ঈদ শুভেচ্ছায় নেই সেই প্রাণের ছোঁয়া

মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল
মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল , বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ১০:০৪ পিএম, ১৪ জুন ২০১৮

‘বিশ রোজা পর্যন্ত দুই তিনবার নিউ মার্কেটসহ একাধিক মার্কেটে দেশি-বিদেশি ঈদ কার্ডের জন্য ঢুঁ মারতাম। ছাত্র অবস্থায় পকেটে টাকা কম থাকায় বিদেশি কার্ড কেনার সামর্থ্য ছিল না। তবে নীল, হলুদ ও গোলাপিসহ বিভিন্ন রঙ-বেরঙের ঈদকার্ডগুলো হাতে নিয়ে নেড়ে চেড়ে দেখতাম। ঈদ শুভেচ্ছা জানিয়ে ইংরেজিতে অাঁকাবাঁকা হরফের লেখাগুলো পড়ে পছন্দের কাউকে দিতে মনটা উতলা হয়ে উঠতো। দামি কার্ড কিনতে না পারায় কোটেশনগুলো লিখে নিয়ে আসতাম। ওই সময় একটু কম দামে আজাদ প্রোডাক্টসের কার্ড ছাড়া চারুকলার শিক্ষার্থীদের হাতে অাঁকা কার্ডগুলো কিনতাম। কার্ড দিতে ও পেতে কি যে ভালো লাগা কাজ করত তা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। আর এখন ডিজিটাল যুগে কম্পিউটারের কি বোর্ড চাপলেই ঈদ কার্ড। কিন্তু সেই ঈদ কার্ড শুভেচ্ছায় নেই সেই আগের মতো প্রাণের ছোঁয়া।‘

বৃহস্পতিবার বিকেলে গভর্নমেন্ট নিউমার্কেটের ভেতরে অাইডিয়াল প্রোডাক্টস নামের একটি দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে তরুণী মেয়েকে এসব কথা বলছিলেন কলাবাগানের বাসিন্দা নাসিম আহমেদ নামের এক মধ্যবয়সী ভদ্রলোক। মেয়েকে নিয়ে দোকানে ঢুকে ঈদ কার্ড দেখতে না পেয়ে হতাশার সুরে এসব কথা বলছিলেন। তার কথা শুনে মেয়েটা হেসে বললো- ভেরি ইন্টারেস্টিং। শুধু নাসিম আহমেদ একা নন, পুরোনো দিনে ঈদ শুভেচ্ছা জানাতে সেই ঈদ কার্ড কেনাবেচাকে ঘিরে যে আনন্দ উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হতো বর্তমান জামানায় তা ফিকে হয়ে গেছে বলে অনেকেই মনে করেন।

Eid-Card-3

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে কাল বাদে পরশু ঈদ। ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় মোবাইল ফোন ও ইমেইলে মেসেজ অপশনে ঈদ শুভেচ্ছার ছড়াছড়ি। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও চলছে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় ও ডিজিটাল কার্ড আদান-প্রদানের ছড়াছড়ি। শুধু দেশীয় নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বন্ধুদেরকে ঈদ শুভেচ্ছা জানানোর প্রতিযোগিতাও চলছে।

রাজধানীর আজিমপুরের বাসিন্দা ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান জানান, ৯০ দশকের প্রথম দিকে নিউমার্কেটের ভেতরে কয়েক বন্ধু মিলে ঈদ কার্ডের দোকান বসান। সারা মাসজুড়ে পুরান ঢাকার বিভিন্ন পাইকারি দোকান থেকে কার্ড কিনে আনতেন। এছাড়া চারুকলার শিক্ষার্থীদের কাছে ব্যতিক্রমী আর্ট কার্ডের আগাম অর্ডার দিয়ে রাখতেন। সারা মাস কার্ড বিক্রি করে যত টাকা লাভ হতো তা দিয়ে বন্ধুরা সবাই মিলে ঈদের নতুন শার্ট কিনতেন। ‘তখন কি যে আনন্দ লাগতো'- বললেন হাবিবুর রহমান। তিনি জানান, ওই সময়কার তরুণ-তরুণীদের ঈদ কার্ড কিনতে আলাদা বাজেট থাকতো। প্রিয়জনের জন্য সুন্দর কার্ড কিনে উপহার দিতে পারলে ভীষণ খুশি হতো।

Eid-Card-3

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেল, এক সময় নিউমার্কেটের ১ নম্বর গেট দিয়ে প্রবেশ করে দক্ষিণ-পশ্চিম মুখে দোকানগুলোতে ঈদ কার্ডের ছড়াছড়ি থাকলেও এখন আর কার্ড বিক্রি হচ্ছে না। শুধুমাত্র আর্চিজ গ্যালারিতে হাতে গোনা বিদেশি কার্ড দেখা গেল। ডিজিটাল প্রযুক্তির ছোঁয়ায় আবেগ অনুভূতিও ডিজিটাল হয়ে গেছে মন্তব্য করলেন একজন দোকানি।

এমইউ/ওআর/পিআর

আপনার মতামত লিখুন :