এখনো তেল ছড়ানোর ঝুঁকিতে সাউদার্ন স্টার
দুর্ঘটনা কবলিত জাহাজ ওটি সাউদার্ন স্টার-৭ এখনো তেল ছড়ানোর ঝুঁকিতে রয়েছে। সুন্দরবনে শ্যালা নদীতে ডুবে যাওয়া ট্যাংকারটি চার মাস ধরে মংলা নদীর চরে পড়ে রয়েছে। মরিচা পড়ে ফাটল ধরতে শুরু করেছে ট্যাংকারটি। চলতি দুর্যোগ-মৌসুমে যেকোনো সময় তা ফেটে যেতে পারে। এতে অবশিষ্ট ৭০ টন ফার্নেস অয়েল সুন্দরবনের নদী-খালে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এমভি সাউদার্ন স্টার-৭ গত বছরের ৯ ডিসেম্বর শ্যালা নদীতে দুর্ঘটনায় পড়ে। এটি ৩৫৭ টন ফার্নেস অয়েল বহন করছিল। এর মধ্যে প্রায় পৌনে তিনশ টন তেল শ্যালা নদীতে ছড়িয়ে পড়ে। বিপর্যয়ে পড়ে সুন্দরবনের পরিবেশ। এ ঘটনায় পরিবেশ অধিদফতর ও সুন্দরবন বিভাগ সাউদার্ন স্টার-৭-এর নামে দুটি মামলা করে।
পুলিশ দুমড়ে মুচড়ে যাওয়া ট্যাংকারটি টেনে মংলা নদীর চরে ফেলে রাখে। দীর্ঘদিন ধরে চরে আটকে থাকায় মরিচা পড়ে ফাটল ধরতে শুরু করেছে তা। ট্যাংকারটিতে এখনও প্রায় ৭০ টন ফার্নেস অয়েল রয়েছে।
মামলা জটিলতার কারণে মালিকপক্ষ তেল অপসারণ কিংবা ট্যাংকারটি মেরামত করতে পারছেন না। পুলিশও এ নিয়ে কী করবে বুঝে উঠতে পারছে না। তবে ঝড়-বাদলে এ থেকে আবারও তেল দুর্ঘটনার আশংকা করছেন পরিবেশবিদরা।
মংলা বন্দর ব্যবহারকারী ও স্থানীয় শিপিং এজেন্ট এইচএম দুলাল বলেন, শ্যালা নদীতে তেল দুর্ঘটনার কারণে মংলা বন্দর ও বন্দর সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন। আবারও যাতে এ ধরনের দুঘর্টনা না ঘটে সে জন্য তিনি ঝুঁকিপূর্ণ ট্যাংকারটি মংলা নদীর চর থেকে দ্রুত সরিয়ে নিরাপদ জায়গায় রাখার দাবি জানান।
সাউদার্ন স্টার মালিক কর্তৃপক্ষ মেসার্স হারুন অ্যান্ড কোম্পানির ম্যানেজার মো. গিয়াস উদ্দিন বলেন, ট্যাংকারটিতে এখনও ৬০-৭০ টন তেল রয়েছে। দুর্ঘটনার পর ক্ষতিগ্রস্ত ট্যাংকারটি সংস্কার কিংবা মেরামত করা সম্ভব হয়নি। প্রায় এক কোটি ৮০ লাখ টাকা মূল্যমানের সম্পদ নোনা পানি ও কাদা মাটিতে নষ্ট হচ্ছে। কিন্তু মামলা জটিলতার কারণে কোনো উদ্যোগ নিতে পারছি না।
তাছাড়া ওই ট্যাংকারের দায়িত্বে থাকা ৭-৮ জন স্টাফও মানবেতর জীবনযাপন করছে। যে কোনো শর্তে ক্ষতিগ্রস্ত ট্যাংকারটি মালিকপক্ষের জিম্মায় দেয়ার দাবি জানান তিনি।
মংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বেলায়েত হোসেন জানান, তাদের হেফাজতে রয়েছে ট্যাংকারটি। পুলিশ ও মালিকপক্ষ যৌথভাবে ট্যাংকার দেখভাল করছে। সূত্র : যুগান্তর
বিএ/এমএস