ইয়াবা ব্যবসার অবৈধ লেনদেনও বিকাশে!

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২:৫৪ পিএম, ০৪ জানুয়ারি ২০১৮

ইয়াবা ব্যবসার টাকা অবৈধভাবে লেনদেন করার অভিযোগে বিকাশ এজেন্টসহ দু’জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) অর্গানাইজড ক্রাইম ইউনিট। গত মঙ্গলবার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার নাজিম উদ্দিন আল আজাদের নেতৃত্বে সিআইডি অর্গানাইজড ক্রাইমের একটি বিশেষ টিম তাদের গ্রেফতার করেছে।

গ্রেফতার দু’জন হলেন- বিকাশ এজেন্ট মো. স্বপন এবং মো. সালাউদ্দিন। তাদেরকে রাজধানীর মিরপুর শেওড়াপাড়া থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারের সময় স্বপনের কাছ থেকে ১০টি মোবাইল ফোন, ১৭টি সচল সিম কার্ডসহ মোট ১৯টি সিম কার্ড জব্দ করা হয়েছে। যার সবগুলোতেই বিকাশের অ্যাকাউন্ট রয়েছে।

এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার (৪ জানুয়ারি) রাজধানীর মালিবাগস্থ সিআইডির প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সিআইডির অর্গানাইজ ক্রাইম ইউনিটের বিশেষ পুলিশ সুপার মোল্যা নজরুল ইসলাম বলেন, গত বছরের ২৯ আগস্ট কক্সবাজারের টেকনাফ মডেল থানায় মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২ (সংশোধনী ২০১৫) এর ৪(২) দায়েরকৃত মামলায় (মামলা নং-৭৪) তদন্ত শুরু করে সিআইডি। জড়িত দু’জনকে গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, দায়েরকৃত ওই মামলার আসামি নুরুল হক ওরফে ভুট্টো (৩২) নামে এক ইয়াবা ব্যবসায়ী। তার সঙ্গে যোগসাজশে ইয়াবা ব্যবসার টাকা লেনদেন করতো স্বপন নামে গ্রেফতার বিকাশ এজেন্ট।

তিনি আরও বলেন, বাহকদের মাধ্যমে মো. আফজাল হোসেন ইমন (গ্রেফতার সালাউদ্দিনের বাবা) নামে আরেকজনের কাছে দীর্ঘদিন যাবত টেকনাফ থেকে ইয়াবা ট্যাবলেটের বড় বড় চালান বিক্রয় করে আসছে। আফজাল হোসেন ইমন মাদক বিক্রয়লব্ধ টাকা তার ছেলে মো. সালাউদ্দিনের মাধ্যমে বিকাশ এজেন্ট আসামি স্বপনের নিকট পাঠাত। স্বপন তার বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে টেকনাফের বিকাশ এজেন্ট অ্যাকাউন্টে সে টাকা পাঠাত। যা পরবর্তীতে নুরুল হক ওরফে ভুট্টো উত্তোলন করতো।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বিকাশ এজেন্ট স্বপনের বিকাশ অ্যাকাউন্টগুলো পর্যালোচনা করে দেখা যায়, এখন পর্যন্ত প্রায় ১০ লাখ ৩০ হাজার ২০ টাকা ইয়াবা বিক্রির অবৈধ টাকা লেনদেন হয়েছে।

উল্লেখ্য, গ্রেফতার সালাউদ্দিনের বাবা মো. আফজাল হোসেন ইমন মিরপুর থানার একটি মাদক মামলায় জেল হাজতে আটক থাকায় তাকেও এ মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। বর্তমানে মামলাটি সিআইডি কর্তৃক তদন্তাধীন।

জেইউ/আরএস/পিআর