নারীর শ্রমের মূল্য অর্থনৈতিক অর্জন : স্পিকার


প্রকাশিত: ১১:৩৪ এএম, ২০ মে ২০১৫

জাতীয় সংসদের স্পিকার ও সিপিএ নির্বাহী কমিটির চেয়ারপারসন ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেছেন, নারী শ্রমের মর্যাদা ও নারীর শ্রমের মূল্যকে অর্থনৈতিক অর্জন হিসেবে ধরতে হবে। নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নকে এগিয়ে নিতে সংসদ ও এমপিদেরকে একযোগে কাজ করতে হবে।

বুধবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তজার্তিক সম্মেলন কেন্দ্রে কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েশনের (সিপিএ) সেমিনারে একথা বলেন তিনি। শক্তিশালী সংসদীয় গণতন্ত্র; বিষয়ক প্রতিপাদ্য নিয়ে সিপিএর ২৬তম এ সেমিনার ১৮ মে শুরু হয়। বুধবার ছিল এ সেমিনারের তৃতীয় দিন। সেমিনারে বাংলাদেশ ছাড়াও ১৭টি দেশের ২৬টি শাখার মোট ৩৫ জন পার্লামেন্টারিয়ান ও প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করছেন।

সেমিনারের তৃতীয় দিনে পার্লামেন্ট, জেন্ডার অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস শীর্ষক নবম সেশনে জাতীয় সংসদের স্পিকার এবং সিঙ্গাপুরের এমপি লিংম ব্লোচুয়ান রিসোর্স পারসন হিসেবে অংশ নেন। স্কটল্যান্ডের মার্গারেট ম্যাককুলচ সেশনে সভাপতিত্ব করেন। সেশনে বক্তৃতাকালে শিরীন শারমিন চৌধুরী আরো বলেন, সমাজে সম-অধিকার নিশ্চিত করতে নারী অধিকার অপরিহার্য। যেকোনো উন্নয়নকে নারী উন্নয়নকেন্দ্রিক, টেকসই এবং অন্তর্ভূক্তিমূলক করার জন্য জেন্ডার সমতা অপরিহার্য।

তিনি বলেন, আগামী দিনে টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে নারী ক্ষমতায়ন প্রয়োজন। নারী উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন। তার জন্য প্রয়োজন নারী শিক্ষা, আয়-বর্ধক কর্মপ্রশিক্ষণ এবং নারীর কর্মসংস্থান।
 
তিনি আরো বলেন, সংসদ অন্তর্ভূক্তিমূলক- এক্ষেত্রে জেন্ডার একটি কেন্দ্রীয় এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নারীকে বাদ রেখে কোনো সমাজের, কোনো দেশের উন্নয়নকে নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। কৃষিতে নারীরা বিশাল অবদান রাখছেন। কিন্তু তাদের অবদান অর্থনৈতিক হিসেবে ধরা হচ্ছে না। নারী শ্রমকে সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতিমালা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

তিনি বলেন, নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে নারী নেতৃত্ব সৃষ্টিতে যে সকল বাধা আছে সেগুলো দূর করতে হবে। নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে রাজনৈতিক দলগুলির দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন করতে হবে। নারীর রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি করতে সকল সংসদ সদস্যদের একযোগে কাজ করতে হবে।

এর আগে সংসদীয় এবং এইচআইভি/এইডস শীর্ষক অষ্টম সেশনে দক্ষিণ আফ্রিকার সংসদ সদস্য লিন্ডডিও মাসেকো সভাপতিত্ব করেন। কেনিয়ার সিনেটর মোজেস ওয়েটাংগুলা উক্ত সেশনে রিসোর্স পারসন হিসেবে অংশ নেন। সেশনে এইচআইভি/এইডসকে একটি স্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।

এ সমস্যা সমাধানে ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলা, শিক্ষা ও সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদার করার ক্ষেত্রে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে সংসদ সদস্যদেরকে যথাযথ ভূমিকা পালনের উপর গুরুত্বারোপ করা হয়।  

এইচএস/বিএ/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।