যুক্তরাষ্ট্রে মসজিদে বন্দুকধারীদের হামলায় নিহত ৩
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সান দিয়াগো শহরের একটি মসজিদে হামলা চালিয়েছে বন্দুকধারীরা। এতে তিনজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় সময় সোমবার (১৮ মে) হামলার এ ঘটনা ঘটে।
ইসলামিক সেন্টার অব সান দিয়াগোতে (আইসিএসডি) চালানো ওই হামলায় দুই বন্দুকধারীকেও মৃত অবস্থায় পাওয়ার কথা জানিয়েছেন সান দিয়াগো পুলিশের প্রধান স্কট ওয়াহল। তারা আত্মহত্যা করে থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন তিনি।
সাংবাদিকদের স্কট ওয়াহল বলেন, সন্দেহভাজন দুই হামলাকারী পুরুষ এবং তাদের বয়স আনুমানিক ১৭ ও ১৯ বছর। তিনি জানান, নিহতদের একজন ছিলেন ইসলামিক সেন্টারের নিরাপত্তাকর্মী। পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠা ঠেকাতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
সান দিয়াগো পুলিশ প্রধান আরও বলেন, তবে ঠিক কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে তা খুঁজে বের করতে তদন্ত চলছে।
মসজিদের ইমাম তাহা হাসানে বলেন, আইসিএসডি এমন একটি স্থান যেখানে মুসলিম-অমুসলিম সবাই একত্রিত হয়ে প্রার্থনা, শিক্ষা ও উদযাপনে অংশ নেয়। তিনি বলেন, উপাসনালয়কে লক্ষ্যবস্তু বানানো অত্যন্ত নিন্দনীয়।
সান দিয়াগো শহরের মেয়র টড গ্লোরিয়া বলেছেন, এই শহরে বিদ্বেষের কোনো স্থান নেই। তিনি বলেন, স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি আমাদের প্রার্থনা ও সমর্থন রয়েছে। আমি মুসলিম সম্প্রদায়কে আশ্বস্ত করতে চাই যে, এই শহরে আপনাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যা যা প্রয়োজন আমরা সবই করবো। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও উপাসনালয়গুলোর নিরাপত্তায় কোনো ধরনের ঘাটতি রাখা হবে না।
এদিকে, হামলাকারীদের পরিচয় এখনো স্পষ্ট নয়। তবে মুসলিমবিদ্বেষ থেকেই এই হামলা চালানো হতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। সোমবারের এই হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি এ ঘটনার বিষয়ে প্রাথমিক ব্রিফিং পেয়েছেন। ঘটনাটিকে ভয়াবহ বলে বর্ণনা করেছেন তিনি। তিনি বলেছেন, আমি কিছু প্রাথমিক তথ্য পেয়েছি। বিষয়টি খুব গুরুত্বের সঙ্গে পুনরায় খতিয়ে দেখবো আমরা।
সান দিয়াগোর প্রতিনিধি কংগ্রেসওম্যান সারা জ্যাকবস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, সম্ভাব্য উদ্দেশ্য সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত জানা যায়নি। তবে এ ঘটনায় আমি গভীরভাবে মর্মাহত। প্রত্যেকেরই শান্তিপূর্ণভাবে প্রার্থনা, উপাসনা ও শিক্ষা গ্রহণের অধিকার রয়েছে।
ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসমের কার্যালয় জানিয়েছে, তিনি পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন। স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করছেন।
এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল জানান, হামলার ঘটনায় কাজ শুরু করেছে এফবিআই। স্থানীয় অংশীদারদের সহায়তায় সবকিছু করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
ঘটনার পর নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ (এনওয়াইপিডি) শহরের মসজিদগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করেছে। সংস্থাটি বলেছে, বর্তমানে নিউইয়র্ক শহর বা এর আশপাশের উপাসনালয়গুলো ঘিরে কোনো নির্দিষ্ট হুমকির তথ্য নেই। তবে অতিরিক্ত সতর্কতার অংশ হিসেবে শহরের বিভিন্ন মসজিদে পুলিশ মোতায়েন বাড়ানো হচ্ছে।
সূত্র: আল জাজিরা
এমএমকে