বাচ্চাদের চকলেট উপহার দিয়েছিলেন কামারুজ্জামান
ফাঁসির মঞ্চে ওঠার আগে তার সঙ্গে দেখা করতে আসা বাচ্চাদের চকলেট উপহার দিয়েছিলেন মহান মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ফাঁসিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া জামায়াত নেতা মুহাম্মদ কামারুজ্জামান।
সূত্র জানায়, ফাঁসি কার্যকরের আগ মুহূর্ত পর্যন্ত হাসিমুখে ছিলেন মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত জামায়াত নেতা মুহাম্মদ কামারুজ্জামান। তবে ফাঁসির মঞ্চে নেয়ার আগে তিনি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছিলেন। সকাল থেকে তিনি বিচলিত ছিলেন তার পরিবারের সদস্যদের সাক্ষাতের জন্য। তবে বিকালে পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় কামারুজ্জামান হাস্যোজ্জ্বল ছিলেন।
কামারুজ্জামানের মেজ ছেলে হাসান ইমান বলেন, আমার মামার ছেলে আফিসকে বাবা খুব পছন্দ করতেন, তাই তার জন্য বাবা চকলেট সংগ্রহ করে রেখেছিলেন। বিকালে সাক্ষাতের সময় বাবা আফিস ও আমার চাচাত বোন মুনমুনের ছেলে আবদুল্লাহর হাতে চকলেট তুলে দেন। এ সময় তাদের বলেন, তোমরা অনেক বড় হও। বাবা তাদের হাত বুলিয়ে দেন। আদর করতে থাকেন। সাক্ষাতের সময় বাবা তসবিহ হাতে নিয়ে তাদের সামনে আসেন। এ সময় তিনি হাসতে থাকেন। বাবার পরনে ছিল সাদা পাজামা-পাঞ্জাবি। মাথায় ছিল টুপি। বাবা নামাজ আদায় শেষে বিকেলে আমাদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বিচলিত ছিলেন, সরকার পরিবারকে দেখা করার শেষ সুযোগ দেয় কি না।
কারা সূত্র জানায়, ফাঁসির মঞ্চে নেয়ার আগ পর্যন্ত কামারুজ্জামান দোয়া পাঠ করেন। এ সময় তিনি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। মুনমুনের ছেলের হাতে চকলেট দেয়ার সময় হাসান ইমান জিজ্ঞেস করেন, কোথায় চকলেট পেলেন বাবা?
উত্তরে কামারুজ্জামান বলেন, দুপুর থেকে পাঞ্জাবির পকেটে এ চকলেট নিয়ে আছি। ১২টার দিকে তিনি দুটি চকলেট আনতে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে ইচ্ছে ব্যক্ত করেন। সেই ইচ্ছে অনুযায়ী তারা তাকে চকলেট এনে দেন।
বিএ/এমএস