মধ্যপ্রাচ্যে সংকট

শঙ্কায় বোতলে তেল মজুত করছেন মোটরসাইকেল চালকরা

মো. নাহিদ হাসান
মো. নাহিদ হাসান মো. নাহিদ হাসান , নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:২৮ এএম, ০৮ মার্চ ২০২৬
ভবিষ্যতে তেল পাওয়া যাবে না, এই শঙ্কায় জ্বালানি তেল মজুত করছেন বাইকচালকরা/ছবি জাগো নিউজ

ইরানে হামলা-পাল্টা হামলার জেরে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে অস্থিরতা বিরাজ করছে। বিশ্ববাজারে বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম। তবে দেশের বাজারে এখনো খুব একটা প্রভাব না পড়লেও অনেকে আতঙ্কে বেশি করে জ্বালানি তেল কিনছেন। অনেক মোটরসাইকেল চালকের মধ্যে প্যানিক বায়িংয়ের প্রবণতাও লক্ষ্য করা গেছে।

প্যানিক বায়িং হলো আতঙ্কিত হয়ে পণ্য কেনা- বিশেষ করে দুর্যোগ, যুদ্ধ বা ঘাটতির আশঙ্কায় সাধারণ মানুষের অস্বাভাবিক ও অতিরিক্ত পণ্য সংগ্রহের প্রবণতা।

পেট্রোল পাম্প থেকে তেল নেওয়ার পর সেটি বোতলে সংরক্ষণ করে আবারও পাম্পে গিয়ে তেল কিনছেন অনেকে। এতে বিভিন্ন এলাকার পাম্পগুলোতে অস্বাভাবিক ভিড় বেড়েছে।

শঙ্কায় বোতলে তেল মজুত করছেন মোটরসাইকেল চালকরা

শনিবার (৭ মার্চ) দিনে ও রাতে রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় পেট্রোল পাম্পে মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি আর আরোহীদের জটলা দেখা গেছে।

বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, চালকদের অনেকেই দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করার পর তেল নিতে পারছেন। স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় পাম্পগুলোতে চাপ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

কয়েকজন মোটরসাইকেল চালক জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে তেল পাওয়া কঠিন হতে পারে এমন আশঙ্কা থেকেই তারা তেল কেনার পাশাপাশি অতিরিক্ত তেল বোতলে সংরক্ষণ করছেন। এতে পাম্পে বারবার ভিড় বাড়ছে।

আরও পড়ুন:
তেল নিতে গিয়ে পাম্পের কর্মচারীদের পিটুনিতে যুবক নিহত
মধ্যরাতেও পেট্রোল পাম্পে ভিড়, মোটরসাইকেল চালকদের দীর্ঘ সারি
পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্বিগুণের বেশি দামে ২ কার্গো এলএনজি কিনলো সরকার

পাম্প মালিকরা বলছেন, সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও অতিরিক্ত চাহিদা এবং প্যানিক বায়িংয়ের কারণে পরিস্থিতি অস্বাভাবিক হয়ে উঠছে।

ঢাকার পরিবাগে তেল কিনতে আসা রাইড শেয়ারিং চালক মামুন বলেন, আমার আয়ের একমাত্র মাধ্যম রাইড শেয়ার করা। পাম্পে দিনের বেলা অনেক ভিড় থাকে তাই রাতে এসেছি। একবার ২০০ টাকার বেশি তেল দিচ্ছে না এজন্য তেল কেনার পর বোতলে রেখে আবার পাম্পের সিরিয়ালে দাঁড়িয়েছি। তেল না পেলে বাইক চালিয়ে উপার্জন করতে পারবো না। এজন্যই এই কাজ করছি।

শঙ্কায় বোতলে তেল মজুত করছেন মোটরসাইকেল চালকরা

দেশের বিভিন্ন স্থানে মোটরসাইকেল চালকদের মধ্যে তেল সংগ্রহের এমন প্রবণতা দেখা গেছে। কুষ্টিয়ায় বসবাস করা মারুফ মুঠোফোনে জাগো নিউজকে বলেন, যদিও ঈদের এখনো দেরি আছে। সেসময় যদি তেল না পাই তাই আগেভাগেই ৫ লিটার করে ২ বোতলে সংগ্রহ করে রেখেছি। আপাতত আর চিন্তা করছি না। তেল সংকট হলেও আমার সমস্যা হবে না।

রাজধানীতেও এমন প্রবণতা দেখা গেছে। রাতে পাম্প থেকে তেল সংগ্রহের পর কিছুটা দূরত্বে গিয়ে সেই তেল বোতলে সংগ্রহ করে ফের পাম্প থেকে তেল সংগ্রহ করছেন অনেকে। এতে যাদের বাইকের তেল শেষের দিকে তারা ভোগান্তিতে পড়েছেন।

শঙ্কায় বোতলে তেল মজুত করছেন মোটরসাইকেল চালকরা

নিজাম নামের এক ব্যক্তি বলেন, আমার বাইকের তেল শেষের দিকে। আর সর্বোচ্চ ৫-৭ কিলোমিটার চালাতে পারবো। পাম্পে যারা তেল নিতে এসেছেন দেখা যাবে অনেকেরই তেল কেনার প্রয়োজন নেই। তারপরও হুজুগে আতঙ্কিত হয়ে তারা তেল কিনছেন। এতে ভিড় বাড়ছে। আমরা ভোগান্তিতে পড়ছি।

গত শুক্রবার যানবাহনে তেল নেওয়ার ক্ষেত্রে কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। সংস্থাটির সচিব শাহিনা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে  বলা হয়, প্রতি ট্রিপে (একবার) মোটরসাইকেল ২ লিটার, প্রাইভেটকারে ১০ লিটার, এসইউভি/জিপ/মাইক্রোবাসে ২০ থেকে ২৫ লিটার, পিকআপ/লোকাল বাসে ৭০ থেকে ৮০ লিটার, দূরপাল্লার বাস/ট্রাক/কার্ভাডভ্যান/কনটেইনার ট্রাকে ২০০ থেকে ২২০ লিটার জ্বালানি তেল নিতে পারবে।

আরও পড়ুন:
এলএনজির প্রথম চালান জাহাজে তুলেছে কাতার, গন্তব্য বাংলাদেশ
জ্বালানি তেল পাচার রোধে উপকূলে কোস্টগার্ডের নজরদারি জোরদার
তেল আছে, তারপরও নিয়ে রাখছি যদি পরে না পাওয়া যায়’

আর শনিবার বিকেলে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টকু বলেছেন, দেশে তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে, তাই এ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। আগামী ৯ মার্চ দেশে আরও দুটি তেলবাহী ভেসেল (জাহাজ) আসছে। ফলে তেলের সংকট তৈরি হওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই।

শঙ্কায় বোতলে তেল মজুত করছেন মোটরসাইকেল চালকরা

তিনি বলেন, আমরা রেশনিং করেছি মূলত অনিশ্চয়তার কারণে। কিন্তু মানুষ এই রেশনিং দেখে ভয় পেয়ে স্টক করা শুরু করেছে। আসলে আমাদের তেলের কোনো অভাব নেই। আগামী ৯ তারিখে আরও দুটি ভেসেল আসছে। সুতরাং তেলের কোনো সমস্যা নেই।

শঙ্কায় বোতলে তেল মজুত করছেন মোটরসাইকেল চালকরা

মন্ত্রী বলেন, বিশেষ করে মিডিয়ার কাছে আমার অনুরোধ থাকবে আপনারা জনগণকে এই বার্তাটা দিন যে তাড়াহুড়ো করে তেল কেনার কোনো দরকার নেই। আমাদের কাছে মজুত আছে, আমরা নিয়মিত পেট্রোল পাম্পে তেল সরবরাহ করছি। মানুষ তেল নিতে গেলে তেল পাবে। সারা রাত লাইন দিয়ে থাকারও কোনো প্রয়োজন নেই।

এসময় তিনি গণমাধ্যমের মাধ্যমে জনগণকে আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানান।

এনএস/এসএনআর/বিএ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।