জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে স্যালাইন ও রক্তের ব্যাগ উৎপাদন বেড়েছে


প্রকাশিত: ১১:২০ এএম, ১০ জুন ২০১৫

মহাখালীর সরকারি জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে বর্তমানে স্যালাইন ও ব্লাড ব্যাগ উৎপাদন হচ্ছে। কয়েকমাস আগেও প্রতিষ্ঠানটির এ দুটি ইউনিটে গড়ে প্রতিদিন ৫ হাজার থেকে ৬ হাজার ব্যাগ স্যালাইন ও মাত্র ৭শ’ রক্তের ব্যাগ উৎপাদন হতো। কিন্তু বর্তমানে গড়ে প্রতিদিন ১০ থেকে ১১ হাজার ব্যাগ স্যালাইন ও ২ হাজার থেকে ২৪শ’ রক্তের ব্যাগ উৎপাদিত হচ্ছে। সরকারিভাবে উৎপাদিত স্যালাইন ও ব্লাড ব্যাগ সারাদেশের সরকারি হাসপাতালে সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অনেক কম।

বিভিন্ন ধরনের স্যালাইনের মধ্যে শুধুমাত্র জীবনরক্ষাকারী ৩ শতাংশ স্যালাইন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির কাছে বিক্রি করা হয়। এটি বিক্রির জন্য ইউনিটটি ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকে। পালাক্রমে কর্মচারীরা এখানে ডিডটি করেন।

প্রতিষ্ঠানটির নবনিযুক্ত পরিচালক ডা. মো. জাফরউল্ল্যাহ জাগো নিউজকে বলেন, যথাযথ মনিটরিং ও সুপারভিশনের অভাবে নানা অজুহাতে উৎপাদনকারী ইউনিটের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করত না।

তিনি জানান, স্যালাইন ও রক্তের ব্যাগ উৎপাদনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নিরবিছিন্নভাবে কাজ করতে হয়। উৎপাদনের মাঝপথে লোডশেডিং ও যন্ত্রপাতি বিকল হলে উৎপাদন ব্যাহত হয়। নষ্ট হয় শত শত ব্যাগ পণ্য। উৎপাদনের সাথে জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর যথাযথ তদারকি ও যন্ত্রপাতির সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে ঝিমিয়ে পড়া এ প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম গতিশীলতা ও  বিভিন্ন ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছেন  বলে তিনি দাবি করেন।

জানা গেছে, নবনিযুক্ত এ পরিচালক এক সময় মেডিকেল কলেজে সিনিয়র লেকচারার অব প্রাকটিক্যাল ফার্মাকোলজি (এসএলপিপি) এবং প্রশাসনিক বিভিন্ন দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতার পরিপ্রেক্ষিতে সুষ্ঠুভাবে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করতে পারছেন।

চলতি সপ্তাহে এ প্রতিবেদক সরেজমিনে পরিদর্শনকালে দেখেছেন আইভি ফ্লুইড উৎপাদন ইউনিটের হাজিরা খাতায় ৬৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে ৬৪ জনই উপস্থিত আছেন। অবশিষ্ট ১ জন কি কারণে কর্মস্থলে আসেনি সে জন্য কৈফিয়ত তলব করা হয়েছে।

এ প্রতিষ্ঠানটিতে সপ্তাহে ৪ দিন সকাল ও বিকেলে পালা করে উৎপাদন চলছে। সাপ্তাহিক দু’দিন ছুটির দিন ছাড়াও পরবর্তী সপ্তাহে সুষ্ঠুভাবে উৎপাদন অব্যাহত রাখতে আরো একদিন বন্ধ রেখে যন্ত্রপাতির ক্রুটি খুঁজে বের করে তা ঠিক করা হয়।

আইপিএইচ’র কর্মকর্তারা জানান, জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট দেশের একমাত্র সরকারি প্রতিষ্ঠান যেখানে ৯ প্রকারের স্যালাইন (গ্লুকোজ,  গ্লুকোজ অ্যাকুয়া, নরমাল, কলেরা, পেরিটনিয়াল ডায়ালাইসিস, ৩ শতাংশ নরমাল, বেবি, হেমোডায়ালাইসিস ফ্লুইড ও হাটর্সম্যান) উৎপাদিত হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন ধরনের ব্লাড ব্যাগ সিপিডি (সাইট্রেট ফসফেট ডেক্সট্রোজ), বেবি এবং ট্রান্সফিউশন ও ইনফিউশন সেট উৎপাদিত হচ্ছে।

স্যালাইন ও ব্লাড ব্যাগ ছাড়াও জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে বিভিন্ন ধরনের রুটিন পরীক্ষা নিরীক্ষা ব্লাড, সিরাম, স্টুল, ইউরিন, স্পুটাম, থ্রট সোয়ার্ব ও ইয়ার সোয়ার্ব করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক রি-এজেন্ট ও মিসেলস ও রুবেলা জীবাণু শনাক্তকরণে একটি ল্যাবরেটরি চালু রয়েছে।

এমইউ/এসএইচএস/আরআই

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।