ক্যামেরা ট্র্যাপিংয়ে যেভাবে হয় বাঘ শুমারি

জাগো নিউজ ডেস্ক
জাগো নিউজ ডেস্ক জাগো নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯:২৯ এএম, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

সুন্দরবনে শুরু হয়েছে বাঘ শুমারি। বনটিতে বর্তমানে কতগুলো বাঘ আছে তার বের করা হবে। আগে পাগ-মার্ক বা পায়ের ছাপ পদ্ধতিতে বাঘ গণনা করা হলেও এখন ক্যামেরা ট্র্যাপিং পদ্ধতিতে এ শুমারি করা হয়।

কিভাবে হয় এই বাঘ শুমারি? এত বিশাল একটি বন, অনেকটা একইরকম ডোরাকাটা বাঘগুলোকে কিভাবে শনাক্ত করা হয়? এসব নানা প্রশ্নের বিবিসিকে উত্তর দিয়েছেন বাংলাদেশ বনবিভাগের খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক আমির হোসাইন চৌধুরী। তিনি জানান, ‘ছবি বিশ্লেষণের মাধ্যমে সুন্দরবনে বাঘের মোট সংখ্যা বের করা হয়ে থাকে।’

ক্যামেরা ট্র্যাপিং বা ক্যামেরার ফাঁদ পেতে এ শুমারি পদ্ধতি আবার কেমন? ছবি তোলার এ পদ্ধতির জন্য সুন্দরবনের কিছু জায়গা নমুনা (স্যাম্পল) হিসাবে নিয়ে তিনটি ব্লকে ভাগ করা হয়েছে। ব্লকের ২৩৯টি পয়েন্টে মোট ৪৭৮টি ক্যামেরা বসানো করা হয়েছে। এসব ক্যামেরার সামনে দিয়ে বাঘ বা কোনো প্রাণী চলাফেরা করলেই ছবি উঠবে।

আমির হোসাইন চৌধুরী জানান, ‘একজন মানুষের আঙুলের ছাপের সঙ্গে আরেকজনের ছাপের যেমন মিল নেই, তেমনি একটি বাঘের ডোরাকাটার সঙ্গে আরেকটি বাঘের মিল থাকে না। ক্যামেরায় তোলা ছবি সংগ্রহের পর কম্পিউটারের সফটওয়্যারে প্রতিটি বাঘ আলাদা করা যাবে। তখন ছবি ও তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করেই জানা যাবে সুন্দরবনে ঠিক কতগুলো বাঘ রয়েছে। আর এ কাজে বাংলাদেশ ও ভারতের বাঘ বিশেষজ্ঞরাও সহায়তা করবেন।’

সুন্দরবনের প্রতি দুই কিলোমিটার জায়গা নিয়ে একেকটি গ্রিড ঠিক করা হয়েছে। যেখানে দুইটি করে ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘ক্যামেরায় একেকটি বাঘের হয়তো শতাধিক ছবিও উঠতে পারে। সব মিলিয়ে হয়তো কয়েক হাজার ছবি উঠবে। এসব ছবি বিশ্লেষণ করে বাঘের সংখ্যা বের করা হবে।’

টানা আড়াই মাস ধরে চলবে এ ক্যামেরায় ছবি সংগ্রহের কাজ। এ জন্য বন বিভাগের ৬০ জন কর্মকর্তা কাজ করেছেন। সাধারণত বনের গভীরে যেখান দিয়ে বাঘ চলাচল করে সেসব জায়গায় এ ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। প্রায় বার ফুটের মতো বৃত্তাকার জায়গায় গাছপালা কেটে পরিষ্কার করে দু’পাশে দুইটি খুঁটি পোতা হয়। সেই খুঁটিতে বাঘের আনুমানিক উচ্চতায় ক্যামেরা বসানো হয়।

বৃত্তের চারপাশে থাকে জাল দিয়ে ঘেরা। বৃত্তটি এমনভাবে তৈরি করা হয় যে, কোনো বাঘ বা কোনো প্রাণী প্রবেশ করলেই সেটি ক্যামেরার সামনে পড়বে। এছাড়া ক্যামেরার সামনে বাঘকে আকষর্ণ করতে বৃত্তের মতো খালিকটা জায়গা পরিষ্কার করে একটি পাত্রে পানি রাখা হয়। আর একটি কাঠির মাথায় কাপড়ে বেধে রাখা হয় স্টিংক বম্বের দ্রবণ। সেখান থেকে অনেকটা পচা মাংসের মতো গন্ধ বের হয়।

স্থাপন করা ক্যামেরাগুলো সারাক্ষণই চালু থাকে এবং লেন্সের সামনে কোনো নড়াচড়া ধরা পড়লেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ছবি তোলে। প্রতি দশ মিনিটে একটি স্থিরচিত্র ও দশ সেকেন্ডের ভিডিও ধারণ করতে পারে ক্যামেরাগুলো। এছাড়া রাতের বেলায় ক্যামেরাতে ব্যবহার হয় ব্ল্যাক ফ্ল্যাশ। তবে খালি চোখে এ ফ্ল্যাশের আলো দেখা যায় না।

পাঁচদিন পর পর এসব ক্যামেরায় থাকা মেমোরি কার্ড থেকে ছবি সংগ্রহ করবেন বনকর্মীরা। এ সময় ব্যাটারি পাল্টানো বা ক্যামেরা মেরামতের দরকার হলে তাও করা হয়।

উল্লেখ্য, সর্বশেষ ২০১৫ সালে সুন্দরবনে বাঘ শুমারি হয়েছিল। সেই শুমারি অনুযায়ী সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশে ১০৬টি বাঘ রয়েছে। তার আগের ২০০৪ সালের পাগ-মার্ক বা পায়ের ছাপ পদ্ধতিতে হওয়া শুমারি অনুযায়ী বনে বাঘের সংখ্যা ছিল ৪৩০টি।

আরএস/আরআইপি

আপনার মতামত লিখুন :