অর্গানিক পদ্ধতিতে চা উৎপন্ন করতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৩:৫৫ পিএম, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮
ফাইল ছবি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, চা মোড়কজাত ও বাজারজাতকরণে নতুনত্ব আনতে হবে। কেমিক্যাল ফার্টিলাইজার ও পেস্টিসাইডস ব্যবহার না করে অর্গানিক পদ্ধতিতে বাংলাদেশে চা উৎপন্ন করতে হবে। এটা করতে পারলে বিদেশে বাংলাদেশের চায়ের চাহিদা আরও বাড়বে। প্রধানমন্ত্রী চায়ের গুণগত মান ও উৎপাদন বৃদ্ধি, পোকামাকড় দমনে নতুন নতুন উপায় উদ্ভাবনসহ ফ্লেভার্ড চা এর বিষয়ে গবেষণাকে জোরদারের নির্দেশনা দেন বাগান মালিকদের।

রোববার রাজধানীর আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) ‘বাংলাদেশ চা প্রদর্শনী- ২০১৮’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ নির্দেশনা দেন।

অনুষ্ঠান থেকে প্রধানমন্ত্রী রাজধানীর মতিঝিলে চা বোর্ডের নিজস্ব জায়গায় ৩০তলা ‘বঙ্গবন্ধু চা ভবন’ নির্মাণের ভিত্তি ফলক উদ্বোধন করেন। আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি-২ বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) আয়োজিত এ চা প্রদর্শনী চলবে আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। এখানে বিভিন্ন চা ও চা-জাত পণ্যের পাশাপাশি গবেষণার উল্লেখযোগ্য সাফল্যগুলো প্রদর্শন করা হচ্ছে।

বক্তব্য শেষ পরে বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। এর আগে চা বহুমুখীকরণসহ সাতটি ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখার জন্য শ্রেষ্ঠ সাত প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, সাতকড়া চা, লেমন চা, মশলা চা, জিনজার চা, তুলসি চা এবং টি সোপ, টি শ্যাম্পু, টি টুথপেস্ট, টি কোলা, চা এর আচারসহ বিভিন্ন ধরনের চা, চা-জাত পণ্য ও প্রসাধনী সামগ্রীর কথা উল্লেখ করেন তিনি। বিদেশে চায়ের অবশিষ্ট পাতা থেকে এ গুলো তৈরি হচ্ছে। আমাদেরও এসব পণ্য ও প্রসাধনী তৈরি করে বিদেশি মার্কেট ধরতে হবে।

সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপে চা উৎপাদন ও মান বৃদ্ধির কথা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৭০ সালে বাংলাদেশের চায়ের উৎপাদন ছিল ৩ কোটি কেজি। বর্তমানে এর উৎপাদন ৮ কোটি ৮৫ লাখ কেজি। এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে ২০২৫ সাল নাগাদ চায়ের উৎপাদন ১৪ কোটি কেজিতে পৌঁছাবে।

চা বাগানে কর্মরত শ্রমিকদের কল্যাণে নজর দিতে বাগান মালিকদের প্রতি নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, আমরা সরকার গঠনের পর চা খাতের উন্নয়নে নানা পদক্ষেপ নিয়েছি। শুধু মালিকদের নয়, চা শ্রমিকদের কল্যাণেও কাজ করেছি। কারণ তারাই তো (শ্রমিক) মাথার ঘাম পায়ে ফেলে চায়ের উৎপাদন করেন, পাতা তুলেন, বাগানের পরিচর্যা করেন। তাদের কল্যাণে বিশেষ করে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের প্রতি আপনাদের নজর দিতে হবে। পাশাপাশি শ্রমিকরাও বেশ আন্তরিকতা দিয়ে তাদের কাজটুকু করবেন বলে আমি বিশ্বাস করি। কারণ যে বাগানে কাজ করে আপনাদের বেতন হয়, জীবন চলে, ছেলে-মেয়ের লেখাপড়া চলে সে বাগানের দিকে নজর দেয়া শ্রমিকদের দায়িত্ব।

চা গবেষণা কেন্দ্রে চায়ের আচার তৈরি করেছে জানিয়ে শেখ হাসিনা জানান, প্রথম প্রথম এটার স্বাদ ভালো বোঝা যায় না। কিছুদিন রেখে দিলে এ আচার খেতে বেশ মজা। চেয়ারম্যান সাহেব (টি বোর্ডের চেয়ারম্যান) চায়ের আচার বানিয়েও আমাকে দিয়েছেন। বানানোর পর তাৎক্ষণিকভাবে খুব একটা ভালো লাগেনি খেতে, কিন্তু বেশ কিছুদিন রাখার পর দুই তিনদিন আগে আমি একটু টেস্ট করে দেখলাম, খেতে তো মজাই লাগে, ভালোই।

উপহার সামগ্রীর তালিকায় চাও অন্তর্ভুক্ত হয়েছে বলেও জানান শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, বিদেশিদের যখন আমরা উপহার দেই তখন সিরামিকের সামগ্রী, একটি টি পট এবং এর ভেতরে চা দেয়া হয়। এ ক্ষেত্রে কিন্তু আপনাদের অ্যাডভান্সমেন্ট আমি করে দিচ্ছি।

বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট ১৯৯৩ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত গবেষণা করে চা ক্লোন বিটি-২১ উদ্ভাবন করে। ক্লোনটি লাল মাকড় প্রতিরোধী ও খরা সহিষ্ণু আর্দশ ক্লোন। এ ক্লোনটি অধিক উৎপাদনশীল। প্রধানমন্ত্রী উদ্ভাবিত বিটি-২১ ক্লোনটি অবমুক্ত করেন অনুষ্ঠানে।

এফএইচএস/জেএইচ/আইআই

আপনার মতামত লিখুন :