২০২১ সালের মধ্যে দেশের সবাই বিদ্যুৎ পাবে


প্রকাশিত: ০৩:০৩ পিএম, ২২ মে ২০১৫

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, মানুষের দাবি এখন খুব বেশি নেই। শুধু দাবি থাকে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের। দেশের মোট জনসংখ্যার ৬৭ ভাগ মানুষ বিদ্যুতায়নের আওতায় এসেছে। ২০২১ সালের মধ্যে দেশের সকল মানুষের ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া হবে। শুক্রবার বিকেলে সিলেট শহরতলীর খাদিমপাড়া ইউনিয়নের ধলইপাড়ায় স্যোশাল ডেভেলপম্যান্ট ফাউন্ডেশন (এসডিএফ) এর উদ্যোগে গ্রাম সমিতির নবনির্মিত চারটি অফিস ভবনের উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, গ্যাস মূল্যবান সম্পদ। এটা দিয়ে কলকারখানা পরিচালিত হয়। নতুন করে এখন আর কেউ গ্যাস সংযোগ পাবে না। এই মুহূর্তে দেশে বিদ্যুতের কোনো সংকট নেই। চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ আছে। নতুন চাহিদা মেটাতে আরো বিদ্যুতের উৎপাদন বাড়াতে হবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে খাদ্যে দেশ স্বয়ংসম্পূর্ণ। দারিদ্রতা বিমোচন এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য। ইতিমধ্যে দারিদ্র বিমোচন ও শিক্ষার উন্নয়নে সরকার নানামুখি উদ্যোগ নিয়ে কার্যক্রম চালাচ্ছে। বিভিন্ন উপায়ে দারিদ্র বিমোচনের চেষ্টা চলছে। তার মধ্যে এসডিএফ একটি সফল প্রকল্প। এটা গ্রাম পর্যায়ে সফলতা লাভ করেছে। দেশে এসডিএফ এর কার্যক্রম আরো ছয় বছর চলবে।

আবুল মাল মুহিত আরো বলেন, দারিদ্রতা দেশে এক সময় প্রধান সমস্যা ছিল। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে দারিদ্রতার হার ছিল ৭০ ভাগ। বর্তমানে এর হার ২৪ ভাগে নেমে এসেছে। স্বাধীনতা পরবর্তী ৪০ বছরে সবাইকে দারিদ্র সীমার নিচে নিয়ে যেতে না পারায় মন্ত্রী দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, তবুও যুদ্ধ বিধ্বস্ত গরীব দেশ হিসেবে এ পর্যন্ত যা হয়েছে তা খারাপ হয়নি। এখন দেশে ভিক্ষুক নেই এটা আমাদের গর্বের বিষয়। আর ভিক্ষুক পুর্নবাসনের জন্য সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তবে যারা এখন ভিক্ষা করছে এটা তারা ইচ্ছা পূর্বকভাবে পেশা হিসেবে গ্রহণ করছে। এদের এই অভ্যাস কেউ পরিবর্তন করতে পারবে না।

সরকার দেশের মানুষের জন্য বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে উল্লেখ করে আবুল মাল মুহিত বলেন, মানুষ না খেয়ে এখন মরে না। সবাই এখন বিশুদ্ধ পানি খেতে পায়। খাবার পানি এবং স্যানিটেশন এক সময় বাংলাদেশে বিরাট সমস্যা ছিল। বর্তমানে সেটি নেই। গ্রামেগঞ্জে সব জায়গায় মানুষ বিশুদ্ধ পানি পাচ্ছে, স্যানিটেশনের সমস্যা নেই। সব মিলিয়ে দেশের মানুষ এখন সুখে আছে।

সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন এসডিএফ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এজেডএম সাখাওয়াত হোসেন। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন এসডিএফ এর পরিচালক সৈয়দ এফতার হোসেন পিয়ার, দলইপাড়া গ্রাম সমিতির সদস্য পুষ্পরাণী পাত্র প্রমুখ।

এর আগে বিকেলে মন্ত্রী শহরতলীর ইসলামপুর (মেজরটিলা) বাজারে জালালাবাদ অন্ধ কল্যাণ সমিতির নতুন ভবনের উদ্বোধন করেন।

ছামির মাহমুদ/এআরএ/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।