বেহাল কোস্টগার্ড : বাড়ছে মানবপাচার
সমুদ্রপথে অপরাধ দমনের একমাত্র বাহিনী কোস্টগার্ডের পর্যাপ্ত জনবল ও অবকাঠামোগত সুবিধা না থাকায় মানবপাচার বাড়ছে। সম্প্রতি সাগরে ভাসমান অভিবাসী উদ্ধার হওয়ার ঘটনায় বিশ্বব্যাপি সমালোচনার ঝড় উঠার পর বাংলাদেশের কোস্টগার্ডের সক্ষমতা নিয়ে এক অনুসন্ধানে এ তথ্য জানা গেছে।
জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৩ সালের জুলাই থেকে ২০১৪ সালের জুন পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে ৫৩ হাজার লোক মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে পাচার হয়েছে। তবে পাচারের জন্য জড়ো করা অনেককে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আটক করতে সমর্থ হলেও পাচারের পরিসংখ্যান ঊর্ধ্বগতির অন্যতম কারণ কোস্টগার্ডের দুর্বলতা।
জানা গেছে, ‘সমুদ্রের অভিভাবক’ স্লোগান নিয়ে উপকূলের নিরাপত্তা প্রদান ও অপরাধ দমনের লক্ষ্যে ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ কোস্টগার্ড। প্রতিষ্ঠার দুই দশক পেরিয়ে গেলেও একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ ও আধুনিক হয়ে উঠতে পারেনি এ বাহিনীটি। এই দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ চক্রগুলো উপকূল এলাকা ব্যবহার করে ভয়াবহ অপরাধে জড়িয়ে পড়েছে।
কোস্টগার্ডের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, সমুদ্র তীরবর্তী ৭১০ কিলোমিটার ও উপকূলসংলগ্ন প্রায় ৩৪ হাজার বর্গকিলোমিটার টহলের জন্য নিয়োজিত জনবল মাত্র ১ হাজর চারশ জন।
শুধু জনবলই নয়, সমুদ্রের অপরাধ দমনের জন্য গঠিত বাহিনীটির দাবি সমুদ্রে গমনের জন্য প্রয়োজনীয় জাহাজ ও বোটও নেই তাদের।
প্রতিদিন সমুদ্রে হাজার হাজার ট্রলার মাছ ধরার কাজ করে। মানবপাচারের সঙ্গে এই ট্রলারগুলোই জড়িত থাকে। তবে হাজার হাজার ট্রলারে অভিযানের জন্য কোস্টগার্ডের রয়েছে মাত্র ১৩টি জাহাজ। এর মধ্যে আবার অধিকাংশই পুরাতন, ছোট ও ধীরগতির কারণে সমুদ্রে গমনে অনুপযোগী।
সুন্দরবনের নদ-নদীসহ জলভাগের ১ হাজার ৭০০ বর্গকিলোমিটার টহলের জন্য কোস্টগার্ডের রয়েছে ছোট-বড় ১০০টি বোট। যা প্রয়োজনের প্রায় এক-চতুর্থাংশ বলে দাবি কোস্টগার্ড কর্তৃপক্ষের। উপকূল এলাকায় কোস্টগার্ডের ৩০টি স্টেশন থাকার কথা থাকলেও রয়েছে মাত্র চারটি।
বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের উপ-পরিচালক (ইন্টেলিজেন্স) কমান্ডার এ কে এম মারুফ হাসান বলেন, আমাদের জনবল কম। তাই ধরে ধরে সব স্পিড বোট তল্লাশি চালানো সম্ভব নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে মানবপাচারের ঘটনায় কক্সবাজার, টেকনাফ ও চট্টগ্রামে টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে।’
কোস্টগার্ডকে আধুনিকায়ন এবং গতিশীল বাহিনী গড়ে তোলার বিষয়ে মারুফ হাসান জানান, কোস্টগার্ডকে আধুনিক করা হচ্ছে। তবে এই কাজটি হবে ধাপে ধাপে। কারণ বিগত সরকারগুলো আধুনিকায়নের কাজটি শুরুই করেনি। বর্তমান সরকার কোস্টগার্ডের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে জনবল, জলযান এবং অবকাঠামো উন্নয়ন শুরু করেছে।
শীঘ্রই ইতালি থেকে ৪টি বড় নৌযান আনা হবে। জনবল ১৪০০ থেকে ২২০০ করা হবে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।
কোস্টগার্ডের সক্ষমতা বাড়াতে সম্প্রতি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) ‘এনহ্যান্সমেন্ট অব অপারেশন ক্যাপাবিলিটি অব বাংলাদেশ কোস্টগার্ড’ নামে ৪৬৮ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদনও দেওয়া হয়েছে।
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কোস্টগার্ডের এক কর্মকর্তা জাগো নিউজকে বলেন, সম্প্রতি মানবপাচার বৃদ্ধির ‘আইওয়াশ’ হিসেবে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ৪৬৮ কোটি টাকায় একটি উন্নতমানের জাহাজ কেনাও সম্ভব হবে কি না এনিয়ে সন্দেহ রয়েছে।’
এআর/এআরএস/এএইচ/আরআইপি