আবিদের স্ত্রীর মাথার খুলি খুলে রাখা হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২:২৩ পিএম, ২০ মার্চ ২০১৮ | আপডেট: ১২:৪২ পিএম, ২০ মার্চ ২০১৮
প্রিয় স্বামীকে হারিয়ে ভেঙে পড়েছেন স্ত্রী আফসানা খানম টপি, (মাঝে) তাকে সান্ত্বনা দিচ্ছেন স্বজনরা। ১৩ মার্চের ছবি।

নেপালে ইউএস-বাংলার উড়োজাহাজ বিধ্বস্তের ঘটনায় নিহত ক্যাপ্টেন আবিদ সুলতানের স্ত্রী আফসানা খানম টপির অবস্থা সঙ্কটপূর্ণ। চিকিৎসকরা তার মাথার খুলি খুলে রেখেছেন। স্বামী মারা যাওয়ার পর স্ট্রোক করে তিনি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। 

মঙ্গলবার আগারগাঁওয়ের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স অ্যান্ড হাসপাতালের যুগ্মপরিচালক প্রফেসর ড. বদরুল আলম মন্ডল এ কথা জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ক্যাপ্টেন আবিদের স্ত্রী বেঁচে আছেন। তবে তার অবস্থা সঙ্কটপূর্ণ। তবে তার কিডনি, হার্ট লিভার সব সচল রয়েছে। তার রক্ত চাপ ১২০/৮০। কিন্তু তার ব্রেন স্বাভাবিক রেসপন্স করছে না। যন্ত্রের সাহায্যে তার শ্বাস-প্রশ্বাস চলছে।
বদরুল আলম আরও বলেন, আমরা তার চিকিৎসা চালিয়ে যাব। আগামীকাল সকাল ১০টায় তার চিকিৎসায় ৭ সদস্যের আরেকটি মেডিকেল টিম গঠন করা হবে।

আফসানা খানমের বর্তমান অবস্থার কথা বলতে গিয়ে তিনি আরও বলেন, তার মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল বিঘ্ন ঘটায় আমরা সিটি স্ক্যান করার পর অস্ত্রপচার করি। কিন্তু পরশু রাতে তিনি আবার স্ট্রোক করেন। এরপর রাত ১২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত আমরা আরেকটা অপারেশন করি। এরপর আমরা তার মাথার খুলি খুলে রেখেছি। এটা তখনই করা হয় যখন কারো মস্তিষ্কের ওপর অতিরিক্ত চাপ যায়।

‘কেউ ন্যাচারালি ডেড না হওয়া পর্যন্ত আমরা তাকে ডেড বলব না’ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

গত ১২ মার্চ ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট বিএস-২১১ নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিধ্বস্ত হয়। দুর্ঘটনায় পাইলট আবিদ সুলতানকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হলেও একদিন পর ১৩ মার্চ তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

আফসানার এক আত্মীয় জানান, এভাবে স্বামীর মৃত্যু কিছুতেই মেনে নিতে পারছিলেন না আফসানা খানম। স্বামীকে হারিয়ে কখনও বাকরুদ্ধ কখনও অস্বাভাবিক আচরণ করছিলেন। স্বামী মারা যাননি, সবাই মিথ্যা কথা বলছে, আবিদ ফিরে আসবে, আবিদ তাকে সঙ্গে না নিয়ে মরতে পারে না- এমন প্রলাপ বকতে থাকেন।

এ অবস্থায় রোববার বাসায় ব্রেইন স্ট্রোক করেন তিনি। এরপর পরিবারের সদস্যরা তাকে আগারগাঁওয়ের নিউরো সায়েন্স হাসপাতালে ভর্তি করেন। তার মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হওয়ায় অস্ত্রোপচারের পর নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়।

এদিকে, নিহত পাইলট ক্যাপ্টেন আবিদ সুলতানের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। বনানীর সামরিক কবরস্থানে সোমবার সাড়ে ৮টার দিকে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।

আর্মি স্টেডিয়ামে জানাজা শেষে সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় তার মরদেহ বনানীর সামরিক কবরস্থানে আনা হয়। এ সময় ক্যাপ্টেন আবিদের সন্তান তামজিদ সুলতান মাহি (১৪) ও অন্য স্বজনেরা উপস্থিত ছিলেন।

জেইউ/এনএফ/পিআর


আরও পড়ুন