নন-লিথেল অস্ত্র ব্যবহারে সীমান্তে হত্যা কমেছে : বিএসএফ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:০৩ পিএম, ২৬ এপ্রিল ২০১৮

সীমান্তে হত্যা শূন্যে নামিয়ে আনার কথা বলা হচ্ছে। কী ধরনের পদক্ষেপ ভারতের সীমান্ত বাহিনী নিয়েছে? জানতে চাওয়া হলে ভারতীয় সিমান্ত বাহিনী বিএসএফের মহাপরিচালক কে কে শর্মা বলেন, ভারত মানবাধিকারে বিশ্বাস। ভারত কিংবা বাংলাদেশের কোনো বাহিনীর কাছেই সীমান্ত হত্যা কাম্য নয়। বিএসএফ সীমান্ত হত্যা বন্ধে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে। সেইসঙ্গে ভারতীয় নাগরিকদের সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, নন লিথেল অস্ত্র ব্যবহারের ফলে সীমান্তে প্রাণঘাতির ঘটনা কমে এসেছে। ২০১৪ সালে সীমান্তের হত্যার ঘটনা ছিল ১৬টি। তবে চলতি বছর এখন পর্যন্ত কোনো হত্যার ঘটনা ঘটেনি। এ কৌশল (নন লিথেল অস্ত্রের ব্যবহার) অবলম্বনের কারণে অপরাধীদের দ্বারা বিএসএফ সদস্যদের ওপর আক্রমণের ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। বিএসএফ সদস্যরা শুধু অাত্মরক্ষার্থেই নন লিথেল অস্ত্র ব্যবহার করতে বাধ্য হয় বলেও তিনি দাবি করেন।

ঢাকার পিলখানায় ৪৬তম বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (বিএসএফ) মধ্যে সীমান্ত সম্মেলন বৃহস্পতিবার শেষ হয়েছে। এ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে যৌথ আলোচনার দলিল (জেআরডি-জয়েন্ট রেকর্ড অব ডিসকাশন) স্বাক্ষরিত হয়। এই স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে কে কে শর্মার কাছে বিষয়টি জানতে চাওয়া হলে তিনি এসব কথা বলেন।

মাদক-চোরাচালান বন্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে জানতে চাইলে কে কে শর্মা বলেন, উভয়পক্ষে প্রাণঘাতির ঘটনা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে গবাদি পশু ও মাদক চোরাচালানপ্রবণ এলাকায় যৌথ টহল পরিচালনা, সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী নাগরিকদের মধ্যে আন্তর্জাতিক সীমান্ত ব্যবস্থাপনা বিধি-নিষেধ সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি ও অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম বন্ধে যৌথ পদক্ষেপ গ্রহণে বিএসএফ সম্মত।

bgb-2

বিজিবি মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল মো. সাফিনুল ইসলাম বলেন, বহিরাগত নাগরিকদের বর্ডার পারাপার বন্ধের ব্যাপারে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তবাহিনীর মধ্যে আলোচনা হয়েছে। মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গাদের কাজে লাগিয়ে কোনো স্বার্থান্বেষী মহল যাতে কোনো অপকর্ম কিংবা ষড়যন্ত্র করতে না পারে সে ব্যাপারে যৌথভাবে কাজ করে যাচ্ছে দুই দেশের সীমান্তবাহিনী।

সীমান্তে ফেলানী হত্যাকাণ্ডের বিচার সম্পর্কে জানতে চাইলে বিজিবি প্রধান বলেন, ফেলানী হত্যার বিষয়টি ভারতের আদালতে বিচারাধীন। যে কারণে আমরা এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে পারছি না।

উল্লেখ্য, সম্মেলনে বিএসএফ মহাপরিচালক কে কে শর্মার নেতৃত্বে ১০ সদস্যের ভারতীয় প্রতিনিধিদল অংশগ্রহণ করে। প্রতিনিধিদলে বিএসএফ সদর দফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ফ্রন্টিয়ার আইজি, ভারত সরকারের স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারাও রয়েছেন।

অন্যদিকে সম্মেলনে বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল সাফিনুল ইসলামের নেতৃত্বে ১৫ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল অংশ নেয়। বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলে বিজিবির অতিরিক্ত মহাপরিচালকরা, বিজিবি সদর দফতরের সংশ্লিষ্ট স্টাফ অফিসাররা ছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, যৌথ নদী কমিশন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর, সার্ভে অব বাংলাদেশ এবং ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদফতরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রতিনিধিত্ব করেন।

এবারের সম্মেলনের আলোচ্য বিষয়ের মধ্যে সীমান্ত এলাকায় নিরস্ত্র বাংলাদেশি নাগরিকদের গুলি, হত্যা, আহত করা, বাংলাদেশি নাগরিকদের অপহরণ, আটক, অস্ত্র ও গোলাবারুদ পাচার, সীমান্তের অপর প্রান্ত থেকে বাংলাদেশে ফেনসিডিল, মদ, গাঁজা, হেরোইন এবং ইয়াবা ট্যাবলেটসহ মাদক ও নেশাজাতীয় দ্রব্যের চোরাচালান বন্ধ, অবৈধভাবে আন্তর্জাতিক সীমান্ত অতিক্রম, আন্তর্জাতিক সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে উন্নয়নমূলক নির্মাণ কাজ, আখাউড়া আইসিপির ভারতীয় অংশে ইটিপি (এফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্লান্ট) স্থাপন, উভয় দেশের সীমান্তে নদীর তীর সংরক্ষণ কাজে সহায়তা, চোরাচালানী ও অপরাধীদের বিষয়ে তথ্য বিনিময় এবং উভয় বাহিনীর মধ্যে পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধির উপায় আলোচনায় গুরুত্ব পায়। সম্মেলন শেষে যৌথ আলোচনার দলিল (জেআরডি-জয়েন্ট রেকর্ড অব ডিসকাশন) স্বাক্ষরিত হয়।

আগামীকাল ২৭ এপ্রিল পঞ্চগড়ের বাংলাবান্দা আইসিপিতে বিজিবি প্রধান ও বিএসএফ মহাপরিচালক যৌথভাবে জয়েন্ট রিট্রিট সেরিমনি উদ্বোধন করবেন এবং একই দিনে বাংলাদেশ ত্যাগ করবে বিএসএফের ১০ সদস্যের প্রতিনিধিদল।

জেইউ/জেডএ/পিআর

আপনার মতামত লিখুন :