সর্বোচ্চ গোলদাতা হ্যারি কেইন, তবে সেরার পুরস্কার জিতলেন আরেকজন
বুন্দেসলিগার ২০২৫-২৬ মৌসুমে ব্যক্তিগত ও দলীয়- দু’দিক থেকেই দারুণ সাফল্য পেয়েছে বায়ার্ন মিউনিখ। হ্যারি কেইন হয়েছেন লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতা, আর মৌসুমসেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন তার আরেক সতীর্থ মাইকেল অলিসে।
দুর্দান্ত এক মৌসুম কাটিয়ে বায়ার্নকে আবারও বুন্দেসলিগা শিরোপা জিততে বড় ভূমিকা রাখেন ফরাসি উইঙ্গার অলিসে। ক্রিস্টাল প্যালেস থেকে ২০২৪ সালে জার্মান ক্লাবটিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই নিজেকে ইউরোপের অন্যতম ভয়ংকর আক্রমণভাগের খেলোয়াড় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তিনি।
এ মৌসুমে বুন্দেসলিগায় ১৫ গোল করার পাশাপাশি ১৯টি গোলে অ্যাসিস্ট করেছেন অলিসে। হ্যারি কেইনের সঙ্গে তার বোঝাপড়া ছিল অসাধারণ। দু’জনের সমন্বিত নৈপুণ্যে বায়ার্ন পুরো মৌসুমে সব মিলিয়ে ১২২ গোল করেছে, যা বুন্দেসলিগার নতুন রেকর্ড। এর আগে এক মৌসুমে সর্বোচ্চ ১০১ গোলের রেকর্ড ছিল।
মৌসুমসেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জয়ের পর অলিসে বলেন, ‘হ্যারির সঙ্গে খেলাটা দারুণ ব্যাপার। তার মতো একজন ফুটবলারের সঙ্গে খেললে অনেক কিছু শেখা যায়। এখন পর্যন্ত মৌসুমটা খুব ভালো গেছে। সামনে আর একটি ম্যাচ আছে, আশা করি সেটাও ভালোভাবে শেষ করতে পারব।’
এর আগে নিজের প্রথম মৌসুমেই ‘রুকি অব দ্য সিজন’ নির্বাচিত হয়েছিলেন অলিসে। এবার সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতায় জিতলেন বুন্দেসলিগার সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কার।
অন্যদিকে, মৌসুমের শেষ ম্যাচে কোলনের বিপক্ষে দারুণ হ্যাটট্রিক করে আবারও নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছেন হ্যারি কেইন। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে এ মৌসুমে ৫১ ম্যাচে ৫৮ গোল করেছেন ইংলিশ অধিনায়ক। এর ফলে টানা তৃতীয়বারের মতো বুন্দেসলিগার সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার জিতলেন তিনি।
পুরস্কার হাতে নিয়ে কেইন বলেন, ‘দারুণ লাগছে। সমর্থকদের সঙ্গে এখানে উদযাপন করতে পারাটা বিশেষ অনুভূতি। মৌসুম অনেক দীর্ঘ ও কঠিন ছিল। বায়ার্ন মিউনিখের মতো ক্লাবে প্রত্যাশা সবসময়ই অনেক বেশি থাকে। আমরা বিশেষ করে লিগে সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে পেরেছি।’
নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে কেইনের মন্তব্য, ‘আমি সবসময় প্রতিটি ম্যাচে গোল করতে চাই। জানি সুযোগ পাব এবং নিজের জন্য একটি মানদণ্ড ঠিক করে রেখেছি। আজ আবারও তিন গোল করতে পারাটা অবশ্যই ভালো লাগছে।’
অলিসে-কেইন জুটির দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে বায়ার্ন শুধু শিরোপাই জেতেনি, আক্রমণাত্মক ফুটবল দিয়েও পুরো মৌসুমে আধিপত্য দেখিয়েছে।
আইএইচএস/