বেরোবিতে ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত কম্পিউটার ল্যাব ছয় বছর ধরে তালাবদ্ধ
উত্তরবঙ্গের বাতিঘর রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের শিক্ষার্থীদের জন্য কম্পিউটার ল্যাব গত ছয় বছর ধরে তালাবদ্ধ পড়ে আছে। এতে ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের অন্তর্ভুক্ত বিভাগগুলোর শিক্ষার্থীরা প্র্যাকটিক্যাল কোর্সগুলোতেও ল্যাব ব্যবহার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ল্যাব সুবিধা ছাড়াই শিক্ষাজীবন শেষ হচ্ছে তাদের।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক শাখার সূত্রে জানা গেছে, বাণিজ্য অনুষদের অধীনে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ, মার্কেটিং, অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস্, ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং ও ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের অধীনে প্রায় ১ হাজার ৫৯৬ শিক্ষার্থী রয়েছে।
২০১২-১৪ অর্থবছরে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে উচ্চশিক্ষার মান উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় কম্পিউটার ল্যাব স্থাপনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) মাধ্যমে বেরোবির বাণিজ্য অনুষদকে ৭৫ লাখ টাকা দেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সে সময়ের বাণিজ্য অনুষদের ডিন অধ্যাপক মতিউর রহমানের হাত ধরেই ল্যাবের কার্যক্রম শুরু করা হয়। ল্যাবটি দেখার জন্য আলাদা করে জনবলও রাখা হয়েছিল। কিন্তু ২০১৯ সালের পরে কম্পিউটার ল্যাবের জন্য আলাদা করে জনবল নেওয়া হয়নি। ফলে অকেজো হতে থাকে কম্পিউটারের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ।
ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী ইমন আলী বলেন, বিজনেস ফ্যাকাল্টি ল্যাব দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই দেখছি, এটা বন্ধ। আমাদের কম্পিউটার রিলেটেড কোর্স থাকে। কম্পিউটার কোর্সগুলো হাতে-কলমে শেখার জন্য ল্যাবটি সচল থাকা প্রয়োজন ছিল।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের শিক্ষার্থী তাইবুর বলেন, বিবিএতে আমাদের একাধিক প্রাকটিক্যাল কোর্স থাকলেও অনুষদের ল্যাব অকেজো থাকায় ল্যাব ব্যবহারের সুবিধা পায়নি। ফলে ল্যাব ব্যবহার ছাড়াই বিবিএ এবং শিক্ষাজীবন শেষ করতে হচ্ছে। এতে আমরা প্রয়োগিক জ্ঞানে অন্যদের থেকে পিছিয়ে পড়ছি।
ব্যবসা শিক্ষা অনুষদের ডিন প্রফেসর মোহাম্মদ ফেরদৌস রহমান বলেন, ল্যাবটি ঠিক করে দেওয়ার বিষয়ে প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপাচার্য ঠিক করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত তেমন অগ্রগতি দেখতে পায়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. শওকাত আলী বলেন, ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ল্যাবটির বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল শাখাকে একটি বাজেট পরিকল্পনা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রকৌশল শাখার পরিকল্পনাটি পেলে আমরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ল্যাবটি সংস্কার করে দেবো।
আজিজুর রহমান/এনএইচআর