যেন সাগর থেকে উঠে অাসছে রোহিঙ্গারা

সায়েম সাবু
সায়েম সাবু , জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক কক্সবাজার থেকে
প্রকাশিত: ১১:২০ এএম, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭ | আপডেট: ০৩:২৮ পিএম, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭

বাংলাদেশ-মিয়ানমারের বুক চিরে বয়ে চলা নাফ নদী দু’দেশের বিভাজন করেছে একেবারে সাগর মোহনা পর্যন্ত। সাগর আর পাহাড়দেশ কক্সবাজারের নাফ নদীর মোহনার সৌন্দর্য প্রকৃতিপ্রেমী প্রতিজন মানুষেরই মন কাড়বে।

টেকনাফের শাহপুরী দ্বীপের পূর্ব অার দক্ষিণ দিক দিয়ে সাগর পানে গিয়ে মিলেছে নাফ নদী। দ্বীপের এপারে শত শত মাছ ধরার নৌকা তীরে অাটকা। ওপারে মিয়ানমারের অাকাশ ছোঁয়া পাহাড়। সূর্য উঠছে ওপার থেকেই। সবুজ পাহাড়ের গা ঘেঁষে সাদা মেঘেরা অাড়াঅাড়ি করে লেপ্টে অাছে। পাহাড়ের ওপার থেকে ভোরের অাভা ফুটে উঠে মেঘকে তাড়িয়ে দিচ্ছে। ততক্ষণে ভোরের অালো সাগর জলে পড়তে শুরু করেছে।

rohiga

এত রূপ! তবুও নাফ নদী অাজ বিষণ্ণতায় ভরা। সারারাত ঘরহারা মানুষদের পার করে দিয়ে নাফ নদী এদিন বড়ই ক্লান্ত। দেশছাড়া রোহিঙ্গাদের অশ্রুতে নাফ নদীর পানি অাজ বড়ই উষ্ণ। মধ্যরাতের পর জোয়ারের সময় রোহিঙ্গা পারের হিড়িক পড়েছিল এ মোহনায়। মিয়ানমারের মংডু উপজেলার নির্যাতিত অধিকাংশ মুসলিম রোহিঙ্গাই শাহপরী দ্বীপের বিভিন্ন ঘাট দিয়ে পার হয়ে বাংলাদেশে অাসছে।

rohigya

সারারাত অপেক্ষা করে যারা পার হতে পারেননি, সেইসব রোহিঙ্গারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পার হচ্ছেন ভাটার টানেও। শাহপরী দ্বীপের ঘাট হয়ে হাজারো রোহিঙ্গা প্রবেশ করে বুধবার ভোরেও। নৌকা থেকে কোমরসম সাগর পানিতে নেমে যখন ওরা তীরে ভিড়ছিল, তখন মনে হচ্ছিল ঠিক যেন সাগর থেকে ওঠে অাসছিল রোহিঙ্গারা। ভোরের সূর্যের সঙ্গে তাল মিলিয়ে রোহিঙ্গা নারীরা যখন তীরে পা ফেলছিল, তা দেখে মনে হচ্ছিল ওরা-ই সাগরকন্যা।

rohigya

তবে সূর্যের তেজের সঙ্গে ওদের কোনো মিল ছিল না। দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে শরীর অার চলছিল না। ঘর পুড়িয়ে রোহিঙ্গাদের মনও পুড়িয়ে দিয়েছে মিয়ানমারের বৌদ্ধরা। স্বজন হারিয়ে মনের দগদগে ক্ষত প্রকাশ পাচ্ছিল চোখে-মুখে।

অারকান প্রদেশের মংডু উপজেলার গজনদিয়া গ্রাম থেকে তিন দিন হেঁটে এসে নাফ নদীর ওপারে অপেক্ষা করছিল জোহরা বেগম। সত্তর বয়সী এ বৃদ্ধা ও তার পরিবার সারারাত অপেক্ষা শেষে ভোরে এপারে অাসেন। নদী পারাপারে প্রতিজনকে দিতে হয়েছে তিন হাজার করে বাংলাদেশি টাকা।

rohigya

তিনি বলেন, গ্রামের বহু মানুষকে হত্যা করেছে মগ বৌদ্ধরা। গ্রামে মুসলামনদের সব ঘর জ্বালিয়ে দিয়েছে। তিন দিনে দু’বেলা শুকনো খাবার মিলেছিল। রাত থেকে অনাহারে। ছোট বাচ্চারাও কিছু খেতে পায়নি। তবুও জীবন নিয়ে এপারে অাসতে পেরেছি বলে শুকরিয়া।

এএসএস/এসএইচএস/আইআই/আরআইপি