মাছ কাটেন, কিন্তু খেতে পান না মরিয়মরা
রাজধানীর রামপুরায় বাংলাদেশ টেলিভিশন সেন্টারের পেছনে মাছ বাজারের পাশে দা-বটি নিয়ে মরিয়ম, রওশনারা, সিদ্দিকসহ অন্তত ৮-১০ জন বসে আছেন। বাজারে মাছ কিনে আসা লোকজন তাদের কাছ থেকে মাছ কেটে নিয়ে যান। বিনিময়ে ওজন ভেদে পান ১০-১৫ টাকা। দৈনিক কয়েক মণ মাছ কেটে যা পান তা দিয়েই চলে মরিয়মদের ৫-৭ সদস্যের সংসার। তবে কষ্টার্জিত এ টাকায় ভাগ বসায় লাইনম্যান নামধারী এক শ্রেণির চাঁদাবাজ।
মরিয়মের সঙ্গে কথা হয় জাগো নিউজের এ প্রতিবেদকের। তিনি বলেন, ‘বাবা একদিন কত্ত মণ মাছ কাটি তার হিসাব নাই। ৫-১০ টাহা কইরা পাই। ওমুক আসে, তমুক আসে ৫০-১০০ টাহা কইরা লাইয়া যায়। হেরায় নেতা, টাহা না দিলে তো আমাগোরে কাম কইরপার দিবো না। আবার ময়লার জন্য আরও একটা গ্রুপ এসে ২০ টাকা করে নিয়া যায়।’
পরিবার ও বাসস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে মরিয়ম জানান, নন্দীপাড়া এলাকার একটি বস্তিতে থাকেন। স্বামী আইয়ুব আলী রিকশা চালান। সংসারে ২ ছেলে ও ৩ মেয়ে রয়েছে। ছেলেরা মা-বাবার খোঁজ নিতে পারে না, নিজেদের ঘর-সংসার নিয়ে ব্যস্ত। মেয়েরা এখনও ছোট, স্কুলে যায়। গত ৬ বছর ধরে তিনি এই বাজারে সন্ধ্যার পর মাছ কাটার কাজ করেছেন।
তিনি বলেন, খিলগাঁও, রমপুরা ও বনশ্রী এলাকার মধ্যে এই বাজারটি মাছের জন্য বিখ্যাত। অনেক বড় বড় লোক এসে এ বাজার থেকে মাছ কিনে কাটিয়ে নিয়ে যান। মাছ কাটার বিনিময়ে তারা ১০-১৫ টাকা করে দেন। এভাবে দৈনিক ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা আয় হয়।
মঙ্গলবার রাতে কাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে অনেকটা দুঃখ নিয়েই তিনি বলেন, ‘প্রতিদিন কত বড় বড় মাছ কাটি, অনেক দামি দামি মাছ। কিন্তু বাবা, আমরা খাইতে পারি না। মাছের গায়ে হাত দেওন যায় না, অনেক দাম। পুরাদিন কাজ কইরা আধা কেজি মাছ কেনার টাকা হয় না। মানুষ কিন্না নিয়া যায়, আমরা কাইটা দিই। মাছের ঘ্রাণ পাই, দেইখা থাকি, কিন্তু কিনতে পারি না।’
এমএসএস/এমএমজেড/আরএস/আরআইপি