তুরাগ তীরে জুমার টানে মানুষের ঢল


প্রকাশিত: ০৬:২৯ এএম, ২০ জানুয়ারি ২০১৭

শুক্রবার বাদ ফজর আম বয়ানের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে ৫২তম বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বের আনুষ্ঠানিকতা। মাঘের শীত উপেক্ষা করে সকাল থেকে মুসল্লিরা আসতে শুরু করেন টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে।

দুপুরে জুমার নামাজ থাকায় বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে মুসল্লিদের ভিড়।
 
শুক্রবার বাদ ফজর থেকে শুরু হওয়া আমবয়ানে দেশ-বিদেশের আলেমরা ইমান, আমল, আখলাক ও কালেমা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ বয়ান করেন।
 
তাবলিগের মুরুব্বিরা জানিয়েছেন, ইজতেমার মাঠে অনুষ্ঠিত হবে বৃহত্তম জুমার নামাজের জামায়াত।
 
শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে দেখা যায়, ইজেতমা ময়দানে দলে দলে প্রবেশ করছেন মুসুল্লিরা। বেলা ১১টার পর মুসুল্লিদের জমায়েত বাড়তে থাকে।
 
মাঠের একাধিক দায়িত্বশীল জানিয়েছেন, ১৭টি জেলার মুসল্লিরা ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বে অংশ নিচ্ছেন। ইতোমধ্যেই মাঠে তাবলিগি সাথীরা নিজ নিজ খিত্তায় অবস্থান নিয়েছেন। নতুন যারা আসছেন তাদের নিজ দায়িত্বে সামিয়ানা টানিয়ে থাকার ব্যবস্থা করতে হচ্ছে।
 
শুক্রবার বাদ ফজর আম বয়ান করেন দিল্লির মাওলানা শামীম। আর জুমার নামাজের ইমামতি করবেন দিল্লি মারকাজের আমির মাওলানা সাদ। জুমার পর বয়ান করবেন কাকরাইলের মাওলানা রবিউল হক। বাদ আসর পাকিস্তানের মাওলানা এহসানুল হক ও মাওলানা সাদ বয়ান করবেন বলে জানা গেছে।
 
ইতোমধ্যে দ্বিতীয় পর্বের ইজতেমায় অংশ নিতে সৌদি আরব, পাকিস্তান, ভারত, ইরাক, তুরস্ক থেকে শুরু করে এশিয়া, আফ্রিকা, ইউরোপ ও আমেরিকার প্রায় কয়েক হাজার বেশি বিদেশি মেহমানসহ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা ইজতেমা স্থলে হাজির হয়েছেন। এ পর্বের ইজতেমায় আগত মানুষের ঢল অব্যাহত থাকবে রোববার আখেরি মোনাজাতের আগ পর্যন্ত।

muslim
 
দ্বিতীয় পর্বের ইজতেমায় ১৭টি জেলার মুসল্লিরা অংশ নিচ্ছেন। ২৬ খিত্তায় এসব জেলাগুলো হচ্ছে- ১নং থেকে ৫ ও ৭নং খিত্তায় ঢাকা জেলার বাকি এলাকা, ৬নং খিত্তায় মেহেরপুর, ৮ নং খিত্তায় লালমনিরহাট, ৯ নং খিত্তায় রাজবাড়ী, ১০ নং খিত্তায় দিনাজপুর, ১১ নং খিত্তায় হবিগঞ্জ, ১২ ও ১৩ নং খিত্তায় মুন্সিগঞ্জ, ১৪ ও ১৫ নং খিত্তায় কিশোরগঞ্জ, ১৬ নং খিত্তায় কক্সবাজার, ১৭ ও ১৮ নং খিত্তায় নোয়াখালী, ১৯ নং খিত্তায় বাগেরহাট, ২০ নং খিত্তায় চাঁদপুর, ২১ ও ২২ নং খিত্তায় পাবনা, ২৩ নং খিত্তায় নওগাঁ, ২৪ নং খিত্তায় কুষ্টিয়া, ২৫ নং খিত্তায় বরগুনা এবং ২৬ নং খিত্তায় বরিশাল জেলার মুসল্লিরা অবস্থান নিয়েছেন।
 
বিশ্ব ইজতেমা উপলক্ষে এ বছরও বাংলাদেশ রেলওয়ে ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সংস্থা (বিআরটিসি) বিশেষ ট্রেন ও বাস চলাচলের ব্যবস্থা নিয়েছে।
 
২০ জানুয়ারি থেকে ২২ জানুয়ারি পর্যন্ত মুসল্লিদের জন্য বিশেষ ট্রেন পরিচালনা করবে। ২২ জানুয়ারি আখেরি মোনাজাতের পূর্ব পর্যন্ত ঢাকা অভিমুখী সকল ট্রেন টঙ্গী রেল স্টেশনে ২ মিনিট বিরতি দেবে।
 
বিআরটিসিও বিশ্ব ইজতেমা উপলক্ষে অন্য বছরে মতো এ বছরেও বিশেষ বাস সার্ভিস চালু করেছে। রাজধানীর গুলিস্থান, ফুলবাড়িয়া, কমলাপুর, মতিঝিল, ফার্মগেট, গাবতলী, মহাখালী, আজিমপুর থেকে ইজতেমাস্থল পর্যন্ত বিশেষ বাস সার্ভিস চালু থাকবে।

জেইউ/এনএফ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।