বার্ষিক হিসাব চেয়ে ৪০ দলকে ইসির চিঠি


প্রকাশিত: ০১:৩৮ পিএম, ১৮ জুন ২০১৫

নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দেয়ার তাগিদ দিয়ে চিঠি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে হিসাব দিতে সময়সীমা বেঁধে দিয়ে বৃহস্পতিবার এ চিঠি পাঠানো হয়।

তবে এবারো জামায়াতকে চিঠি দেয়ার তালিকা থেকে বাদ রাখা হয়েছে। এছাড়া বাকি ৪০টি দলের সাধারণ সম্পাদক/মহাসচিব বরাবর চিঠি দেয়া হয় বলে ইসির দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন।

এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, আইন অনুযায়ী প্রতি বছরই নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দিতে হয়। বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিতেই চিঠি দিয়েছে ইসি। তবে হাইকোর্টের আদেশে জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল হয়েছে। ফলে ওই দলটি বাদে বাকি ৪০টি দলকে চিঠি দেয়া হয়েছে।

ইসির সংশ্লিষ্ট শাখার উপ-সচিব মু. আবদুল অদুদ জানান, বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব দেয়ার তাগিদ দিয়ে ৪০টি দলের সাধারণ সম্পাদক/মহাসচিব বরাবর একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। ৩১ জুলাই পর্যন্ত সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে। এ সময়ের পর কোনভাবেই হিসাব নেয়া হবে না। বিষয়টি আগে থেকেই সতর্ক করে দেয়া হয়েছে।

ইসির দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, ২০১৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত রাজনৈতিক দলগুলোর কোন খাত থেকে কত টাকা আয় হয়েছে, কত টাকা ব্যয় হয়েছে, বিল-ভাউচারসহ তার পূর্ণাঙ্গ তথ্য কমিশনের নির্ধারিত একটি ছকে জমা দিতে হবে। কমিশন থেকে রাজনৈতিক দলগুলোকে আয়-ব্যয়ের হিসাবের ফরম দেয়া হয়। রাজনৈতিক দলগুলোকে আয়-ব্যয়ের হিসাব দেয়ার ক্ষেত্রে প্রতিটি খাত অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট তথ্য তারিখসহ উল্লেখ করতে হবে।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ও রাজনৈতিক দল নিবন্ধন বিধিমালা অনুযায়ী, ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে পূর্বের পঞ্জিকা বছরের আর্থিক লেনদেনের হিসাব প্রতিটি নিবন্ধিত দলকে জমা দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে অবশ্যই একটি রেজিস্টার্ড চার্টার্ড অ্যাকাউন্টিং ফার্ম দ্বারা দলের হিসাব অডিট করাতে হবে। এ হিসাবে সদস্য সংগ্রহসহ কোন খাত থেকে কত টাকা আয় হয়েছে, কত টাকা ব্যয় হয়েছে বিল-ভাউচারসহ তার পূর্ণাঙ্গ তথ্য কমিশনে জমা দিতে হবে। গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ ১৯৭২-এর ৯০-এইচ (১) (সি) ধারা অনুযায়ী নিবন্ধিত কোনো দল পরপর তিন বছর কমিশনে তথ্য প্রদান করতে ব্যর্থ হয় তবে সে দলের নিবন্ধন বাতিল করতে পারবে।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, পরপর দুই বছর লেনদেনের প্রতিবেদন জমা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় গণফ্রন্টকে নিবন্ধন বাঁচাতে এবার অবশ্যই প্রতিবেদন দিতে হবে। বিকল্প ধারা বাংলাদেশও গতবার নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন দিতে পারেনি।

নিবন্ধন অবৈধ থাকায় চিঠি দিচ্ছে না জামায়াতকে : আদালতের রায়ে নিবন্ধন অবৈধ ঘোষিত থাকা জামায়াতে ইসলামীকে এ চিঠি দেয়া হয়নি। নির্বাচনে অংশ নিতে ২০০৮ সালে নিবন্ধন বাধ্যতামূলক হওয়ার পর ৩৯টি দল তালিকাভুক্ত হয়। পরে সংশোধিত গঠনতন্ত্র দিতে ব্যর্থ হওয়ায় ২০০৯ সালে ফ্রিডম পার্টির নিবন্ধন বাতিল করা হয়। দশম সংসদ নির্বাচনের আগে তিনটি দল নিবন্ধিত তালিকা যোগ হলেও নিবন্ধন অবৈধ ঘোষিত হওয়ায় বাদ পড়ে জামায়াত। বর্তমানে ইসির তালিকায় ৪০টি রাজনৈতিক দল নিবন্ধিত রয়েছে।

এইচএস/এসএইচএস/আরআই

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।