প্রধানমন্ত্রীর বিচক্ষন্নতার কারণেই স্থলসীমান্ত চুক্তিতে সফলতা
জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত ড. একে মোমেন বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বড় গুণ হচ্ছে আলোচনা অথবা সমঝোতার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা। তার এমন বিচক্ষণ নেতৃত্বই বাংলাদেশকে অনেক উপহার এনে দিয়েছে।
বুধবার সন্ধ্যায় সিলেট নগরের দরগাহ গেইটস্থ কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের শহীদ সুলেমান হলে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ঐতিহাসিক স্থলসীমান্ত চুক্তি ভারতের পার্লামেন্টে গৃহীত হওয়ায় সিলেট মহানগর যুবলীগ এ সভার আয়োজন করে।
ড. মোমেন বলেন, শেখ হাসিনার সরকারের সময়ে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক আদালতে সমুদ্রসীমা সংক্রান্ত বিষয়ে বিজয় ছিনিয়ে এনেছে, ভারতের সঙ্গে স্থলসীমান্ত চুক্তি সেদেশের পার্লামেন্টে সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়েছে। এই অর্জনের জন্য কোনো ধরনের যুদ্ধের প্রয়োজন হয়নি।
এ ক্ষেত্রে তিনি স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাষ্ট্রপরিচালনা ও শেখ হাসিনার সময়ে সম্পাদিত গঙ্গা-পানি চুক্তি, পাবর্ত্য শান্তিচুক্তিসহ আরো বেশ কিছু অর্জনের উদাহরণ তুলে ধরেন।
ড. মোমেন আরো বলেন, জাতিসংঘে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি অনেক ভালো। সদস্যভুক্ত দেশগুলো বাংলাদেশকে উন্নয়নের মডেল হিসেবে অনুস্মরণ করে। জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন বাংলাদেশকে একটি সম্ভাবনার দেশ হিসেবে আন্তর্জাতিক মহলের কাছ তুলে ধরেন। শেখ হাসিনার সুদক্ষ ও বিচক্ষণ নেতৃত্বের কারণে এটা সম্ভব হয়েছে।
অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে মন্তব্য করে রাষ্ট্রদূত মোমেন বলেন, তবুও অনেক সমস্যা এবং চ্যালেঞ্জ আমাদের রয়েছে। বেকারত্বসহ বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে যুব সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে। এজন্য নিজেদের সুশিক্ষিত ও সোনার মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, বাঙালিরা যা চায় তা পারে। এমন বাংলাদেশ গড়তে হবে যা বিশ্বে উদাহরণ সৃষ্টি করবে। আমরা আগামী দিনে একটি উন্নত দেশ, উন্নত বিশ্ব গড়তে চাই। এ জন্য সকলকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান তিনি।
বাংলাদেশ প্রসঙ্গে ইন্টারনেটসহ বিভিন্ন মাধ্যমে অপপ্রচার প্রসঙ্গে জাতিসংঘে বাংলাদেশের এ প্রতিনিধি বলেন, মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য উপস্থাপন করে আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে অনেকে। তবে জাতিসংঘে এসব তথ্য মিথ্যে প্রমাণিত হওয়ায় এখন কাজ করতে কোনো অসুবিধা হয় না। বাংলাদেশ সুনাম ও মর্যাদা অক্ষুন্ন রাখতে এবং অর্জনগুলোকে চারদিকে ছড়িয়ে দিতে যুবসমাজকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা, বিদ্যুতের ঘাটতি মেটানো, ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে সফলতা সর্বোপরি দেশের উন্নয়নে আওয়ামী লীগের অর্জনের ক্ষেত্রে বিএনপি হার মানবে বলে জানান তিনি।
এছাড়া সিলেটের উন্নয়নের বিভিন্ন উদাহরণ তুলে ধরে ড. আহমদ আল কবির বলেন, আমরা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে চাই। বিদেশি সাহায্যের ওপর ভিত্তি করে দেশ উন্নতি সাধন করতে পারবে না। এক্ষেত্রে যুবসমাজকে কর্মবান্ধব শিক্ষার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।
মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক আলম খান মুক্তির সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও রূপালী ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান ড. আহমদ আল কবির প্রমুখ।
এর আগে ড. মোমেন শহরতলীর হযরত শাহপরান (র.) এলাকায় ৩০ শয্যা বিশিষ্ট নবনির্মিত হাসপাতাল, খাদিমপাড়া ইউনিয়ন কার্যালয় পরিদর্শন শেষে চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়, নগরের বালুচরস্থ রিসার্চ ট্রেনিং অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট (আরটিএম) ইন্টারন্যাশনাল ভবন পরিদর্শন শেষে চার বছর মেয়াদি আরটিএম ম্যাটস কোর্সের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন।
ছামির মাহমুদ/এআরএ/বিএ/আরআইপি