জঙ্গিদের বিস্ফোরক সরবরাহ : ঢাবির ল্যাব সহকারীসহ আটক ৩
দেশে প্রায় সাড়ে তিনশ’ স্বীকৃত কেমিকেল বিক্রি ও আমদানীকারক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ব্যবসার ক্ষেত্রে রয়েছে বাধ্যবাধকতা। কিন্তু তা অমান্য করে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে জঙ্গি সংগঠনের কাছে বিস্ফোরক সরবরাহ করে আসছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাব টেকনিশিয়ান গাজী মোহাম্মদ বাবুল।
ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে জঙ্গি সংগঠনের কাছে বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ ও বিস্ফোরক সরবরাহকারী হিসেবে জড়িত ৪ জন গোয়েন্দা ও অপরাধতথ্য (দক্ষিণ) বিভাগের হাতে গ্রেফতারের পর এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য বেড়িয়ে এসেছে।
শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টায় ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এতথ্য জানান যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন, ঢাবির মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিভাগের ল্যাব এসিস্ট্যান্ট গাজী মোহাম্মদ বাবুল, টিকাটুলির এশিয়া সায়েন্টিফিক এর দোকান মালিক রিপন মোল্লা, ওয়েস্টার্ন সায়েন্টিফিক কোম্পানীর ম্যানেজার মহিউদ্দিন ও এফ এম কেমিকেল এন্ড সন্স এর দোকান মালিক, মোঃ নাসির উদ্দিন।
তিনি বলেন, গত ৭জুন গ্রেফতারকৃত হরকারতুল জিহাদ আল ইসলামিয়া বাংলাদেশ (হুজি-বি) এবং আনসারউল্লাহ বাংলা টিম (এবিটি) এর গ্রেফতারকৃত বোমা বিশেষজ্ঞদের জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যের উপর ভিত্তি করে এই ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা জানতাম কেমিকেল দোকান থেকে বিস্ফোরক দ্রব্য বিক্রি করতে গেলে কিছু বাধ্যবাধকতা মেনে চলতে হয়। যেকোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে বিস্ফোরক বিক্রি করার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটির প্রধানের অনুমতি নিয়ে প্রাতাষ্ঠিানিক প্যাডে বিক্রি করার নিয়ম।
কিন্তু আটককৃতরা মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে বাধ্যবাধকতার তোয়াক্কা না করে ধ্বংসাত্মক ও মানববিধ্বংসী বোমা ও বিস্ফোরক বোমা বানানোর ক্ষেত্রে সহায়তা করে আসছে।
জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা জানায়, বিধি বহির্ভূতভাবে তারা জঙ্গিদের বিস্ফোরকসহ নানাবিধ রাসায়নিক পদার্থ সরবরাহ করে আসছিল। এমনকি গত ৭ জুন জঙ্গীদের কাছ থেকে উদ্ধারকৃত প্রায় ৬ কেজি বিস্ফোরক ও অন্যান্য রাসায়নিক পদার্থের সরবরাহও করেছিল।
গত ৭ জুন গ্রেফতারকৃত হরকারতুল জিহাদ আল ইসলামিয়া বাংলাদেশ (হুজি-বি) এবং আনসার উল্লাহ বাংলা টিম (এবিটি) এর গ্রেফতারকৃত বোমা বিশেষজ্ঞদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, তারা এই আটকৃতদের কাছ থেকে কেমিকেল ক্রয় করে থাকে।
মনিরুল ইসলাম বলেন, তারা শুধু আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে অথবা এখানে আদর্শিক কোনো সম্পর্ক রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রয়েছে। তাদের সকলের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
গোয়েন্দা ও অপরাধতথ্য (দক্ষিণ) বিভাগের ডিসি মোঃ মাশরুকুর রহমান খালেদ-এর নির্দেশনায় এডিসি মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন, পিপিএম (বার) সার্বিক তত্ত্বাবধানে ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার টিমের সহকারী পুলিশ কমিশনার মোঃ আহসান হাবীবের নেতৃত্বে অভিযানটি পরিচালিত হয়।
জেইউ/এআরএস/এমএস