেও পরে থানায় না নিয়ে তাদের কাছ থেকে ঘুষ দাবি করা হয়। পরে তারা ছাড়া পান।

রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় গিয়ে দেখা যায় অভিনব চিত্র। ওসির কক্ষের সঙ্গে লাগোয়া থানার হাজতখানা। এ ব্যাপারে জানতে থানায় ফোন করে হাজতখানার ছবি তোলার কথা বলতেই এক এসআই পরিচয় না দিয়ে বলেন, ছবি তুইলেন না। সেটিং চলতাছে। রাতেই ছাইড়া দিব।

আটক বাণিজ্যসহ পুলিশের অনিয়মের বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার মাসুদুর রহমান বলেন, শুধু ফৌজদারি অপরাধের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদেরই গ্রেফতার করা হচ্ছে। এর বাইরে কোনো পুলিশ সদস্য যদি ব্যক্তিগতভাবে অর্থের বিনিময়ে কাউকে ছেড়ে দেওয়া বা নির্দোষ ব্যক্তিকে আটক তবে তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জেইউ/এসএ/আরএস/আরআই

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।