সেনা মোতায়েন : রাজনৈতিক চাপে পিছু হটল ইসি


প্রকাশিত: ০৩:৪৩ পিএম, ২৩ এপ্রিল ২০১৫

ঢাকার দু`টি ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের বিষয়ে রাজনৈতিক চাপের মুখে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এজন্য সশস্ত্র বিভাগকে তিন প্লাটুন সেনাবাহিনী চেয়ে চিঠি দেওয়ার একদিন পর আবার সেই চিঠি পরিবর্তন করে বুধবার আরেকটি চিঠি দেওয়া হয়। প্রথম চিঠিতে রিজার্ভ ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে সেনাবাহিনী চাওয়া হলেও পরে শুধু রিজার্ভ বাহিনী হিসেবে চাওয়া হয়।
 
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আবদুল হালিম জাগো নিউজকে জানান, আমরা আগে থেকেই এই কমিশনের কাজ নিয়ে প্রতিবাদ করে আসছি। তারা সব সময় ক্ষমতাসীন দলের পক্ষে কাজ করে। সেনাবাহিনী নিয়োগের ব্যাপারেও রাজনৈতিক চাপে পিছু হটেছে তারা। এখন সেনাবাহিনী ক্যান্টনমেন্টেই থাকবে। রিটার্নিং কর্মকর্তা ডাকলেই তাদের পাবেন। কিন্তু রিটার্নিং কর্মকর্তা ‘ডাকার প্রয়োজন মনে না করলে’ কখনই সেনাবাহিনী মাঠে নামবে না।

তবে এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মো. শাহনেওয়াজ জাগো নিউজকে বলেন, কোনো রাজনৈতিক প্রভাবে নয়, অন্যান্য বারের মত এবারও সেনাবাহিনী রিজার্ভ ফোর্স হিসেবে কাজ করবে।

তবে ইসির একটি সূত্রের দাবি, সেনাবাহিনী সব সময় স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবেই ব্যবহৃত হয়েছে। নতুবা সেনা মোতায়েনে কোনো কাজ হয় না।
 
ইসির একাধিক সূত্র জানায়, রাজনৈতিক কারণেই এই নির্বাচনে সেনা মোতায়েন নিয়ে মতবিরোধে জড়িয়ে পড়েছিল ইসি। দুইজন কমিশনার সেনাবাহিনী নিয়োগের পক্ষে অবস্থান নিলেও আর দুইজন এর বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। পরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রাকিবউদ্দীন আহমেদের কারণে সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত হয়।
 
সূত্র জানায়, সোমবার দিনভর সেনাবাহিনী নিয়োগ নিয়ে ইসিতে ফাইল চালাচালি হয়। এসময় চার নির্বাচন কশিনারের মধ্যে দুইজন সেনাবাহিনী মোতায়েনের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে ওই সংক্রান্ত ফাইলে স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানান। এই দুইজন হলেন- নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আবু হাফিজ ও বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. জাবেদ আলী। আর সিটি নির্বাচনে সেনাবাহিনী নামানোর পক্ষে ফাইলে স্বাক্ষর করেন- মোহাম্মদ আবদুল মোবারক ও মো. শাহনেওয়াজ। পরে রাজনৈতিক চাপে সেনাবাহিনীকে ক্যান্টনমেন্টেই রিজার্ভ রাখার সিদ্ধান্ত নেয় ইসি।

ইসির এক কর্মকর্তা এ প্রতিবেদককে জানান, আমাদের সেনাবাহিনীর প্রতি জনগণের আস্থা রয়েছে। তারা যাতে শান্তিতে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারে সেজন্যই সেনাবাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত হয়েছিল। কিন্তু এখন সেনাবাহিনীকে রিজার্ভ ফোর্স হিসেবেই ব্যবহার করা হবে।

এইচএস/আরএস/এসআরজে

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।