উত্তরায় সোফার কুশনে ১০ হাজার ইয়াবা : আটক ৫

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:২৫ পিএম, ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ | আপডেট: ০৮:১৩ পিএম, ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

রাজধানীর উত্তরার গরীবে নেওয়াজ সড়কের ৩৫ নং বাসায় অভিযান চালিয়ে ইয়াবা সেবনকালে ৫ জনকে আটকসহ প্রায় ১০ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার বিকেল ৪টার দিকে ওই বাড়িটিতে অভিযান চালায় ঢাকা মেট্রো- উত্তরের একটি দল। বাসাটির দ্বিতীয় তলায় টয়লেটে বসে ইয়াবা সেবন করছিল দুজন। অভিযানে বাসাটির সোফার কুশনের ভেতর থেকে প্রায় ১০ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়।

সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, অভিযান চলছে বলে জানিয়েছেন টিমের নেতৃত্বদানকারী মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের ঢাকা মেট্রোপলিটন অঞ্চলের সহকারী পরিচালক (এডি) খুরশিদ আলম।

তিনি জাগো নিউজকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর বিশেষ অভিযানে নেমেছে। আজ ছিল অভিযানের দ্বিতীয় দিন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা উত্তরার গরীবে নেওয়াজ সড়কের ৩৫ নং বাসায় অভিযান চালায়। অভিযানে আটক হয় এনায়েতুল করিম মিঠু, রিপন, রাব্বি, তন্ময়, ফরিদ।

বাড়িটির মালিক করম আলী। ভবনটির দ্বিতীয় তলার বাসার একটি অংশ ভাড়া নিয়ে বসবাস করেন পুলিশেরই এক সাব-ইন্সপেক্টর। সেই বাসাতেই ইয়াবার জমজমাট ব্যবসা চলছে।

তিনি বলেন, অভিযানে ইয়াবা সেবনকালেই আমরা দুই জনকে হাতেনাতে আটক করেছি। তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও তিনজনসহ মোট ৫ জনকে আটক করেছি। জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে সোফার কুশনের ভেতর থেকে প্রায় ১০ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের এ কর্মকর্তা জাগো নিউজকে আরও বলেন, এটা খুব অবিশ্বাস্য, যে বাসাটির একটি অংশে একজন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য বসবাস করেন সেই বাসাতেই নিরাপদে ইয়াবা সেবন ও বিক্রি চলছে। আমরা জানতে পেরেছি এই বাসায় মাদকসেবীদের আড্ডাখানা। এখান থেকেই ইয়াবা সাপ্লাই হয়ে আসছে পুরো উত্তরাতে।

আমরা মালিককে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করবো। আটকদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বিস্তারিত জানানো হবে। তাৎক্ষণিকভাবে আটকদের বিস্তারিত পরিচয় জানাতে পারেননি তিনি।

উল্লেখ্য, গত ৩১ জানুয়ারি জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে বিরোধী দলের সদস্যের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর কথা বলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজই মাদক বিরোধী অভিযান। এরপর অধিদফতর আরও নড়েচড়ে বসে। রাজধানীতে ভবঘুরে শিশু-কিশোরসহ মাদক ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে অভিযানে নামে অধিদফতর।

এরই অংশ হিসেবে মাদকবিরোধী সাঁড়াশি অভিযানের প্রথম দিন শুক্রবার, এরপর গতকাল থেকেই রাজধানীসহ সারাদেশে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর। সাঁড়াশি অভিযানের প্রথম দিনে ১৭ মাদক ব্যবসায়ীসহ ৩৬ জনকে আটক করা হয়।

মহাপরিচালক (ডিজি) মো. জামাল উদ্দীন আহমেদ বলেন, বিশেষ অভিযানের প্রথম দিনে রাজধানী কমলাপুর রেলস্টেশন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, চানখারপুল, গেন্ডারিয়া, টিটিপাড়া, খিলগাঁও, দক্ষিণ বনশ্রী, পুরানা পল্টন, ভাটারা, মতিঝিলসহ ২০টি পৃথক স্থানে অভিযান পরিচালিত হয়।

অভিযানে ১৯৬৫ পিস ইয়াবা, গাঁজা প্রায় তিন কেজি, বিয়ার ও ফেনসিডিল ১০ বোতল, মদ ৭ বোতল, ৮ রাউন্ড গুলিসহ একটি পিস্তল ও নগদ সাড়ে ৩ হাজার টাকা জব্দসহ মোট ৩৬ জনকে আটক করা হয়। এদের মধ্যে ১৭ জন মাদক ব্যবসায়ী। বাকিরা সবাই মাদকাসক্ত। এদের মধ্যে শিশু ১০ জন বাকিরা প্রাপ্তবয়স্ক। তাদের সবাইকে কেন্দ্রীয় মাদক নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে।

বিকেলে রাজধানীর ধানমন্ডীতে অভিযান চালায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরে ঢাকা মেট্রো ইউনিট। শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে রাত সাড়ে আটটা পর্যন্ত ধানমন্ডি ৫/এ এর ৭১ নং মেডিনোভা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরিচালিত অভিযানে পাঁচ বোতল ফেন্সিডিল, পাঁচ বিয়ারক্যান, দুইশ’ গ্রাম গাঁজা, ২৫টি খালি মদের বোতল ও দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। গ্রেফতার করা হয় প্রতিষ্ঠানটির সুপারভাইজার আব্দুল গফুরকে।

জেইউ/এমআরএম/আরআইপি