নার্গিস ধর্ষণকাণ্ডের তদন্ত দাবি বাংলাদেশের
বাংলাদেশের খুলনা জেলার মেয়ে নার্গিস বেগমকে ভারতে একটি ট্রেনে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে এমন অভিযোগে বাংলাদেশ সরকার বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্তের জন্য ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানিয়েছে। খবর বিবিসি বাংলা।
দিল্লিতে বাংলাদেশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে এবং এ ব্যাপারে তারা ইতোমধ্যেই উদ্যোগ নিয়েছেন এবং ওই নার্গিসের পরিবারের আশঙ্কার বিষয়টি ভারতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
গত মার্চ মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে নার্গিস বেগমের দেহ ভারতের উত্তরপ্রদেশের ফিরোজাবাদ জেলায় একটি ট্রেন লাইনের পাশে পড়ে থাকতে দেখা যায় বলে ওই রাজ্যের পুলিশ জানিয়েছে।
প্রায় এক মাসেরও বেশি সময় ধরে মরদেহটি আগ্রা মেডিকেল কলেজ মর্গে রাখা ছিল, অবশেষে এ সপ্তাহেই সেটি সীমান্ত পেরিয়ে খুলনায় তার পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।
ফিরোজাবাদ জেলার পুলিশ-প্রধান পীযূষ শ্রীবাস্তব অবশ্য দাবি করেছেন নার্গিস বেগম আদৌ ধর্ষিতা হননি, বরং ময়নাতদন্ত থেকে এটাই মনে হচ্ছে যে ট্রেনে কাটা পড়েই তার মৃত্যু হয়েছে।
তবে নার্গিস বেগমের পরিবারের সদস্যরা বলছেন, মৃতদেহটির চেহারা দেখে তারা নিশ্চিত যে হত্যার আগে তার সঙ্গে চরম নির্যাতন করা হয়েছিল।
উল্লেখ্য, আজমির শরিফ জিয়ারত করতে যাওয়ার পথে ভারতের কানপুর রেল স্টেশনে নার্গিস বেগম তার মা ও মেয়ের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যান। তার জন্মান্ধ মা-ও বলেছেন, ট্রেনের ভেতর কিছু লোক জোর করে নার্গিসকে আটকে রেখেছিল।
নার্গিস বেগমের মৃতদেহটি যখন গত সোমবার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয় তখন সেটি রীতিমতো পঁচে গিয়েছিল। এ জন্য ফিরোজাবাদ জেলার পুলিশ অবশ্য দিল্লির বাংলাদেশ দূতাবাসকেই প্রকারান্তরে দায়ী করেছেন।
এদিকে উত্তরপ্রদেশের পুলিশ বিবিসিকে জানিয়েছে, এ ব্যাপারে কোনো তদন্ত হলে তাদের কোনো আপত্তি নেই। আর নার্গিস বেগমের সঙ্গে যে, কোনো ধর্ষণের ঘটনা ঘটেনি সেই মেডিকেল টেস্টের রিপোর্টও তাদের হাতেই আছে।
বিএ/আরআইপি