ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি
ওসির নির্দেশে ৪০টি গ্রেনেড ইস্যু করেছিলেন কনস্টেবল মোবারক
গণঅভ্যুত্থানকালে ২০২৪ সালের ২০ জুলাই যাত্রাবাড়ী থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসানের নির্দেশে ৪০টি গ্রেনেড ইস্যু করেছিলেন থানার তৎকালীন কনস্টেবল মো. মোবারক হোসেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী হিসেবে দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি এ কথা জানিয়েছেন।
জবানবন্দিতে তিনি বলেছেন, ওই দিন আবুল হাসানের নির্দেশে তার বডিগার্ড কনস্টেবল হাসিনুরকে ২৫টি শটগানে সিসা কার্তুজ এবং এসআই মৃগাংক শেখর তালুকদারকে ১০০টি চায়না রাইফেলের গুলি, ২৫০টি শটগানের সিসা কার্তুজ এবং ৪০টি গ্রেনেড ইস্যু করেন তিনি। যা তারা (হাসিনুর ও মৃগাংক) স্বাক্ষর করে গ্রহণ করেন।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ সোমবার (১৮ মে) মোবারক হোসেন তার জবানবন্দি পেশ করেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর কাজলায় পুলিশ কর্মকর্তার ছেলে ইমাম হাসান তাইমকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ১৭তম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন মোবারক।
তিনি বর্তমানে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ডেমরা থানায় কনস্টেবল পদে কর্মরত আছেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় তিনি যাত্রাবাড়ী থানায় অস্ত্রাগার ইনচার্জের সহকারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
জবানবন্দিতে মোবারক হোসেন বলেন, যাত্রাবাড়ী থানার তৎকালীন ওসি আবুল হাসানের নির্দেশে অস্ত্রাগার রেজিস্টারে স্বাক্ষর নিয়ে অফিসার ও ফোর্সদের অস্ত্র ও গুলি বিতরণ করতেন তিনি।
২০২৪ সালের ১৭ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন জোরালো হলে রাজারবাগ পুলিশ লাইন, পূর্বাঞ্চল পুলিশ লাইন ও এপিবিএন থেকে ৫০০ থেকে ৬০০ অফিসার ও ফোর্স (আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য) যাত্রাবাড়ী থানায় ডিউটি করার জন্য আসেন।
তৎকালীন ডিসি ইকবাল, তৎকালীন এডিসি মাসুদ, এডিসি শামীম ও এসি নাহিদ হাসান বিভিন্ন পোস্টে ওয়্যারলেসের মাধ্যমে অথবা মুঠোফোনের মাধ্যমে অস্ত্র ও গুলি চাইতেন অথবা পাঠাতে বলতেন। তারা (সাক্ষী) ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে (ওসি স্যার ও অস্ত্রাগার ইনচার্জ) অস্ত্র ও গুলি ইস্যু করতেন। একই দিনে এসআই মো. মনিরুজ্জামান ১৬তম সাক্ষী হিসেবে এ মামলায় জবানবন্দি দেন।
এ মামলায় মোট ১১ জন আসামি। এর মধ্যে ৯ জন পলাতক। তারা হলেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, ওয়ারী বিভাগের সাবেক উপ-কমিশনার মো. ইকবাল হোসাইন, ডেমরা অঞ্চলের সাবেক উপ-কমিশনার মো. মাসুদুর রহমান, ওয়ারী অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপ-কমিশনার এস এম শামীম, সাবেক সহকারী কমিশনার নাহিদ ফেরদৌস, সাবেক পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জাকির হোসাইন, সাবেক পরিদর্শক (অপারেশন) মো. ওহিদুল হক ও সাবেক উপ-পরিদর্শক সাজ্জাদ উজ জামান।
কারাগারে আছেন দুই আসামি। তারা হলেন যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান ও সাবেক এসআই মো. শাহদাত আলী।
রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনসের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. ময়নাল হোসেন ভূঁইয়ার ছেলে তাইম। ২০২৪ সালের ২০ জুলাই যাত্রাবাড়ীর কাজলা পদচারী-সেতুর কাছে গুলি করে হত্যা করা হয় তাকে।
এফএইচ/এমএমকে