ছাত্রলীগের সবাই নেতা হতে চায় : ওবায়দুল কাদের


প্রকাশিত: ০৯:০৯ এএম, ২৩ মে ২০১৫
ফাইল ছবি

ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে করে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর জীবন-আদর্শ থেকে শিক্ষা লাভ করতে হবে তোমাদের। যদি ছাত্রলীগ বঙ্গবন্ধুর জীবনী পড়ত তাহলে আজ এ অবস্থা হোত না। এখন স্টেজে সবাই মুখ দেখাতে চায়, সবাই নেতা হতে চায়। নেতার ভারে স্টেজ আজ কাঁপছে। সামনে কোনো কর্মী নেই। তোমাদের কর্মী হতে হবে। শনিবার সকালে বাগেরহাট খানজাহান আলী ডি কলেজ মাঠে জেলা ছাত্রলীগের বার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।

সেতুমন্ত্রী বলেন, সামনে থেকে তৃণমূল কর্মীদের নেতৃত্ব দিতে হবে। তাহলেই প্রকৃত নেতা হওয়া যাবে। বঙ্গবন্ধুর জীবনী সেলফে তুলে রাখলে হবে না, তা পড়তে হবে। শেখ হাসিনার জীবন আর্দশ থেকে তোমাদের শিক্ষা নিতে হবে। আর বঙ্গবন্ধুর পরিবারে অশিক্ষিত লুটেরা নেই। এ সময় তিনি বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্য করে বলেন, হাওয়া ভবনের লোকজন দেশের সম্পদ খাওয়া ছাড়া কিছুই করে নাই।

তিনি আরো বলেন, বিএনপি সরকারের সময় মংলা বন্দরকে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। শেখ হাসিানার সরকার ক্ষমতায় আসার পর মংলা বন্ধর পুনরায় চালু করা হয়েছে। বিদেশ থেকে আমদানিকৃত পণ্যের ৪৫ ভাগ এখন মংলা বন্দর দিয়ে খালাস করা হচ্ছে ফলে গতিশীল হচ্ছে মংলা বন্দর।

পদ্ম সেতু প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, অনেকেই বলেছিল দেশের টাকায় পদ্মা সেতু নির্মাণ সম্ভব না। কিন্তু শেখ হাসিনার সরকার দেশের টাকায় পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু করেছে। অচিরেই পদ্মা সেতুর সুফল এ অঞ্চলের মানুষ ভোগ করবে। ঢাকায় যেতে আসতে সময় লাগবে মাত্র তিন থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টা।

ছাত্রলীগের বার্ষিক সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ সভাপতি এইচএম বদিউজ্জামান সোহাগ। জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সরদার নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন করেন, বাগেরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য শেখ হেলাল উদ্দিন, জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মীর জায়েসী আশরাফী জেমস প্রমুখ।

সকালে মংলা-খুলনা-দৌলতদিয়া জাতীয় মহাসড়কের বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলার শ্যামবাগাতে ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এক্সেল লোড নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র উদ্বোধন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বঙ্গবন্ধুর ভাতিজা শেখ হেলাল উদ্দিন।

উদ্বোধন শেষে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী বলেন, ১৫ জুন ভুটানের রাজধানী থিম্পুতে বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও ভুটানে মধ্যে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু করতে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। এই চার দেশের সড়ক পরিবহন মন্ত্রীদের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির ফলে যোগাযোগের ক্ষেত্রে এক মাইল ফলক রচিত হবে। এসব দেশের যাত্রী ও পণ্যবাহী যান দেশগুলোর মধ্যে চলাচল করতে পারবে।

এ সময় মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট মীর শওকাত আলী বাদশা, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ডা. মোজাম্মেল হোসেন, সড়ক বিভাগের খুলনা জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী কাজী মোহাম্মদ আলীসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

শওকত আলী বাবু/এসএস/এআরএ/আরআইপি/আরআই

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।