সংসদে এমপি জালাল

নতুন ব্যাংক নোটে নকশায় ত্রুটি, বাজারে বাড়ছে জালনোট

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:৫৬ পিএম, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

অন্তবর্তী সরকার তড়িঘড়ি করে নতুন ব্যাংক নোট ছাপিয়েছে। নতুন ব্যাংক নোটে নকশায় ত্রুটি থাকায় বাজারে জালনোট বিস্তার উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে বলে জানান চাঁদপুর-২ (মতলব উত্তর-মতলব দক্ষিণ) আসনের সংসদ সদস্য ড. মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে জরুরি জনগুরুত্ব বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ করে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

জালাল উদ্দিন বলেন, অন্তর্বর্তী সময়ে নতুন করে তড়িঘড়ি করে ব্যাংক নোট ছাপানোর ফলে সমস্যা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে নোটের নকশায় ত্রুটি-নিম্নমানের গ্রাফিক্স, যথাযত নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তার অভাব রয়েছে। সিকিউরিটি ফিচারে সামঞ্জস্যহীন বিন্যাস এবং যথাযথ অবস্থান না হওয়ায় ব্যাংক নোটে পরিপূর্ণতার ঘাটতি রয়েছে। ফলে অতি সহজে নোটগুলো জাল করা সম্ভব বিধায় বাজারে উদ্বেগ হারে জালনোট বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতিনিয়ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হচ্ছে।

তিনি বলেন, ১৫ এপ্রিল সদরঘাট থেকে ৪০ লাখ টাকা জালনোট উদ্ধার হয়েছে, ১২ এপ্রিল গুলশান থেকে ৫০ লাখ টাকার জালনোট উদ্ধার হয়েছে। জালনোটের মহোৎসব হলো কোরবানির গরুর হাটে ব্যস্ত বাজার, পাইকারি মার্কেটে, কাঁচাবাজার, মাংসের দোকান এবং যেখানে স্বল্প সময়ে দ্রুততম লেনদেন হয়। বাস টার্মিনাল, লঞ্চ টার্মিনাল, রেলস্টেশন, সীমান্ত এলাকায় ছোট ছোট মুদি দোকানগুলোতে, গ্রামের সাধারণ মানুষের কাছে সন্ধ্যার সময় আলোকবিহীন এলাকা এবং দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের মধ্যে জালনোট ব্যবহার হয়। জনগণের মধ্যে ক্রমান্বয়ে ব্যাংক নোটের প্রতি আস্থা কমে যাচ্ছে। বিধায় এটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এর কুফল প্রতিটা মানুষ ভুক্তভোগী। এর ফলে নতুন ব্যাংক নোট বিতরণে অনাগ্রহ চলছে। সরকারের প্রতি মানুষের আস্থা কমাসহ অর্থনীতি একটি ঝুঁকির মধ্যে ধাবিত হচ্ছে।

সংসদে তিনি আরও বলেন, নতুন নোটের ত্রুটি-বিচ্যুতির কারণ কি? বাংলাদেশ ব্যাংকের টাকশালে ৪০ বছরের অধিক সময়ে ব্যাংক নোট মুদ্রণ হচ্ছে। তবে কেন এই অবস্থা। এই বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামত, স্বল্প সময়ে ব্যাংক নোট মুদ্রণ, নকশায় অপরিপক্কতার ছাপ, নোট মুদ্রণের বাঁকে বাঁকে রয়েছে ভিন্ন পথ ও মতের ব্যক্তিদের কারসাজি।

ফ্যাসিস্ট সরকার ৬০ হাজার কোটি টাকা ছাপিয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকার অবৈধভাবে ৬০ হাজার কোটি টাকা ছাপিয়েছিল। ফলে দেশের মুদ্রাস্ফীতি অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। এতে সাধারণ মানুষের কষ্ট ও ভোগান্তি বেড়েছে। যখন ফ্যাসিস্ট সরকারের রাজভান্ডার শূন্যের কোঠায় তখন ৬০ হাজার কোটি টাকা মসনদ টিকিয়ে রাখতে ব্যবহার হয়েছিল। এই টাকা ব্যবহার হয়েছিল ছাত্র-জনতার আন্দোলন বন্ধ করার লক্ষে। নির্বিচারে গুম-খুন গুলিবর্ষণের পেছনে অর্থ জোগান দিয়েছিল ওই ৬০ হাজার কোটি টাকা। তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে। জাল টাকা বিস্তার, ব্যাংক লুট এবং নতুন নোট বিতরণ একই সুতায় গাঁথা।

এমওএস/এমআইএইচএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।