‘যৌন সহিংসতা রোধে নিরাপত্তা পরিষদকেই দায়িত্ব নিতে হবে’

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩:৫৯ পিএম, ১৭ এপ্রিল ২০১৮ | আপডেট: ০৪:০৪ পিএম, ১৭ এপ্রিল ২০১৮
‘যৌন সহিংসতা রোধে নিরাপত্তা পরিষদকেই দায়িত্ব নিতে হবে’

সংঘাতময় পরিস্থিতিতে যৌন সহিংসতা প্রতিরোধে যদি সংশ্লিষ্ট দেশ এগিয়ে না আসে তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বিশেষ করে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে দায়িত্ব নেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি তারেক মো. আরিফুল ইসলাম এ আহ্বান জানান।

গতকাল (সোমবার) জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ‘নারীর ক্ষমতায়ন, লিঙ্গ সমতা ও ন্যায়বিচার পাওয়ার মাধ্যমে সংঘাতময় পরিস্থিতিতে যৌন সহিংসতা প্রতিরোধ’ বিষয়ক উন্মুক্ত বিতর্কে এ আহ্বান জানান তিনি।

নিরাপত্তা পরিষদের এপ্রিল মাসের সভাপতি এ বিতর্কের আয়োজন করে। মঙ্গলবার সরকারি এক তথ্য বিবরণীতে এ তথ্য জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে ‘সংঘাতময় পরিস্থিতিতে যৌন সহিংসতা’ বিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ প্রতিনিধি প্রমিলা প্যাটেন এবং ‘নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা’ বিষয়ক এনজিও ওয়ার্কিং গ্রুপের পক্ষে রোহিঙ্গা প্রতিনিধি রাজিয়া সুলতানা বক্তব্য দেন। জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নারী ও শিশুদের চ্যালেঞ্জ এবং সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি তুলে ধরেন রাজিয়া সুলতানা।

উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি বলেন, বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া যৌন সহিংসতার শিকার বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা নারীদের একটি বড় অংশ গর্ভবতী। তাদের কথা এবং প্রজনন স্বাস্থ্যসহ অন্যান্য শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যগত বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেয়ার কথা উল্লেখ করেন তিনি।

নির্যাতিত এসব নারী ও শিশুরা যাতে তাদের জীবন ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নিতে পারে সে জন্য তাদের পাশে দাঁড়াতে কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ এবং সেবাদানকারীদের ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি।

বাংলাদেশের প্রতিনিধি আরও বলেন, অতিরিক্ত সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত না হলে এ জাতীয় ঘৃণিত ঘটনা বন্ধ হবে না এবং মর্যাদাসহ নিরাপদে ও নিরাপত্তার সঙ্গে নিজ ভূমিতে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রত্যাবর্তন আশার আলোও দেখবে না। সহিংসতার শিকার এসব রোহিঙ্গা নারী ও শিশুদের জন্য বাংলাদেশ সরকার সব পক্ষের সঙ্গে পরামর্শ করে একটি জাতীয় কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করতে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।

সংঘাত সংশ্লিষ্ট যৌন সহিংসতার ওপর মহাসচিবের রিপোর্টের সুপারিশমালাকে ভিত্তি ধরে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার প্রতি হুমকি সৃষ্টিকারী ‘সংঘাতময় পরিস্থিতিতে যৌন সহিংসতা’র বিষয়ে সুদৃঢ় পদক্ষেপ নিতে নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি আহ্বান জানান বাংলাদেশ প্রতিনিধি।

অনুষ্ঠানে নিরাপত্তা পরিষদের ১৫টি সদস্য দেশসহ প্রায় ৭০টি দেশের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।

এমইউএইচ/এএইচ/এমএস