পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ইফতারির দাম এবার চড়া


প্রকাশিত: ০৯:১৬ এএম, ১৯ জুন ২০১৫

বছর ঘুরে আবার এসেছে মুসলিম জাহানের সিয়াম সাধনার মাস পবিত্র রমজান। আর এ রমজানকে ঘিরে পুরান ঢাকার ইফতারের ঐতিহ্য যুগ যুগ ধরে। আর সেই ইফতারির স্বাদ নিতে রাজধানীবাসীসহ এর আশপাশ থেকেও ক্রেতারা ভিড় করছেন সেখানে। আর দেখে শুনে কিনছেন পছন্দের লোভনীয় সব ইফতারি। তবে অন্যান্য বারের মতো এবার সেখানকার ইফতারির দাম বেশি বলে অভিযোগ করেছেন ক্রেতারা। আর বিক্রেতারা দাবি করছেন সব ধরনের মাংসের দাম বেশি হওয়ায় এবার দাম কিছুটা বেড়েছে।

ইতিহাসবেত্তাদের মতে, মোগল আমল থেকেই ঢাকায় বাহারি ইফতারের প্রচলন। কালক্রমে এর জৌলুস ছড়িয়ে পড়ে পুরো রাজধানীতে। বিশেষ করে বাহারি ইফতারের আলোচনা এলেই সবার আগে চলে আসে পুরান ঢাকার চকবাজার-এর কথা।

শুক্রবার দুপুরে পুরান ঢাকার চকবাজারের ইফতারির বাজার ঘুরে দেখা যায়, থরে থরে সাজানো রয়েছে বড় বাপের পোলায় খায়, খাসির রানের রোস্ট, সুতি কাবাব, জালি কাবাব, কিমা পরোটা, টিকা কাবাব, ডিম চপ, আলুর চপ, কাচ্চি বিরানি, তেহারি, মোরগ পোলাও, কবুতর ও কোয়েলের রোস্ট, দইবড়া, শাকপুলি, বেগুনি, পিঁয়াজু, মোল্লার হালিম, নুরানি লাচ্ছি, বিভিন্ন ধরনের কাটলেট, ছোলা, মুড়ি, ঘুগনি, পেস্তা বাদামের শরবত, লাবাং, ছানামাঠা, আধা কেজি থেকে এক কেজি ওজনের জাম্বো সাইজ শাহী জিলাপিসহ সব ধরনের ইফতারি।

রাজধানীর উত্তর বাড্ডা থেকে চকবাজারে ইফতারি কিনতে এসেছিলেন শরীফ আবদুল। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, পুরান ঢাকার ইফতারির কথা অনেক শুনেছেন। কিন্তু এর আগে সময় করে আশা হয়নি। এবার এসে ইফতারি কিনছেন তিনি।

অন্যান্য বারের মতো এবারো শাহী ইফতার নিয়ে এসেছে আনন্দ বেকারি, ডিসেন্ট বেকারি, ইউসুফ বেকারি, আল-রাজ্জাক, ঢাকা বিরিয়ানি হাউজ ও মোগল ফুডস। এছাড়া আল-রাজ্জাক হোটেল আস্ত খাসির রোস্ট উপহার দিচ্ছে ক্রেতাদের।

এবারের সবকিছুর দাম বেড়েছে। সুতি কাবাব ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি, কবুতরের রোস্ট ১২০ থেকে ১৫০ টাকা, কোয়েলের রোস্ট ৬০ থেকে ৮০ টাকা, আস্ত মুরগির রোস্ট ২৩০ থেকে ৩৫০ টাকা, খাসির রানের রোস্ট ৪৫০ থেকে ৬২০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে ।

প্রতি কেজি কাবাব বিক্রি হচ্ছে ৪৫০-৫৫০ টাকা, খাসির কাবাব ৫০ টাকা, শাহী জিলাপি ১৫০, খাসির হালিম আকার ধরন ভেদে ৬০-৪০০ টাকা। আর দইবড়া ১২০-১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তাছাড়া ডিম চপ ১৫ টাকা, মুরগি ভাজা ২০০ টাকা, মুরগির ফ্রাই ৬০ টাকা, মাঠা প্রতি লিটার ৫০ টাকা লাবাং ৮০ টাকা, চিকেন ছাসনি ৩০-৪০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

যাত্রাবাড়ীর আইডিয়াল স্কুলের শিক্ষিকা রিনা পারভীন জাগো নিউজকে বলেন, প্রতিবার রোজার সময় কমপক্ষে তিন চার বার তিনি পুরান ঢাকার ইফতারি কেনেন। কিন্তু এবার সব কিছুর দাম বেশি। এজন্য ক্ষোভও প্রকাশ করেন তিনি।

বেশি দাম সম্পর্কে হাজি আবদুল লতিফ বলেন, এবার ভারত থেকে গরু বেশি আসতে পারছে না। তাই গোস্তের দাম বেশি। এদিকে মুরগির দামও অন্যান্য বারের তুলনায় বেড়েছে। এজন্য বাধ্য হয়েই তাদেরও কিছুটা বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

এছাড়াও সেখানে নরসিংদী ও গাজীপুরের কয়েকজন ক্রেতার সঙ্গে কথা হয় এ প্রতিবেদকের। জানা যায়, চকবার ছাড়াও পুরান ঢাকার সদরঘাট, বাংলাবাজার, মিটফোর্ড, নবাবপুর, বংশাল, সিদ্দিকবাজার, কোর্ট-কাচারী এলাকা, ওয়ারী, লক্ষ্মীবাজার, বাবুবাজার, আরমানিটোলা, সুরিটোলা, চানখাঁরপুল, টিপু সুলতান রোড, ধোলাইখাল, আজিমপুর, কাপ্তান বাজারসহ নানাস্থানে এখন বাহারি ইফতার পাওয়া যাচ্ছে। নতুন ঢাকার কোথাও কোথাও এসব ইফতারি পাওয়া যাচ্ছে।

এইচএস/বিএ/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।