মাগুরা উপ-নির্বাচন : ভোটকেন্দ্রে সাংবাদিক প্রবেশে কড়াকড়ি


প্রকাশিত: ০১:৫৪ পিএম, ২৮ মে ২০১৫

সদ্য সমাপ্ত তিন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে কোনো কোনো কেন্দ্রে সাংবাদিকরা পুলিশি বাধার মুখে পড়লেও এবার নির্বাচন কমিশন (ইসি) নিজেই লিখিত নিষেধজ্ঞা জারি করেছে।

বুধবার এক নির্দেশনার মাধ্যমে মাগুরা-১ আসনের উপ-নির্বচনে ভোটকেন্দ্রে সাংবাদিক প্রবেশ ও কথা বলার উপর এই নিষেধাজ্ঞা জারি করলো কমিশন।

সূত্র জানায়, ইসির জনসংযোগ শাখার সহকারী পরিচালক আরাফাত আরা স্বাক্ষরিত চিঠিতে ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনে সাংবাদিকদের ৯টি নির্দেশনা মেনে চলতে বলা হয়েছে। এছাড়াও এ নির্বাচনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে রিটার্নিং অফিসারের অনুমতি ছাড়া প্রিজাইডিং অফিসারকে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে নিষেধ করা হয়েছে। এ নিয়ে বৃহস্পতিবার বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের চরম ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে। এ ঘটনায় সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম সাখাওয়াত হোসেন ও মুহাম্মদ ছহুল হোসেনও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।

রিটার্নিং অফিসারের কাছে ৯টি শর্ত দিয়ে পাঠানো নির্দেশনায় বলা হয়েছে, প্রিজাইডিং অফিসারের অনুমতি ছাড়া কোনো ভোটকক্ষে প্রবেশ করা যাবে না; এক সঙ্গে ৫ জনের বেশি সাংবাদিক প্রবেশ করতে পারবে না; ১০ মিনিটের বেশি কেন্দ্রে অবস্থান করতে পারবে না; ভোটকক্ষে নির্বাচনী কর্মকর্তাসহ কারো সঙ্গে আলাপ করতে পারবে না; সাংবাদিকগণ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাজে হস্তক্ষেপ করতে পারবে না; কোনো প্রকার নির্বাচনী উপকরণ স্পর্শ বা অপসারণ করা থেকে বিরত থাকতে হবে;  প্রার্থী বা রাজনৈতিক দলের পক্ষে বা বিপক্ষে কোনো ধরনের কর্মকাণ্ড হতে বিরত থাকতে হবে; সংবিধান, নির্বাচনী আইন ও বিধিবিধান মেনে চলতে হবে এবং সাংবাদিককে পরিচয়পত্রের উল্টো পিঠের সকল নির্দেশনা মেনে চলতে হবে।

এ নির্দেশনা জারির পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা পত্রে বলা হয়েছে, রিটার্নিং অফিসারের অনুমতি ছাড়া ভোটকেন্দ্রে কোনো প্রিজাইডিং অফিসার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে পারবেন না। তার অর্থ দাঁড়ায় যে নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশে সাংবাদিকদের আর বৈধ অধিকার থাকলো না।  

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক নির্বাচন কমিশনার মুহাম্মদ ছহুল হোসাইন জানান, সাধারণত সাংবাদিকরা ভোটের কাজে কখনো বিঘ্ন ঘটানোর চেষ্টা করে না। সরাসরি প্রোগ্রামের প্রতিযোগিতায় এখন অনেক সাংবাদিক হয়ত কেন্দ্রে একসঙ্গে থাকছে, কিন্তু ভোটকক্ষে তো একসঙ্গে এতো লোক যায় না।

তিনি বলেন, ভোট কক্ষে শৃঙ্খলা রাখতে সাংবাদিকদের বিষয়ে কড়াকড়ি করলে মনে রাখতে হবে এ নিয়ে জনগণের মধ্যে অনাস্থা তৈরি হতে পারে। ইসির হঠাৎ নির্দেশনা দিয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে ভুল বুঝাবুঝি হতে পারে।

ভোটকেন্দ্রে প্রবেশে কড়কড়ির বিষয়ে বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনার মো. শাহ নেওয়াজ বলেন, সাংবাদিকদের সুবিধার্থেই একটি গাইড লাইন তৈরি করা হয়েছে। এটা কোনো নীতিমালা বা নির্দেশনা নয়। বিগত সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের মতো পুলিশ যাতে সাংবাদিকদের সমস্যা না করে সেই জন্য মাগুরা উপ-নির্বচনে আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

ভোটকেন্দ্রে সাংবাদিকদের ছোট ছোট গ্রুপে ভাগ করে ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করানোর মতামত দেন মুহাম্মদ ছহুল হোসাইন।

এইচএস/একে/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।