পশুর হাটে র‌্যাব-পুলিশের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার পরিকল্পনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২:৫১ পিএম, ২১ জুলাই ২০১৮
ফাইল ছবি

পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে বসবে ২১টি পশুর হাট। হাটগুলোতে কোটি মানুষের সমাগম আর হাজার হাজার কোটি টাকার লেনদেন হবে। তাই সবকিছু মাথায় রেখে এবার রাজধানীর পশুর হাটে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার পরিকল্পনা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। হাটের শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে এবার সমন্বিতভাবে কাজ করবে মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি), আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) ও র‌্যাব।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) সূত্রে জানা গেছে, হাটে যে কোনো ধরনের নাশকতা এড়াতে, হাট ও ব্যাপারিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইজারাদারদের সঙ্গে বৈঠক করবেন ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া। এ ছাড়াও স্থানীয় সংসদ সদস্য ও পুলিশের উপ-কমিশনারদের (ডিসি) সঙ্গেও পৃথকভাবে বসার কথা রয়েছে।

ডিএমপির নিরাপত্তা পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রত্যেক হাটে পুলিশের কন্ট্রোল রুম এবং সিসিটিভি ক্যামেরা থাকবে। জাল টাকা শনাক্তে পুলিশ কন্ট্রোল রুমে থাকবে ইলেকট্রিক মেশিন এবং প্রজেক্টর। প্রজেক্টরে জাল টাকা ও অজ্ঞানপার্টি থেকে নিরাপদ থাকতে পুলিশের নির্মিত সচেতনতামূলক প্রামাণ্যচিত্র দেখানো হবে। হাটের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সাদা পোশাক ও ইউনিফর্মে থাকবে পুলিশের ১০০ ফিটের ওয়াচ টাওয়ার। দূরবীন হাতে হাটের সার্বক্ষণিক চিত্র পর্যবেক্ষণ করবেন পুলিশ সদস্যরা। প্রতিবারের মতো এবারও রাজধানীর পশুর হাটগুলোতে কোনো হকার বসতে দেবে না ডিএমপি।

সুষ্ঠু ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও নির্বিঘ্নে হাট পরিচালনায় ইজারাদারদের জন্য বিশেষ নির্দেশনা তৈরি করেছে ডিএমপি। নির্দেশনাগুলো হচ্ছে, জোর করে কোরবানির পশু হাটে না নামানো, নির্ধারিত সময়ের পূর্বে কোরবানির পশু হাটে ঢুকতে না দেয়া, সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক নির্ধারিত হারের বেশি হাসিল না রাখা, সিটি কর্পোরেশন এবং জেলা প্রশাসক কর্তৃক নির্ধারিত চৌহদ্দির বাইরে পশুর হাট না বসানো, নাইটমোডে ছবি ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন সিসিটিভি স্থাপন, জাল নোট শনাক্তে বুথ স্থাপন, নির্ধারিত হাসিলের তালিকা বড় করে ব্যানারে প্রকাশ্য স্থানে টানানো, হাটে জেনারেটরের ব্যবস্থা রাখা ও পর্যাপ্ত সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করা।

এদিকে পশুর হাট কেন্দ্রিক নিরাপত্তার পাশাপাশি ঢাকার প্রবেশ ও বাহিরপথে নিরাপত্তা জোরদারের পরিকল্পনা নিয়েছে ডিএমপি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডিএমপির এক কর্মকর্তা বলেন, চামড়া পাচারের আশঙ্কায় ঈদের দিন থেকে পরের ৪-৫ দিন চামড়াবাহী কোনো ট্রাক ঢাকার বাইরে যেতে দেয়া হবে না। তবে বাইরের ট্রাক ঢাকায় ঢুকতে পারবে। এ জন্য ঢাকার ছয়টি বাহির পথে পুলিশের কঠোর নজরদারি থাকবে।

এদিকে পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাবও হাট কেন্দ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। র‌্যাবের লিগ্যাল ও মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান বলেন, গরুর হাটে সাধারণত নগদ টাকার সরবরাহ থাকে। এ ছাড়াও অনেকে জোরপূর্বক এক হাটের গরুর ট্রাক অন্য হাটে নিতে বাধ্য করে, অজ্ঞান ও মলম পার্টির সদস্যরা এ সময় সক্রিয় থাকে। হাটকে কেন্দ্র করে এ ধরনের কোনো ঘটনা যাতে না ঘটে সে বিষয়ে নিরাপত্তা পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে। ঢাকার হাটগুলোতে র্যাবের অস্থায়ী ক্যাম্প বসানো হবে। ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ এন্ট্রি পয়েন্ট, রেলপথ, নৌপথ ও সড়কপথে র্যাব সদস্যরা নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাঠে থাকবে।

আসন্ন ঈদুল আজহায় গাবতলীসহ ২১টি পশুর হাট বসবে। ডিএসসিসির দরপত্র আহ্বান করা ১৩টি কোরবানির পশুর হাটের মধ্যে রয়েছে- খিলগাঁও মেরাদিয়া বাজার, উত্তর শাহজাহানপুর খিলগাঁও রেলগেট বাজারসংলগ্ন মৈত্রী সংঘ মাঠ, আরমানিটোলা খেলার মাঠ ও আশপাশের খালি জায়গা, কমলাপুর স্টেডিয়ামের আশপাশের খালি জায়গা, জিগাতলা হাজারীবাগ মাঠ, রহমতগঞ্জ খেলার মাঠ, ধূপখোলা ইস্ট অ্যান্ড ক্লাব মাঠ, পোস্তাগোলা শ্মশানঘাটসংলগ্ন খালি জায়গা, দনিয়া কলেজ মাঠসংলগ্ন খালি জায়গা, শ্যামপুর বালুর মাঠ, সাদেক হোসেন খোকা মাঠসংলগ্ন ধোলাইখাল ট্রাক টার্মিনাল ও সংলগ্ন খালি জায়গা, ব্রাদার্স ইউনিয়ন সংলগ্ন বালুর মাঠ এবং কামরাঙ্গীরচর ইসলাম চেয়ারম্যানের বাড়ির মোড় থেকে দক্ষিণ দিকে বুড়িগঙ্গা নদীর বাঁধসংলগ্ন জায়গায় হাট বসবে।

এ ছাড়া ডিএনসিসির অস্থায়ী সাতটি পশুর হাটগুলোর মধ্যে রয়েছে, বাড্ডা ইস্টার্ন হাউজিংয়ের (আফতাব নগর) পূর্বপাশের খালি জায়গা, খিলক্ষেত ৩০০ ফুট সড়ক ও দক্ষিণ পাশের বসুন্ধরা প্রাচীরের মধ্যবর্তী খালি জায়গা, ভাটারা (সাইদ নগর), উত্তরা ১৫নং সেক্টরের প্রথম গোল চত্বর সংলগ্ন খালি জায়গা, মিরপুর সেকশন-৬ (ইস্টার্ন হাউজিংয়ের খালি জায়গা), মিরপুর ডিওএইচএস সংলগ্ন উত্তর পাশের সেতু প্রোপার্টি হাউজিংয়ের ফাঁকা জায়গা, মোহাম্মদপুর বুদ্ধিজীবী সড়ক সংলগ্ন (বছিলা) পুলিশ লাইনের খালি জায়গায় অস্থায়ী পশুর হাট বসবে।

এআর/এএইচ/বিএ/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :