ঢাকা সিটির অধিকাংশ প্রার্থী অর্ধশিক্ষিত-ব্যবসায়ী


প্রকাশিত: ০১:২৬ পিএম, ১৩ এপ্রিল ২০১৫

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের অধিকাংশ মেয়র, ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থী অর্ধশিক্ষিত ও ব্যবসায়ী বলে  জানিয়েছে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)। মনোনয়ন বৈধ হওয়া প্রার্থীদের নির্বাচন কমিশনে জমা দেয়া হলফনামা বিশ্লেষণ করে এ তথ্য জানিয়েছে সংগঠনটি।

সোমবার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে সুজন। এতে উপস্থিত ছিলেন সুজন সম্পাদক বদরুল আলম মজুমদার, নির্বাহী সদস্য হামিদা হোসেন, কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার সরকার ও বেলার প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হোসেন।

সংবাদ সম্মেলন থেকে প্রার্থীদের মধ্যে যাদের মামলা জামিনযোগ্য ও হয়রানিমূলক তাদের জামিন দেয়ারও আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। প্রয়োজনে নির্বাচনের এক সপ্তাহ আগে থেকে সেনা মোতায়েনের পরামর্শও দিয়েছে তারা।

সুজনের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে মোট ৩৭২ জন প্রার্থীর মধ্যে ২২১ জন জন অর্থাৎ ৮৯.৪০ শতাংশ প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি বা তার নিচে। ঢাকা দক্ষিণেও ৪৮৪ জন প্রার্থীর মধ্যে ৩২৩ জন অর্থাৎ ৬৬.৭৩ শতাংশ প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি বা তার নিচে। ঢাকা উত্তরের প্রার্থীদের মধ্যে স্নাতকোত্তর ১১ দশমিক ৫৫ শতাংশ, স্নাতক ১৫ দশমিক ৮৬ শতাংশ, উচ্চমাধ্যমিক ১০ দশমিক ৫৭ শতাংশ, মাধ্যমিক ১২ দশমিক ৬৩ শতাংশ এবং মাধ্যমিকের নিচে শিক্ষাগত যোগ্যতা রয়েছে ৪৬ দশমিক ৭৭ শতাংশ প্রার্থীর। ঢাকা দক্ষিণে স্নাতকোত্তর ৯ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ, স্নাতক ১০ দশমিক ৭৪ শতাংশ, উচ্চমাধ্যমিক ১২ দশমিক ৮০ শতাংশ, মাধ্যমিক ১৩ দশমিক ৮৪ শতাংশ এবং মাধ্যমিকের নিচে শিক্ষাগত যোগ্যতা রয়েছে ৫২ দশমিক ৮৯ শতাংশ প্রার্থীর।

এছাড়া ঢাকা উত্তরের প্রার্থীদের মধ্যে ২৫৫ জনই অর্থাৎ ৬৭.২০ শতাংশ প্রার্থী ব্যবসায়ী এবং দক্ষিণে ৪৮৪ জন প্রার্থীর মধ্যে ৩৪৫ জন অর্থাৎ ৭১.২৮ শতাংশ প্রার্থী ব্যবসায়ী।

হলফনামা অনুযায়ী, ঢাকা দক্ষিণে ২০ দশমিক ৫৪ শতাংশ প্রার্থীর বিরুদ্ধে বর্তমানে মামলা রয়েছে; যার মধ্যে হত্যা মামলা রয়েছে ৪ দশমিক ৩৩ শতাংশ প্রার্থীর বিরুদ্ধে। অপরদিকে ঢাকা উত্তরের প্রার্থীদের মধ্যে ১৯ দশমিক ৬২ শতাংশ মধ্যে বর্তমানে মামলা আছে; যার মধ্যে হত্যা মামলা আছে ৩ দশমিক ৪৯ শতাংশের বিরুদ্ধে।

প্রার্থীদের তথ্য বিশ্লেষণের কারণ ব্যাখা করে বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘প্রার্থীদের জেনেশুনে ও বাজিয়ে ভোটাররা যাতে ভোট দিতে পারেন এ জন্যই এটা করা হয়েছে।’

নির্বাচন কমিশন তার প্রদত্ত ক্ষমতার প্রয়োগ করছে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের হাতে অবাধ ক্ষমতা রয়েছে। কিন্তু তারা সে ক্ষমতা প্রয়োগ করছে না।’

সংবাদ সম্মেলনে সুজন নির্বাচনকে সফল করতে সাতটি পরামর্শ প্রদান করেছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে- সব প্রার্থীর জন্য লেভিল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা, আচরণবিধি ভঙ্গের বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা ও প্রয়োজনে প্রার্থীতা বাতিল, নির্বাচনে কালো টাকা ও পেশীশক্তির ব্যবহার বন্ধ, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ রাখার জন্য প্রয়োজনে সেনা মোতায়েন করা, প্রার্থীদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার ও জামিনযোগ্য মামলার ক্ষেত্রে জামিন দেয়া, দলীয় দৃষ্টিভঙ্গী থেকে সরে আসা এবং সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে আচরণবিধি প্রণনয়ন করা।

এদিকে মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের নিয়ে ‘জনগণের মুখোমুখি’ শিরোনামে ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে সুজন। ঢাকা দক্ষিণের মেয়র প্রার্থীদের ১৬ এপ্রিল বৃহস্পতিবার ডিপ্লোমা ইন্সটিটিউশন মিলনায়তন এবং ১৭ এপ্রিল ইমানুয়েলস ব্যাঙ্কুয়েট হলে ঢাকা দক্ষিণের মেয়র প্রার্থীদের সঙ্গে ভোটাররা মতবিনিময় করবেন। সেই সঙ্গে ১৮ থেকে ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত বেশ কিছু ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থীদের নিয়েও জনগণের মুখোমুখি অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে সুজন।

একে/আরআই

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।