বয়ান জিকিরে মশগুল মুসল্লিরা


প্রকাশিত: ১০:৩৫ এএম, ২১ জানুয়ারি ২০১৭

‘দুনিয়ারি বাদ দিয়ে আখেরি চিন্তা করে দ্বীনের খেদমত বাড়াতে হবে। দুনিয়ার জিন্দেগি ক্ষণস্থায়ী। তাই মানুষের দিল থেকে আসবাবের (সম্পদের) এক্বিন বের করতে হবে। তবেই পয়দা হবে কুদরতি এক্বিন। দ্বীনের জন্য মেহনত বাড়াতে হবে। আমল ছাড়া দুনিয়ার জিন্দেগির কোনো মূল্য আল্লাহর কাছে নেই।’

এভাবেই এবারের ৫২তম বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বের দ্বিতীয় দিন বয়ান করছেন হজরত মাওলানা মোহাম্মদ মোরসালিন (ভারত)। বাদ জোহর তিনি বয়ান শুরু করেন।

বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বের দ্বিতীয় দিন শনিবার লাখ লাখ মুসল্লির উদ্দেশে চলছে পবিত্র কোরআন-হাদিসের আলোকে বয়ান। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে টঙ্গীর ইজতেমা ময়দান কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। সকাল থেকেই জিকির ও নফল ইবাদতে মশগুল হয়ে পড়ের বিশ্ব ইজতেমার মুসল্লিরা।

দুদিন ধরে সার্বক্ষণিক ইবাদত-বন্দেগিতে নিয়োজিত মুসল্লিরা। প্রতিদিন ফজর থেকে এশা পর্যন্ত ঈমান, আমল, আখলাক ও দ্বীনের পথে মেহনতের ওপর আম বয়ান অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তাবলিগের ছয় উসুলের (মৌলিক বিষয়ে) ওপর বাদ ফজর ভারতের হজরত মাওলানা জমশেদ আলীর বয়ানের মধ্য দিয়ে শনিবার দ্বিতীয় দিনের বয়ান শুরু হয়।

turag

আগামীকাল রোববার আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে দ্বিতীয় পর্ব। সেই সঙ্গে সমাপ্তি ঘটবে মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম জমায়েত ৫২তম বিশ্ব ইজতেমার।

হজরত মাওলানা মোহাম্মদ মোরসালিনের বয়ানে বলা হয়, দ্বীনের দাওয়াতের মাধ্যমে ইমান মজবুত হয়। ইমান মজবুত হলে আল্লাহর সঙ্গে গভীর সম্পর্ক গড়ে ওঠে। আর এ সম্পর্ক গড়ে উঠলে দুনিয়া ও আখেরাতে কামিয়াবি হাসিল হয়।

বাদ আসর হজরত মাওলানা ইউসুফ আলী (ভারত) এবং বাদ মাগরিব ভারতের হজরত মোহাম্মদ সাদ বয়ান করবেন।

ইজতেমা প্যান্ডেলের উত্তর-পশ্চিমে তাশকিলের কামরা স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া প্রতিটি খিত্তায় তাশকিলের জন্য বিশেষ স্থান রাখা হয়েছে। বিভিন্ন মেয়াদে চিল্লায় বের হতে ইচ্ছুকরা নাম তালিকাভুক্ত করে সেখানে অবস্থান করছেন। কাকরাইলের মসজিদের মুরব্বিদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদের দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হবে।

টঙ্গীর তুরাগ তীরে অনুষ্ঠিত ৫২তম বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বে অংশ নিয়েছে ৯৮টি দেশ থেকে ১ হাজার ৯২১ বিদেশি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গাজীপুর পুলিশ সুপার কার্যালয়ের বিশেষ শাখার পরিদর্শক (ডিআই-২) মো. মনিরুল ইসলাম।

turag

গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) হারুন-অর রশিদ বলেন, বিদেশি মুসল্লিদের নিরাপত্তা ও সার্বিক শৃঙ্খলার স্বার্থে আলাদা খিত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিশ্ব ইজতেমার ময়দানে আগত সব বিদেশি মেহমানের সার্বিক নিরাপত্তা ও তাদের ওপর বাড়তি নজরদারি রয়েছে বলে জানান তিনি।

নজরদারির অংশ হিসেবে ইজতেমায় আগত বিদেশি মুসল্লিদের চলাফেরায় কিছু বিধিনিষেধ রয়েছে। বরাবরের মতো এবারও তাদের জন্য আলাদা নিরাপত্তা বেষ্টনী এলাকা তৈরি করা হয়েছে।

আগামীকাল রোববার বেলা ১১টা থেকে সাড়ে ১১টার মধ্যে আখেরি মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটবে এবারের বিশ্ব ইজতেমার।

উল্লেখ্য, এবারের দ্বিতীয় পর্বের ইজতেমায় অংশ নিয়েছে ঢাকাসহ ১৭ জেলার মুসল্লি। অন্য জেলাগুলো হলো- মেহেরপুর, লালমনিরহাট, রাজবাড়ী, দিনাজপুর, হবিগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, কক্সবাজার, নোয়াখালী, বাগেরহাট, চাঁদপুর, পাবনা, নওগাঁ, কুষ্টিয়া, বরগুনা ও বরিশাল জেলার মুসল্লিরা।

১৯৬৭ সাল থেকে বিশ্ব ইজতেমা নিয়মিত অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তবে ১৯৯৬ সালে একই বছর দুবার বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। স্থান সংকুলান না হওয়ায় এবং মুসল্লিদের চাপ ও দুর্ভোগ কমাতে ২০১১ সাল থেকে দুই পর্বে ইজতেমা আয়োজন করা হচ্ছে।

জেইউ/ওআর/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।