ভয়ভীতি দেখানোর কথা জানালেন প্রার্থীরা
আসন্ন ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে অংশ নেওয়া অনেক প্রার্থীকে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। এজন্য নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে নিরাপত্তা দাবি করেছেন প্রার্থীরা। এছাড়া কালোটাকা ও পেশিশক্তি মুক্ত করে নির্বাচনের সময় সবার জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টির দাবি জানিয়েছেন তারা।
সোমবার রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের প্রার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব বলেন তারা। নির্বাচন কমিশন (ইসি) আয়োজিত এ মতবিনিময় সভায় অন্য নির্বাচন কমিশনাররাও উপস্থিত ছিলেন। এসময় ২০ মেয়র প্রার্থী ছাড়াও অনেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর বক্তব্য রাখেন।
নির্বাচনী প্রচারণার ক্ষেত্রে মিডিয়াগুলো সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রার্থীরা। অধিকাংশ প্রার্থী নির্বাচনের সময় সেনাবাহিনী নিয়োগের পক্ষে মতামত দিলেও আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী সাঈদ খোকন এর বিপক্ষে কথা বলতে চাইলে ইসির কর্মকর্তা মিহির সরওয়ার মুর্শেদ তাকে থামিয়ে দিয়ে অন্য প্রসঙ্গে বলতে বলেন। ইসির কর্মকাণ্ডে অন্যারা ক্ষোভ প্রকাশ করলেও খোকন সন্তোষ প্রকাশ করেন। এসময় বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী মির্জা আব্বাসের পক্ষে বক্তব্য দেন অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম।
তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের কর্মকাণ্ড প্রশ্নবিদ্ধ। অন্যদিকে আমরা আতঙ্কিত ও শঙ্কিত। এ নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করে ইসিকে জাতির কাছে বিশ্বাস অর্জন করতে হবে। পাশের দেশ ভারতের নির্বাচন কমিশন অনেক শক্তিশালী। তারা নিরপেক্ষভাবে কাজ করে। আর ভোট কেন্দ্র যেন দখল হয়ে না যায় সে দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। নির্বাচনের সময় সেনাবাহিনী নিয়োগের দাবি জানান তিনি।
মেয়র প্রার্থী দিলীপ ভদ্র বলেন, আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা। কিন্তু এই নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার জন্য আমাকে হুমকি দেয়া হচ্ছে। এ জন্য আইন-শৃঙ্খলা রাক্ষাকারী বাহিনীর কাছে নিরাপত্তা চাই।
আরেক মেয়র প্রার্থী মশিউর রহমান বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় রক্তের বিনিময়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছি, টাকার বিনিময়ে নয়। কিন্তু এখন নির্বাচনে কালো টাকার খেলা চলছে। এছাড়া বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে শুধু হেভিওয়েট প্রার্থীদের দেখানোয় ক্ষোভ প্রকাশ করেনি তিনি।
সাঈদ খোকন বলেন, অনেকেই দাবি করেন আমি বাড়তি সুবিধা নিচ্ছি। তারা বলছেন না কোথায় কীভাবে বাড়তি সুবিধা নিচ্ছি। আমার বিরুদ্ধে ঢালাও অভিযোগ করা হচ্ছে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ না করে ঢালাও অভিযোগ করা হলেও এসব ঠিক নয়।
এর আগে আরেক মেয়র প্রার্থী সাইফুদ্দিন দাবি করেন, সাঈদ খোকন বিধি লঙ্ঘন করে পোস্টার লাগাচ্ছেন। কিন্তু আমি কেন পোস্টার লাগচ্ছি না সে জন্য আমার সমর্থকদের প্রশ্নের সম্মুখিত হতে হচ্ছে।
এইচএস/বিএ/আরআইপি