মায়ের চিকিৎসার কথা বলে ৬৫ দিন অনুপস্থিত, পাসপোর্ট কর্মচারীর বেতন অবনমন
দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা, কর্তৃপক্ষকে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রদান এবং দাপ্তরিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিস, খুলনার এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর।
অভিযুক্ত কর্মকর্তা মো. রুবেল ইসলাম। তিনি খুলনা বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিসে সাঁট-লিপিকার কাম-কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে কর্মরত।
সম্প্রতি পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. নূরুল আনোয়ার স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ শাস্তির কথা জানানো হয়।
অফিস আদেশে বলা হয়, রুবেল ইসলাম তার মায়ের অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে বিভিন্ন সময়ে নৈমিত্তিক ও অর্জিত ছুটির আবেদন করতেন। অনেক ক্ষেত্রে অনুমতি ছাড়াই কর্মস্থল ত্যাগ করতেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিয়মিত অফিসে দেরিতে উপস্থিত হতেন এবং ছুটি অনুমোদনের আগেই অফিস ত্যাগ করতেন।
তদন্তে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৩ নভেম্বর থেকে ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত দুই দিনের ছুটির আবেদন করার পর তিনি কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই টানা ৬৫ দিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। এ সময়ে অনুপস্থিতির জন্য যথাযথ কোনো ছুটির আবেদনও করেননি।
এছাড়া যোগদানের পর থেকে তিনি ১৯৯ কর্মদিবসের মধ্যে প্রায় ১০০ দিন ছুটিতে ছিলেন কিংবা বিনা অনুমতিতে অফিসে অনুপস্থিত ছিলেন বলে তদন্তে উঠে আসে।
অফিস কর্তৃপক্ষের দাবি, মায়ের চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দিয়েছেন। কখনো ঢাকায় চিকিৎসার কথা, আবার কখনো রংপুর ও ঠাকুরগাঁওয়ে অবস্থানের কথা উল্লেখ করেন। তবে তার দেওয়া চিকিৎসা-সংক্রান্ত কাগজপত্র যাচাই করে অধিকাংশই পুরোনো পাওয়া যায় এবং অভিযোগের সময়সীমার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ পর্যাপ্ত প্রমাণ মেলেনি।
এ ঘটনায় সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়। পরবর্তীতে লিখিত জবাব ও ব্যক্তিগত শুনানি গ্রহণ শেষে তাকে ‘অসদাচরণের’ অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।
শাস্তি হিসেবে একই বিধিমালার ৪(২)(ঘ) ধারা অনুযায়ী তাকে তিন বছরের জন্য বেতন গ্রেডের নিম্নতর ধাপে অবনমিত করা হয়েছে। বর্তমানে তার মূল বেতন ১৪ হাজার ৫০ টাকা থেকে কমিয়ে ১১ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিন বছর পর তিনি পূর্বের মূল বেতনে ফিরে যেতে পারবেন। তবে এ সময়ের কোনো বকেয়া সুবিধা পাবেন না।
টিটি/এসএইচএস