নিজ উদ্যোগে গফরগাঁওয়ের তরুণরা বন্যার্তদের পাশে
নিজ উদ্যোগে জামালপুর জেলার বানভাসি মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও উপজেলার গয়েশপুরের তরুণরা। নিজেরা কষ্ট করে মানুষের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে জামালপুরে ত্রাণ নিয়ে ছুটে গেছেন বেশ কয়েকজন উদ্যমী তরুণ। তাদের উদ্যোগে জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার সিরিঘাট, রুকনাই, সিতানি গ্রামে ৩০৭টি পরিবারে ত্রাণ বিতরণ করা হয়।

‘বন্যাদুর্গতদের পাশে আমরা’ এই ব্যানারে ‘দুর্দিন থেকে সুদিনে মানুষ পৌঁছে দেবে মানুষকে’ স্লোগান নিয়ে বানভাসি মানুষের জন্য অর্থ তহবিলের কাজটি করেন মো. আরিফুল ইসলাম, শাহরিয়ার মাহমুদ তানিম, সাব্বির আহমেদ, শিপন সরকার, এ কে এম বজলুর রশিদ, মোজাম্মেল হক, মিনহাজ আহমেদ, জাকিরুল হক, নাজমুস সাকিব, আকরামুল, আশরাফ ও হিমেলসহ আরও বেশ কয়েকজন।

জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে একটি ইভেন্ট করে বানভাসি মানুষের জন্য অর্থ সংগ্রহ করেন তারা। এরপর সেই অর্থ দিয়ে ত্রাণসামগ্রী কিনে ঈদের পরদিন জামালপুরের বিভিন্ন অঞ্চলে গিয়ে পৌঁছে দেন বানভাসি মানুষদের কাছে।

ত্রাণ বিতরণকারী তরুণদের বেশিরভাগই বিভিন্ন কর্মস্থলে ভিন্ন ভিন্ন শহরে আছেন। কিন্তু একসঙ্গে হয়ে বানভাসি মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই উদ্যোগটি সম্পর্কে জানতে চাইলে কুমিল্লায় একটি বেসরকারি ব্যাংকে কর্মরত মো. আরিফুল ইসলাম জানান, টিভিতে খবরে দেখছিলাম বানভাসি মানুষদের নাজুক অবস্থা। পানিতে ভেসে যাচ্ছে তাদের ঘরবাড়িসহ গবাদিপশু। বন্যায় শতাধিক মানুষের মৃত্যুর হাহাকার মেনে নিতে পারছিলাম না। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য কিছু করার তাগিদ মনে তাড়া দিচ্ছিল।

তিনি বলেন, আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী তাদের পাশে দাঁড়ানোকে কর্তব্য মনে করেছি। আর তখনই কিছু বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ করি। এরপর সবাই মিলে ফেসবুকে একটি ইভেন্ট খুলে সবার কাছে সহযোগিতা চাই। আমাদের আহ্বানে সাড়া দেন অনেকে। ইভেন্ট থেকে প্রাপ্ত অর্থ নিয়ে আমরা ঈদের পরদিন জামালপুর যাই এবং ঈদের তৃতীয় দিন জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে ক্ষতিগ্রস্ত ৩০৭টি পরিবারকে ৫ কেজি করে চাল, ১ কেজি ডাল, ১ কেজি লবণ ও ১ লিটার করে তেল বিতরণ করি।
মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, আমরা চাইব, সামর্থ্যবানরা যেন বানভাসি মানুষের এই দুর্দিনে পাশে দাঁড়ান। চাইলেই পারা যায় অসহায় দরিদ্র মানুষের পাশে। শুধু মানুষের ইচ্ছা শক্তির দরকার।
এফএইচ/বিএ