কোকোলার মোড়কে নকল কোকাকোলা নুডলস

মো. শফিকুল ইসলাম
মো. শফিকুল ইসলাম মো. শফিকুল ইসলাম , নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭:৫০ পিএম, ২০ মে ২০১৮

ছোট-বড় সবার বেশ পছন্দের খাবার নুডলস। অতিথি আপ্যায়নে নুডলসের জুড়ি নেই। তাই বাজারে নামে-বেনামে নুডলসেরও অভাব নেই! কিন্তু কোথায় তৈরি হচ্ছে এসব নুডলস? নুডলসের নামে এসব কি খাচ্ছি আমরা? সেটা কি আসলেই আসল-নাকি নকল?

উত্তর খুঁজতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেল ভয়াবহ তথ্য। রাজধানীর কদমতলী এলাকার পূর্ব ধনিয়া জনতা বাগে মেইন রোড থেকে ভেতরে গলির মধ্যে অবস্থিত কোকোকোলা নুডলস এর নকল কারখানা। ভেতরে ঢুকতেই দুর্গন্ধ। ময়দার খামিতে উড়ছে মাছি। নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে নুডলস তৈরি হচ্ছে। সেই নুডলসের ওপর বসে প্যাকেট করছেন কর্মীরা। নকল এসব নুডলস আকর্ষণীয় নামি-দামি কোম্পানির মোড়কে রাজধানীসহ সারা দেশে বাজারজাতও হচ্ছে। আসল না নকল বাইরে থেকে বোঝার উপায় নেই।

media

এমনই এক প্রতিষ্ঠান কোহিনুর ফুড প্রোডাক্ট। অনুমোদন ছাড়াই কোকাকোলা তান্দুরী চিকেন নুডলস তৈরি করছে। প্রতিষ্ঠানটিতে রোববার জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর ও বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে অভিযান চালায়।

প্রতিষ্ঠানটি বিএসটিআই’র একটি পণ্যের অনুমোদন নিয়ে একাধিক পণ্য উৎপাদন করছে। আকর্ষণীয় নামি-দামি কোম্পানির মোড়ক নকল করে নুডলস প্যাকেট ও বাজারজাত করছে। যার গুণগত মান নেই। এছাড়া নুডলস তৈরি করা হচ্ছে দুর্গন্ধময়, নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে।

এসব অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটিকে দু’টি পৃথক আইনে মোট ৪ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এর মধ্যে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ করে তিন লাখ টাকা। আর ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর জরিমানা করে এক লাখ টাকা। একই সঙ্গে কারখানায় থাকা নকল নুডলস জব্দ করে নষ্ট করা হয়।

media

অভিযানের পরিচালনা করেন বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের পরিচালক আমিরুল ইসলাম, প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবু সাইদ মোহাম্মদ নোমান, ভোক্তা অধিদফতরের ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের উপ-পরিচালক (উপ-সচিব) মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার। এ সময় সঙ্গে ছিলেন অধিদফতরের সহকারী পরিচালক নাজরিন সুলতানা ও নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক কামরুল হাসান। অভিযানে সার্বিক সহযোগিতা করেন আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ান (এপিবিএন)-১ ও ১১ এর সদস্যরা।

উপ-পরিচালক মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার বলেন, একটি গোপন অভিযোগের প্রেক্ষিতে আজকে যৌথ অভিযান চালিয়েছি। কোহিনুর ফুড প্রোডাক্ট এর নামে কোকাকোলা ব্র্যান্ডের নামে একটি অনুমোদন নিয়ে একাধিক নকল পণ্য তৈরি ও বাজারজাত করছে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটির ভেতরে দুর্গন্ধ, নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ। মাছি উড়ছে। নুডলসের উপর বসেই সবাই প্যাকেট করছে। যারা কাজ করছে তাদের ঘাম পড়ছে খাবারে। এসব পরিবেশে খাদ্যপণ্য তৈরি স্বাস্থ্যসম্মত নয়। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটি কোকোলা ব্র্যান্ডের মোড়ক নকল করে নুডলস বিক্রি করে ভোক্তার সঙ্গে প্রতারণা করছে। এ অভিযোগে তাদের জরিমানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির সব পণ্য জব্দ করে ধ্বংস করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি অঙ্গীকার করেছে আর নকল পণ্য তৈরি করবে না। স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে খাদ্যপণ্য তৈরি করবে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সংশোধন না হলে প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করা হবে।

media

প্রতিষ্ঠানটির এক কর্মী জানান, সেখানে প্রতিদিন ৫০০ থেকে ৬০০ কেজি নুডলস তৈরি হয়। এগুলো রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্রি করা হয়। মালিক দীর্ঘদিন ধরে এ ব্যবসা করেন। আমাদের নুডলসের প্যাকেট কোকোলার মতো। বাজারের অনেকে বুঝতেই পারেন না। অনুমোদন আছে আমরা জানি। কিন্তু কিছুদিন পরপর পুলিশসহ বিভিন্ন সংস্থার লোকজন আসে জরিমানা করে। চলে যায় এভাবেই চলছে। আমরা কাজ করি এর বেশি কিছু বলতে পারবো না।

এসব অভিযোগের বিষয়ে নকল প্রতিষ্ঠানটির মালিক বেল্লাল হোসেন অভিযোগ স্বীকার করে বলেন, ‘আমাদের ভুল হয়েছে। আমরা সংশোধন করবো। নোংরা পরিবেশও পরিষ্কার করে ফেলবো।’

এসআই/এসএইচএস/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :