বিদেশির সঙ্গে বন্ধুত্ব : উপহারের নামে লক্ষাধিক টাকার প্রতারণা


প্রকাশিত: ০২:০৩ পিএম, ২৩ মার্চ ২০১৭

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাংলাদেশিদের সঙ্গে প্রথমে বন্ধু। এর পর শুরু হয় অনলাইনে কথোপকথন। কিছু দিন পর বিদেশি ‘সেই’ বন্ধুর বড় গিফট। খুশিতে আটখানা বাংলাদেশি বন্ধু। তবে বিপত্তি বাধে গিফট বক্স আনতে গিয়ে। কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স, ট্যাক্স, পরিবহন খরচ বাবদ কয়েক ধাপে বড় অঙ্কের অর্থ পরিশোধের পর স্পষ্ট হয় বিষয়টি প্রতারণা! ততক্ষণে খোয়া যায় কয়েক লাখ টাকা।

গল্প নয় সত্যি, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বন্ধুত্বের দাবি মেটাতে গিয়ে এমনই বড় ধরনের প্রতারণার শিকার হচ্ছেন অনেকে। আর আন্তর্জাতিক সাইবার প্রতারক চক্রের সহযোগিতায় ফেসবুক ও ইমেইলের মাধ্যমে প্রতারণা করে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করছে বেশ কয়েকটি চক্র।

এমনই প্রতারণার শিকার সোহরাব হোসেনের (ছদ্মনাম) করা সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে বুধবার রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানা এলাকা থেকে তিনজনকে গ্রেফতার করে র‌্যাব।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন আফজাল আহমেদ (৩৩), শরীফ আলমগীর (৪৫) ও শরীফুল আহমেদ মোহন (২৩)।

র‌্যাব-২ এর মিডিয়া অফিসার এএসপি ফিরোজ কাউছার জাগো নিউজকে বলেন, ফেসবুকসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অভিনব পন্থায় বন্ধুত্ব সৃষ্টি করে ফাঁদে ফেলে টাকা আত্মসাৎ করতে তৎপর কয়েকটি সাইবার প্রতারক চক্র। অভিনবত্ব ও আধুনিক কৌশলের  ফলে এটি বিশ্বাসযোগ্যভাবে উপস্থাপনও করা যায়।

তিনি আরও বলেন, গত ১৫ মার্চ র‌্যাব-২ এর সিপিসি-৩ ক্যাম্পে এসে অভিযোগ করেন যে, ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে ফেসবুকে স্কটিশ নাগরিক থমসন স্মিথের (Thompson Smith) সঙ্গে বন্ধুত্ব হয় সোহরাব হোসেনের। পরে হোয়াটস অ্যাপে কথাও হয়। বন্ধুত্বের সূত্র ধরেই স্মিথ স্কটল্যান্ড থেকে কিছু উপহার পাঠায়।

গত ১২ মার্চ মিনরো ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানি থেকে ফোন করে গিফট বক্স আসার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। তবে পরিবহন ব্যয় বাবদ ৪০ হাজার টাকা পরিশোধ করতে হবে বলেও জানানো হয়।

গত ১৩ মার্চ চেকের মাধ্যমে তা পরিশোধ করেন। একই দিন ওই প্রতিনিধি জানান, ট্যাক্স বাবদ আরও ৯৭ হাজার ১৯৯ টাকা জমা দিলে গিফট বক্সটি রিসিভ করতে পারবেন। পরে আবারও চেকের মাধ্যমে সে টাকাও পরিশোধ করেন তিনি। তবে সন্ধ্যায় একই মোবাইল নম্বর থেকে জানানো হয়, অ্যান্টি-টেরোরিজম এবং মানি-লন্ডারিং থেকে সার্টিফিকেট সংগ্রহের জন্য আরও ৪ লাখ ৯৫ হাজার ৭০০ টাকা দিতে হবে। এ পর্বেও গত ১৪ মার্চ ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা জমা করেন সোহরাব।

চতুর্থবার মোবাইল ফোনে বলা হয়, আপনার (সোহরাব) নামে পাঠানো গিফট বক্স স্ক্যান রিপোর্টের তথ্যে দেখা গেছে, বক্সের ভেতরে অনেক মূল্যবান সামগ্রী রয়েছে। মালামাল ক্লিয়ারেন্স বাবদ আরও ২ লাখ ৮৯ হাজার ৩৫০ টাকা দিতে হবে।

এবার সন্দেহবশত গিফট বক্সের যথাযথ অবস্থান জানতে চাইলে পরবর্তীতে জানানোর কথা বলে জানায় মিনরো ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের ওই প্রতিনিধি। পরে র‌্যাব-২ কে বিষয়টি জানান তিনি।

অভিযোগের ভিত্তিতে র‌্যাবের একটি দল সুকৌশলে এ প্রতারক চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করে।

জেইউ/আরএস/এএইচ/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।