কারওয়ান বাজারে ভেজাল মাছ বিক্রি : ৮ জনকে জরিমানা


প্রকাশিত: ০১:৩২ পিএম, ১৮ জুন ২০১৫

রাজধানীর কারওয়ান বাজারের মাছের আড়তে অভিযান পরিচালনা করে ৫ হাজার কেজি ভেজাল গলদা চিংড়ি মাছ ও আফ্রিকান মাগুর মাছ জব্দ করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) পরে র‌্যাব পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত ওই ভেজাল মাছ ধ্বংস করে এবং মাছ বিক্রির ও মজুদ রাখার অপরাধে ৮ মৎস্য ব্যবসায়ীকে জরিমানা করে।

আটককৃতরা হলেন, মো. শফিকুর রহমান (৩৩), মো. তরিকুল ইসলাম (২৬), মো: মেহেদী হাসান (২৪), মো. আল আমিন (১৫), বৃদাবাবুল (৫২), ফয়েজউদ্দিন (৫০), আল আমিন (২৩), ও মো. আক্তারুজ্জামান (৩৪)।

বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে ১০টা পর্যন্ত র‌্যাব-২ এর একটি দল তেজগাঁও থানাধীন কাওরান বাজারের মাছের মার্কেটে এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযান পরিচালনা করেন র‌্যাব-২-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান ও সহকারী পুলিশ সুপার মো. আতিকুর রহমান।

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আব্দুল কাদির মিয়া। এসময় অভিযানে মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মো. নাজিম আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

র‌্যাব-২ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে ১০টা পর্যন্ত র‌্যাব-২ এর একটি দল তেজগাঁও থানাধীন কাওরান বাজারের মৎস্য মার্কেটের বিভিন্ন মাছের আড়তে অভিযান পরিচালনা করে



এসময় প্রায় ৫ হাজার কেজি ভেজাল গলদা চিংড়ি ও বিক্রয় নিষিদ্ধ আফ্রিকান মাগুর জব্দ করা হয়। এ সকল মাছ মজুদ ও বিক্রয়ের অপরাধে ৮ মৎস্য বিক্রেতাকে আটক করা হয়।

আটককৃতরা জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, ১৯ জুন হতে পবিত্র রমজান মাস শুরু হবে। রমজান মাস উপলক্ষে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা রোজা রাখবেন এতে করে বাজারে মাছের ব্যাপক চাহিদা হবে। বেশি মুনাফা লাভের আসায় দেশের সুমদ্র তীরবর্তী অঞ্চল মুন্সীগঞ্জ, খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, বরিশাল এলাকা হতে এ মাছ সংগ্রহ করে তারা।

অতি মুনাফা লাভের আসায় মাছের ওজন বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন অপদ্রব্য ইনজেকশন দিয়ে পুশ করা হয়। ফলে এ মাছ খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করলে শারীরিক বিভিন্ন রোগে আক্রান্তসহ ব্যাপক স্বাস্থ্য ঝুঁকির আশংকা রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, আফ্রিকান মাগুর রাক্ষুসে মাছ নামে পরিচিত। এ কারণে মৎস্য অধিদপ্তর কর্তৃক এ মাছের চাষ ও উৎপাদন নিষিদ্ধ বলে ঘোষণা করা হয়েছে। তবে অধিক মুনাফা লোভী অসাধু মৎস্য ব্যবসায়ীরা বাণিজ্যক উদ্দেশ্যে বিদেশি মাগুর খ্যাত আফ্রিকান মাগুর চাষ করছে।

স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আব্দুল কাদির মিয়া ১৯৫০ সনের মৎস্য সংরক্ষণ আইনের ৫ ধারা মোতাবেক দোষী সাব্যস্ত করে প্রত্যেককে ৩ হাজার টাকা ২৪ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

জেইউ/আরআই

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।